ককবরক ভাষার সম্প্রচার বন্ধ করে, সেই জায়গায় হিন্দি খবর সম্প্রচারের প্রস্তাব গ্রহণ করল ত্রিপুরা সরকার। রাজ্যের ভারপ্রাপ্ত তথ্য অধিকর্তার নেতৃত্বে তথ্য দফতরের ‘সার্কুলেশন কমিটি’র বৈঠকে গৃহীত এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, হিন্দি খবর চালু করলে এক দিকে যেমন জাতীয়তাবাদকে ছড়িয়ে দেওয়া যাবে, তেমনই ত্রিপুরায় বসবাসকারী ভিন রাজ্যের বাসিন্দাদেরও খবর জানতে সুবিধা হবে। এই প্রস্তাব ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
সদ্য ক্ষমতায় আসা বিজেপি সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছেন বিরোধী নেতারা। তাঁদের বক্তব্য, এটা আরএসএস এবং বিজেপির ‘হিন্দি আগ্রাসন’ অভিযানেরই নমুনা মাত্র। ত্রিপুরার স্বীকৃত ভাষা ‘ককবরক’। রাজ্যের এক তৃতীয়াংশ মানুষ এই ভাষায় কথা বলেন। কংগ্রেসের জনজাতি সংগঠনের চেয়ারম্যান সচিত্র দেববর্মা বলেন, ‘‘হিন্দি নিয়ে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু ককবরককে সরিয়ে হিন্দি চালু করার প্রস্তাবেই আপত্তি।’’ সিপিএম আপাতত প্রকাশ্যে কিছু না বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলের মুখপাত্র গৌতম দাস জানান, ‘‘রাজ্য সম্পাদকের সাংবাদিক বৈঠকেই যা বলার বলা হবে।’’
তথ্য দফতরের ‘সার্কুলেশন কমিটি’র ওই বৈঠকে রাজ্যের কয়েকটি টিভি চ্যানেলের ‘গ্রেড’ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বস্তুত মুখ্যমন্ত্রীর অতিরিক্ত সচিব ওই কমিটির কাছে কিছু চ্যানেলকে সরকারি বিজ্ঞাপন তালিকায় নিয়ে আসার সুপারিশ করেন। তা ‘বিবেচনা’ করে সার্কুলেশন কমিটি ‘সর্বসম্মত ভাবে’ তিনটি চ্যানেলকে উচ্চ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করেন। কিছু কেবল চ্যানেল, যেগুলি কোনও তালিকাতেই ছিল না, সেগুলিকে তালিকাভুক্ত করা হয়। সিপিএম জমানায় যারা ‘এ’ বা ‘বি’ শ্রেণিভুক্ত ছিল, তাদের অবনমনের প্রক্রিয়ায়ও শুরু করা হয়েছে। তৈরি করা হবে সরকারের নতুন বিজ্ঞাপন নীতিও। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ‘এ’ এবং ‘বি’ শ্রেণিভুক্ত চ্যানেলের মালিকদের ‘সাংবাদিক’ হতেই হবে। সাংবাদিকতাই তাঁদের মুখ্য পেশা, এটা লিখিত জানাতে হবে তাঁদের।