কর্নাটকে মসৃণ ভাবে কংগ্রেস সরকারের নেতৃত্ব বদলের পরে রাহুল গান্ধীর পাখির চোখ রাজস্থান, পঞ্জাব, উত্তরাখণ্ড এবং উত্তরপ্রদেশ। ভোটমুখী এই চার রাজ্যে প্রদেশ কংগ্রেসের নেতৃত্বে সমন্বয়ের অভাব কাটাতে চাইছেন দলের হাইকমান্ড। সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটিতেও সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে বেশ কিছু রদবদল হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যে এআইসিসি-র পর্যবেক্ষক পদে আনা হতে পারেনতুন মুখ।
কংগ্রেস সূত্রের খবর, রাহুল গান্ধী ও সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের মধ্যে গত কয়েক দিনে আলোচনার ভিত্তিতে ঠিক হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ, পঞ্জাব, রাজস্থান, উত্তরাখণ্ড, বিহার, ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, অসম, গুজরাতে সাংগঠনিক রদবদল হবে। কিছু রাজ্যে এআইসিসি-র পর্যবেক্ষক বদল হবে। কিছু রাজ্যে নতুন মুখ আনা হবে প্রদেশ সভাপতি পদে। গোয়ায় আজই প্রদেশ সভাপতি বদল হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সিদ্দারামাইয়া ‘রাহুল গান্ধীর ইচ্ছে অনুযায়ী’ কর্নাটকের কংগ্রেস সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। শুক্রবার রাজ্যপাল তাঁর ইস্তফা গ্রহণ করেন। রাজ্যের মন্ত্রিসভাও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। শনিবার বিকেলে বেঙ্গালুরুতে কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের বৈঠক। কংগ্রেস নেতৃত্বের পরিকল্পনা অনুযায়ী সব কিছু চললে, সেখানে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ডি কে শিবকুমারকে পরিষদীয় দলনেতা তথা পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হবে। সিদ্দারামাইয়া, শিবকুমার শুক্রবার দিল্লিতে মল্লিকার্জুন খড়্গে, রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে ২০২৮-এ কর্নাটক বিধানসভা ভোটকে পাখির চোখ করে সামাজিক সমীকরণ ও নতুন মুখের ভারসাম্য রেখে মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শুধু সিদ্দারামাইয়ার নতুন ভূমিকা স্পষ্ট হয়নি। সিদ্দা রাজ্যসভায় যেতে আগ্রহী নন।
সিদ্দারামাইয়া বৃহস্পতিবার বিকেলেই বেঙ্গালুরু থেকে দিল্লি রওনা হন। খারাপ আবহাওয়ার কারণে তাঁর বিশেষ বিমান দিল্লির বদলে রাজস্থানের জয়পুরে নামে। বিমানবন্দরে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন রাজস্থানের কংগ্রেস নেতা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গহলৌত। ২০২৩-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে যাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি করতে চেয়েছিলেন সনিয়া গান্ধী। কিন্তু গহলৌত সচিন পাইলটকে মুখ্যমন্ত্রীর গদি ছাড়তে রাজি হননি। পরিণতি, কংগ্রেস রাজস্থানের ভোটে হারে। গহলৌতের কংগ্রেস সভাপতির পদও হাতছাড়া হয়।
কর্নাটকের মতো ২০২৮-এ রাজস্থানেও বিধানসভা ভোট। কংগ্রেস সূত্রের খবর, সেখানেও সচিনকে মুখ করে ভোটে যাওয়ার ঘুঁটি সাজাচ্ছেন রাহুল। আগামী বছর পঞ্জাব, উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশে ভোট। পঞ্জাবের প্রদেশ কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে কংগ্রেস হাইকমান্ড শুক্রবারই বৈঠকে বসেছে। প্রদেশ সভাপতি অমরিন্দর সিংহ রাজা ওয়ারিং ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিংহ চন্নীর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব মেটাতে চাইছে কংগ্রেস। উত্তরাখণ্ডেও প্রবীণ নেতা হরিশ রাওয়াতের সঙ্গে বাকিদের দ্বন্দ্ব মেটানো বাকি। উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে বোঝাপড়া নিয়ে কংগ্রেসের একেক নেতার একেক অবস্থান। সেই জট কাটানোর রাস্তা খোঁজা হচ্ছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)