Advertisement
E-Paper

গোমূত্র দিয়ে ক্যানসার সারে কি, জানতে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ! কোথায় গেল সেই সরকারি অর্থ? জমা পড়ল রিপোর্ট

গবেষণা শুরু হয়েছিল ২০১১ সালে। উদ্দেশ্য ছিল গোবর, গোমূত্র বা গরুর দুধের মিশ্রণে তৈরি কোনও বস্তুকে কোনও ভাবে ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহার করা যায় কি না, তা বিশ্লেষণ করা। তাতে সরকারি অর্থসাহায্যও মিলেছিল।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:২৪
মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহানের আমলে ২০১১ সালে জব্বলপুরের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা শুরু হয়।

মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহানের আমলে ২০১১ সালে জব্বলপুরের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা শুরু হয়। — ফাইল চিত্র।

গরুর দুধ, গোমূত্র বা গোবরকে কোনও ভাবে ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহার করা যায় কি না, তা নিয়ে গবেষণা শুরু হয়েছিল মধ্যপ্রদেশে। সরকারি সহায়তাও গবেষণা চলছিল। মধ্যপ্রদেশ সরকার সাড়ে তিন কোটি টাকাও ঢেলেছিল ওই গবেষণায়। কিন্তু কোথায় গেল সেই টাকা? গবেষণার নামে সরকারি সহায়তার টাকায় অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। ওই টাকা কোথায় কোথায় খরচ হয়েছে, তা নিয়ে তদন্তও শুরু হয়েছে।

গবেষণা শুরু হয়েছিল ২০১১ সালে। তখন মধ্যপ্রদেশে বিজেপি সরকারের নেতৃত্বে ছিলেন শিবরাজ সিংহ চৌহান। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। গবেষণাটি চালাচ্ছিল জব্বলপুরের নানাজি দেশমুখ পশু বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়। গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল গোবর, গোমূত্র বা গরুর দুধের মিশ্রণে তৈরি কোনও বস্তুকে কোনও ভাবে ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহার করা যায় কি না, তা বিশ্লেষণ করা। এই গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক ভাবে প্রায় আট কোটি টাকা সাহায্য চেয়েছিল। যদিও মধ্যপ্রদেশ সরকার এর জন্য সাড়ে তিন কোটি টাকার অনুদানেই অনুমোদন দেয়।

তবে এই গবেষণার টাকা কোথায় খরচ হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জেলা প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে একটি অভিযোগও জমা পড়ে। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ অনুসারে, ওই অভিযোগ পাওয়ার পরে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন বিভাগীয় কমিশনার। পরবর্তী সময়ে এক অতিরিক্ত জেলাশাসকের নেতৃত্বে একটি অনুসন্ধানকারী দল গঠন করেন জব্বলপুরের জেলাশাসক। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ওই বরাদ্দ হওয়া টাকা কোথায় খরচ হয়েছে, তা যাচাই করে দেখা শুরু হয়। সম্প্রতি ওই অনুসন্ধানকারী দল একটি রিপোর্ট জমা দেয় জেলাশাসকের কাছে। রিপোর্টে কী উল্লেখ রয়েছে, তা এখনও প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। তবে সূত্রের দাবি, অনুসন্ধানকারী দল বেশ কিছু খাতে খরচ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। কিছু ক্ষেত্রে বাজারদরের তুলনায় অনেকটা বেশি খরচ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি এমন কিছু কাজেরও খরচ হয়েছে, যার সঙ্গে গবেষণার কোনও সম্পর্ক নেই বলেই প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১১ সাল থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে গোবর, গোমূত্র, সংরক্ষণের পাত্র, বিভিন্ন কাঁচামাল এবং যন্ত্রপাতির মতো কিছু সাধারণ জিনিসপত্র কিনতেই প্রায় ১ কোটি ৯২ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। ওই সময়ের বাজারদরে এই জিনিসগুলির জন্য ১৫-২০ লক্ষ টাকার বেশি খরচ হওয়ার কথা নয় বলেই মনে করছেন অনুসন্ধানকারীরা। এই গবেষণার জন্য বিভিন্ন শহরে বিমানভ্রমণও করা হয়েছে। প্রায় ২৩-২৪ বার বিমানে ভ্রমণ হয়েছে। সূত্রের দাবি, এই ধরনের ভ্রমণের প্রয়োজনীয় এবং যৌক্তিকতা নিয়েও সংশয় রয়েছে অনুসন্ধানকারীদের। রিপোর্টে প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ টাকার একটি গাড়ি কেনার কথাও উল্লেখ রয়েছে। দাবি করা হচ্ছে সেটি মূল অনুমোদিত বাজেটে উল্লেখ ছিল না।

জব্বলপুরের অতিরিক্ত জেলাশাসক রঘুবর মারাভি বলেন, “জেলাশাসক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় ওই গবেষণার জন্য আট কোটি টাকা চেয়েছিল। সাড়ে তিন কোটি টাকা মঞ্জুর করা হয়েছিল।” তিনি আরও জানান, এমন বেশ কিছু কেনাকাটির কথা উঠে এসেছে যা গবেষণার বাজেটে অনুমোদিত ছিল না। পাশাপাশি কৃষকদের কিছু প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল বিভিন্ন নথিতে। কিন্তু কী ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, তার কোনও উল্লেখ পাওয়া যায়নি তাতে। রিপোর্টে সে কথাও জানানো হয়েছে।

যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, নিয়ম মেনেই গবেষণার সব কাজ চলেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এসএস তোমরের কথায়, “২০১২ সাল থেকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ভাবে এবং নিয়ম মেনে গবেষণা চলছে। মেশিন বা গাড়ি যা-ই কেনা হোক না কেন, সবটাই হয়েছে দরপত্র ডেকে। সরকারি নিয়ম মেনেই কাজ হয়েছে। কোথাও কোনও দুর্নীতি হয়নি।” তিনি আরও জানান, “একটি তদন্ত কমিটি এসেছিল। আমরা সকল নথিপত্র তাদের দিয়ে দিয়েছি। কর্তৃপক্ষ কোনও তথ্য গোপন করেনি।”

Madhya Pradesh Cow Dung Cow Urine
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy