বিধানসভা ভোটে দ্রাবিড় রাজনীতিতে নুতন সমীকরণের জল্পনা চলছে বেশ কিছু দিন ধরেই। সেই আবহে এ বার সহযোগী দল কংগ্রেসকে ‘চূড়ান্ত সময়সীমা’ দিলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা ডিএমকে প্রধান এমকে স্ট্যালিন। এ ক্ষেত্রে তাঁর ‘হাতিয়ার’ রাজ্যসভার আসন্ন নির্বাচন।
এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কেসি বেণুগোপাল শুক্রবার চেন্নাইয়ে স্ট্যালিনের বাসভবনে গিয়ে বৈঠক করেন। ডিএমকের একটি সূত্র জানাচ্ছে, ওই বৈঠকে স্ট্যালিন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, রাজ্যসভা ভোটে আসন পেতে গেলে আগামী ৬ মার্চের মধ্যে বিধানসভা ভোটের আসনরফা চূড়ান্ত করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে কংগ্রেসকে। প্রসঙ্গত, আগামী ১৬ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১০টি রাজ্যের ৩৭টি আসনে ভোটের জন্য বৃহস্পতিবার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যেই মনোনয়ন জমা নেওয়া শুরু হয়েছে। চলবে ৫ মার্চ পর্যন্ত।
তামিলনাড়ুর ছ’টি রাজ্যসভা আসনে এই পর্বে ভোট হবে। পরিষদীয় পাটিগণিতের হিসাবে তার মধ্যে অন্তত চারটিতে ‘ইন্ডিয়া’র জেতার সম্ভাবনা। কিন্তু সহযোগী ডিএমকের সাহায্য ছাড়া ১৭ বিধায়কের দল কংগ্রেস একক ভাবে কোনও আসনে জিততে পারবে না। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েই স্ট্যালিন চাপ বাড়িয়েছেন রাহুল গান্ধী-মল্লিকার্জুন খড়্গের দলের উপর। দক্ষিণ ভারতের ওই রাজ্যে বিজেপি-বিরোধী দুই দল ডিএমকে এবং কংগ্রেসের মধ্যে আসন্ন বিধানসভা ভোটে (পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গেই তামিলনাড়ুতেও এপ্রিল-মে মাসে বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা) আসনরফা নিয়ে টানাপড়েনের আঁচ মিলছে বেশ কিছু দিন থেকেই। এমনকি, দু’দশকের পুরনো সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা চলছে!
প্রকাশিত কয়েকটি খবরে দাবি, ২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় কংগ্রেসকে মাত্র ৩২টি আসন ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের দল। পাশাপাশি, ভোট পরবর্তী ক্ষমতা ভাগাভাগির (নতুন মন্ত্রিসভায় কংগ্রেস বিধায়কদের অন্তর্ভুক্তি) দাবিও খারিজ করে দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে তামিলনাড়ুর কংগ্রেস নেতাদের বড় অংশই ডিএমকে-র সঙ্গ ছেড়ে চিত্রতারকা ‘থলপতি’ বিজয়ের নতুন দল তামিলাগা ভেটরি কাজ়াগম (টিভিকে)-এর সঙ্গে জোট গড়ার চেষ্টা শুরু করেছেন। সম্প্রতি রাহুল ‘থলপতি’র শেষ ছবি ‘জন নায়গন’-এর মুক্তি আটকানোর চেষ্টাকে তামিল সংস্কৃতির উপরে আক্রমণ বলে অভিযোগ তোলায় সেই জল্পনা আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যসভা ভোটকে ‘হাতিয়ার’ করে স্ট্যালিনের চাপের রাজনীতির কৌশল কার্যকরী হতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।
আরও পড়ুন:
স্ট্যালিনের পিতা তথা তামিলনাড়ুর প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম করুণানিধি ২০১১-র বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসকে ৬৩ আসন ছেড়েছিলেন। তার পর থেকে ধারাবাহিক ভাবে রাহুল গান্ধীর দলের বরাদ্দ আসনে কোপ পড়েছে। ২০১৬ সালে ‘হাত’ প্রতীকের জন্য করুণানিধি বরাদ্দ করেছিলেন ৪১টি আসন। স্ট্যালিন দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২১-এ ছেড়েছিলেন ২৫টি। তামিলনাডুর কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের হিসাব বলছে অন্তত ৪০টি আসনে জেতার মতো অবস্থায় রয়েছে দল। কোনও অবস্থাতেই তাঁরা ৩৮টির কম আসনে লড়তে নারাজ। এই পরিস্থিতিতে ‘রাহুল-ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত কংগ্রেসের ডেটা অ্যানালিটিক্স গোষ্ঠীর প্রধান প্রবীণ চক্রবর্তী সম্প্রতি বিজয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর পরেই টিভিকের তরফে রাহুলের রাজনীতির তারিফ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘‘রাহুল গান্ধী এবং থলপতি পরস্পরের বন্ধু। তাঁরাই জোটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’’