গুরুতর ফৌজদারি ধারায় জেলে এক মাসের বেশি বন্দি থাকলেই পদ হারাবেন প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় বা রাজ্য মন্ত্রিসভার মন্ত্রীরা— এই সংক্রান্ত বিলটি গত বছরের অগস্টে সংসদে পেশ করেছিল সরকার। আজ ওই বিল নিয়ে যৌথ সংসদীয় কমিটি (জেপিসি)-র আলোচনায় শাসক দলের সদস্যেরা প্রশ্ন তোলেন, দোষ করলে যদি প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি চলে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তা হলে সংসদের উভয় কক্ষের বিরোধী দলনেতার কুর্সি কেন যাবে না! রাজনীতিকদের একাংশ বলছেন, মূলত লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে নিশানা করতেই বিরোধী দলনেতাদের বিষয়টি এই বিলের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তুলেছেন বিজেপি সাংসদেরা।
আজ জেপিসি-র বৈঠকে বক্তব্য রাখতে উপস্থিত ছিলেন আইন কমিশনের সভাপতি দীনেশ মহেশ্বরী, ন্যাশনাল ল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য জি এস বাজপেয়ীরা। বৈঠকে এক বিজেপি সাংসদ বলেন, ‘‘যদি বিরোধী দলনেতা টানা এক মাসের বেশি সময় ফৌজদারি অপরাধে জেলে বন্দি থাকেন, তা হলে তাঁকে কি পদ ছাড়তে হবে?’’ কংগ্রেস নেতৃত্ব বিজেপির এই দাবির নেপথ্যে রাহুলকে নিশানা করার কৌশলই দেখছেন। আজকের বৈঠকে উপস্থিত এনসিপি নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে, এমআইএম দলের আসাদুদ্দিন ওয়েইসিরা অন্য বিরোধী দলগুলির বক্তব্য যাতে শোনা হয়, সেই দাবি তোলেন। সেই দাবির বিরোধিতা করেন শাসক দলের সাংসদেরা। উল্লেখ্য, কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টির মতো বিরোধী দলগুলির একাংশ এই জেপিসি-তে যোগ দিতে অস্বীকার করেছে।
এ দেশে প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীরা কোনও অভিযোগে অভিযুক্ত হলে পদ যে ছাড়তেই হবে, এমন কোনও নির্দিষ্ট আইন এখনও নেই। অতীতে লালুপ্রসাদ যাদব, জয়ললিতা, হেমন্ত সোরেনের মতো মুখ্যমন্ত্রীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তাঁরা নিজে থেকেই ইস্তফা দিয়েছিলেন। আবার দুর্নীতির অভিযোগে বন্দি হয়েও জেল থেকে প্রায় ছ’মাস মুখ্যমন্ত্রিত্ব চালিয়ে যান অরবিন্দ কেজরীওয়াল। আইনের এই ফাঁক বন্ধ করতেই গত অগস্টে সংবিধান সংশোধনী বিলটি লোকসভায় পেশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিলটির মূল প্রতিপাদ্য হল, যদি প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্যের মন্ত্রীরা ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে টানা ত্রিশ দিন ধরে জেলবন্দি থাকেন এবং সেই মামলায় পাঁচ বছর বা তার বেশি মেয়াদের কারাদণ্ড হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে ৩১ দিনের মাথায় অভিযুক্তকে ইস্তফা দিতে হবে। বিলটি নিয়ে বিরোধীরা আপত্তি জানালে তা আলোচনার জন্য জেপিসি-তে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)