‘স্যর, মে আই সি ইউ প্লিজ়?’
‘স্যর, আমি কি আপনার দর্শন পেতে পারি?’—প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী না কি এ ভাবেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই নতুন দাবি রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী শিবিরের হাতে নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে নতুন অস্ত্র তুলে দিল। ট্রাম্পের বক্তব্যকে হাতিয়ার করে বুধবার বিরোধী শিবির ফের অভিযোগ তুলেছে, মোদী সরকার ট্রাম্পের সামনে মাথা নত করে ফেলেছে। ট্রাম্পের ভয়েই মোদী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুর’ থামিয়ে দিচ্ছেন, রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমিয়ে দিচ্ছেন, ভেনেজ়ুয়েলার ঘটনা নিয়েও নিন্দা করতে পারছেন না।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী আজ মোদীকে কটাক্ষ করে এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘‘ফারাক বুঝতে হবে স্যরজি!’’ রাহুল নিজেরই পুরনো বক্তৃতা তুলে ধরে বলেছেন, ১৯৭১ সালে আমেরিকা রণতরী পাঠালেও সেই চাপের সামনে ইন্দিরা গান্ধী মাথা নোয়াননি। পূর্ব পাকিস্তানে সেনা অভিযান করেছিলেন। এখন ট্রাম্প ফোন করে ‘নরেন্দর, সারেন্ডার’ বললেই প্রধানমন্ত্রী ‘জি হুজুর’ বলে আদেশ পালন করেন। রাহুলের বক্তব্য, বিজেপি-আরএসএসের লোকেদের চরিত্রই হল একটু চাপ এলে ভয়ে পালিয়ে যাওয়া।
বিরোধীরা ট্রাম্পের নতুন মন্তব্যকে হাতিয়ার করে প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করলেও এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতর বা বিদেশ মন্ত্রক টুঁ শব্দ করেনি। ডোনাল্ড ট্রাম্প দু’দিন আগে ভারতের উপরে ফের শুল্ক বাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মোদী তাঁকে ‘আমার বন্ধু’ বললেও ট্রাম্প ভারতের উপরে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করার জন্য ৫০ শতাংশ শুল্ক-জরিমানা চাপিয়ে রেখেছেন। তার আগে দাবি করেছেন, তাঁর কথাতেই নরেন্দ্র মোদী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সেনা অভিযান বন্ধ করে দিয়েছিলেন। মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেছেন, ‘‘ভারত আমেরিকার থেকে ৬৮টি অ্যাপাচে হেলিকপ্টার কেনার বরাত দিয়েছিল। কিন্তু পাঁচ বছর হয়ে গেলেও হাতে মেলেনি। প্রধানমন্ত্রী মোদী আমার কাছে এসে বলেন, ‘স্যর, আমি কি আপনার দর্শন পেতে পারি?’ আমি বলি, হ্যাঁ। আমার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ভাল সম্পর্ক। তবে উনি খুশি নন। কারণ ভারত চড়া শুল্ক দিচ্ছে। তবে এখন ওরা রাশিয়া থেকেতেল কেনা অনেকখানি কমিয়ে দিয়েছে। আমরা শুল্কের টাকায় বড়লোক হচ্ছি।’’
বিরোধীদের প্রশ্ন, মোদী সরকার কেন ট্রাম্পের কথায় চলছে? কেন ভেনেজ়ুয়েলার ঘটনার নিন্দা করতে পারছে না? বিদেশ মন্ত্রক ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আমেরিকার পদক্ষেপের নিন্দা না করে শুধু উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। আজ বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ফের এ নিয়ে শুধু উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘‘আজ বিভিন্ন রাষ্ট্র নিজের স্বার্থে কাজ করে। কিন্তু বিনামূল্যে পরামর্শ দিতে চায়। অপারেশন সিঁদুরের সময় অনেক দেশ বলেছিল, তারা উদ্বিগ্ন। সত্যি? তা হলে ওরা নিজের অঞ্চলের দিকে দেখে না কেন, যা নিয়ে আমাদের উদ্বেগ হয়?”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)