বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের। বুধবার সকালে বারামতী বিমানবন্দরে অবতরণ করার সময় ভেঙে পড়ে অজিতের বিমান। ভেঙে পড়ার পরেই আগুন ধরে যায় ওই ব্যক্তিগত বিমানে। মৃত্যু হয় অজিত-সহ বিমানে থাকা মোট পাঁচ জনের। পুড়ে যাওয়া দেহগুলি কার, তা প্রথমে বোঝা যাচ্ছিল না। শেষমেশ হাতঘড়ি এবং পোশাক দেখে অজিতের দেহ শনাক্ত করা হয়।
বুধবার মুম্বই থেকে বারামতী যাচ্ছিলেন অজিত। লিয়ারজেট ৪৫ মডেল-এর ‘ভিটি-এসএসকে’ বিমানে সফর করছিলেন তিনি। বারামতী বিমানবন্দরে অবতরণ করার সময় বিমানটি ভেঙে পড়ে। তার পরেই আগুন ধরে যায় সেটিতে। বিমানের যাত্রাপথ পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরেডার ২৪’ জানিয়েছে, আছড়ে পড়ার আগে আরও এক বার অবতরণের চেষ্টা করেছিল মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের বিমান। দ্বিতীয় বারের চেষ্টার সময়ে ভেঙে পড়ে লিয়ারজেট ৪৫। বারামতী বিমানবন্দরের ম্যানেজার শিবাজি তাওয়াড়ে জানান, অবতরণের সময়ে রানওয়ের একটি ধারে ভেঙে পড়ে লিয়ারজেট ৪৫। মাটিতে আছড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায় তাতে।
আরও পড়ুন:
কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, সেই সময় বারামতী বিমানবন্দর এবং সংলগ্ন এলাকায় ঘন কুয়াশা ছিল। ফলে দৃশ্যমানতাও কম ছিল। সেই কারণে দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। দৃশ্যমানতা কম থাকার কথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী কে রামমোহন নায়ডুও। তিনি বলেন, “ডিজিসিএ (দেশের উড়ান নিয়ন্ত্রক সংস্থা) এবং এএআইবি (বিমান দুর্ঘটনার তদন্তকারী সংস্থা) দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বিমানটি অবতরণ করার সময় দৃশ্যমানতা কম ছিল।”
বিমানমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রথম বার অবতরণ করার সময় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি)-এর তরফে বিমানটির পাইলটকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, রানওয়ে দেখা যাচ্ছে কি না। জবাবে পাইলটের তরফে নেতিবাচক উত্তর আসে। বিমানটি আর এক চক্কর কেটে দ্বিতীয় বার অবতরণ করার চেষ্টা করে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, দ্বিতীয় বার একই প্রশ্নের উত্তরে ইতিবাচক উত্তর দিয়েছিলেন পাইলট। তার পরেই বিমানটিকে অবতরণ করার অনুমতি দেওয়া হয়। দ্বিতীয় বারের চেষ্টায় অবতরণ করার সময়েই ভেঙে পড়ে বিমানটি।