সিয়া গোয়ল তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরীর চ্যাটে রয়েছেন অনেক ‘সাংকেতিক শব্দ’। পুণের ব্যবসায়ীপুত্র কেতন অগ্রবাল খুনের সঙ্গে সেই ‘শব্দবন্ধ’গুলির কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাই এখন ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারির সময় দু’টি ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। শুক্রবার আরও একটি মোবাইলের হদিস মিলেছে।
তদন্তকারী দলে থাকা পুলিশ আধিকারিক মনোজ পওয়ার জানান, তদন্তে জানা গিয়েছে সিয়া এবং চেতন নিজেদের মধ্যে সাংকেতিক শব্দ ব্যবহার করে কথোপকথোন চালাতেন। সেই সব সাংকেতিক শব্দের অর্থ এখনও উদ্ধার হয়নি। তবে পুলিশ এ ব্যাপারে নিঃসন্দেহ যে, কিছু গোপন করতেই নিজেদের মধ্যে এ ভাবে কথা বলতেন সিয়া এবং চেতন।
পুলিশ ইতিমধ্যেই আদালতে জানিয়েছে, সিয়া এবং চেতনকে গ্রেফতারের পর প্রাথমিক পর্যায়ে দু’জনের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এ বার সিয়ার দ্বিতীয় একটি মোবাইলও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। বাজেয়াপ্ত হওয়া মোবাইলটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। সরকার পক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, বাজেয়াপ্ত হওয়া ফোনগুলির তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে দু’জনকে নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন তদন্তকারীরা। পুলিশের দাবি, চ্যাটে ব্যবহৃত সাংকেতিক শব্দগুলির প্রকৃত অর্থ সিয়া এবং চেতনই ব্যাখ্যা করতে পারবেন। সেই কারণে দু’জনকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আদালতের কাছে অতিরিক্ত সময় চেয়েছে পুলিশ। যদিও আদালত পুলিশের আবেদন খারিজ করেছে। দুই অভিযুক্তকেই জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
আরও পড়ুন:
কেতন হত্যাকাণ্ডের রহস্যভেদে পুলিশের কাছে এখন অন্যতম হাতিয়ার সিয়া, চেতনের ফোন চ্যাট। পুলিশের মতে, কেতনের মৃত্যুর আগে এবং পরে, সিয়া ও চেতনের মধ্যে মোবাইলের চ্যাটে কী কী কথা হয়েছে, তা মুছে ফেলা হয়েছে। এমনকি ফোনের ‘রিসাইকেল বিন’ও খালি করে দেওয়া হয়েছে। সেই চ্যাট পুনরুদ্ধার করতে মোবাইল দু’টিকে ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, সেই চ্যাট উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। তবে তাতে কিছু সাংকেতিক শব্দের ব্যবহার লক্ষ্য করা গিয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ১৮ জুন লোণাবলায় লোহাগড় দুর্গ থেকে ঠেলে ফেলে কেতনকে খুনের অভিযোগ উঠেছে সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক চেতনের বিরুদ্ধে।