অনুকল্প মিশ্র এবং তাঁর শ্যালক লবকুশ মিশ্র। অযোধ্যার রামমন্দিরের প্রণামী চুরির ঘটনায় যে আটজন গ্রেফতার হয়েছেন, তাঁদের অন্যতম এই দু’জন। কয়েক বছর আগেও মিশ্র পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ‘সুখকর’ ছিল না। তবে সেই ছবি এখন সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। ফুলেফেঁপে উঠেছে বৈভব। গাড়ি হয়েছে। বানিয়েছে ফার্ম হাউসও। হঠাৎ করে এই ফুলেফেঁপে ওঠা সম্পত্তির উৎস কী, তা নিয়েও ইতিমধ্যে প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে।
অযোধ্যার বাসব গ্রামে বাড়ি মিশ্র পরিবারের। বাড়িতে পরিবারের আর্থিক বৈভবের ছাপ স্পষ্ট। বাইরে থেকে দেখে গ্রামের অন্য বাড়িগুলির তুলনায় এটিকে বিলাসবহুল বলেই মনে হয়। অনুকল্প এবং লবকুশের গ্রেফতারির পর বিস্মিত তাঁর প্রতিবেশীরাও। গ্রামবাসীদের অনেকেই মিশ্র পরিবারের আর্থিক শ্রীবৃদ্ধির অস্বাভাবিক গতির কথা তুলে ধরেছেন। প্রতিবেশীদের দাবি, অনুকল্পদের আর্থিক অবস্থা সম্প্রতি নাটকীয় ভাবে বদলে গিয়েছে। তাঁদের অনেকেই বলছেন, কিছু দিন আগেও মিশ্র পরিবার ‘চরম’ আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে ছিল। কিন্তু এখন ওই পরিবারে কোনও কিছুরই অভাব নেই। আবার এলাকায় কারও কারও কাছে ‘ভাল ছেলে’ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন অনুকল্প। সেই অনুকল্পের বিরুদ্ধে প্রণামী চুরির অভিযোগ শুনে বিস্মিত তাঁরাও।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, সম্প্রতি গ্রামের কাছে একটি ফার্ম হাউস বানিয়েছেন অনুকল্প। গত বছর অযোধ্যা শহরেও একটি বাড়ি কেনেন তিনি। এলাকাবাসীদের কথায়, সেটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা। একটি গাড়িও রয়েছে তাঁর। এ ছাড়া সম্প্রতি আরও একটি এসইউভি গাড়ি বুক করেছেন অনুকল্প।
আরও পড়ুন:
তাঁর গ্রেফতারির পরে অনুকল্পের ঠাকুরদা রাজেন্দ্রপ্রসাদ মিশ্রের সঙ্গে কথা বলে এনডিটিভি। তিনি জানান, অনুকল্পের বাবা পেশায় ব্যবসায়ী। জমিবাড়ি কেনাবেচার ব্যবসা রয়েছে তাঁর। কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন তিনি। রাজেন্দ্র আরও জানান, গ্রামে গত ৩০ এপ্রিল থেকে সাত দিনের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করেছিলেন অনুকল্প। তবে রামমন্দিরের প্রণামী চুরির ঘটনায় নাতির নাম জড়ানো নিয়ে কিছুই জানেন না তিনি।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, ধৃত অনুকল্প একটি ব্যাঙ্কে চুক্তিভিত্তিক কর্মী ছিলেন। সেখান থেকেই তিনি যোগ দেন রামমন্দিরের প্রণামীর টাকা গণনার কাজে। পরে নিজের শ্যালক লবকুশকেও এই কাজে নিয়ে আসেন অনুকল্প। গ্রেফতারির পর অনুকল্প, লবকুশ-সহ আট অভিযুক্তেরই সম্পত্তির হিসেবনিকেশ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
উল্লেখ্য, রামমন্দিরের প্রণামী চুরির তদন্তে সিবিআইয়ের নেতৃত্বে বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থাকে নিয়ে একটি সিট গঠনের আর্জিতে মামলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। সোমবার ওই মামলার দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হয়। তবে দ্রুত শুনানির আর্জি খারিজ করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত।