বিমান ভেঙে তাঁর ভাইপো অজিত পওয়ার মৃত্যু নিছকই দুর্ঘটনা। বুধবার রাতে প্রথম প্রতিক্রিয়ায় এ কথা জানালেন এনসিপির প্রতিষ্ঠাতা শরদ পওয়ার। এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তদন্তের দাবির কার্যত বিরোধিতা করে শরদ বলেন, ‘‘কলকাতা থেকে একটি প্রতিক্রিয়ায় দাবি করা হয়েছে যে এই ঘটনায় কিছু রাজনীতি জড়িত। কিন্তু এ রকম কিছুই নেই। এতে কোনও রাজনীতি নেই। এটি একটি দুর্ঘটনা। আমি এতে রাজনীতি না আনার অনুরোধ করছি।’’
বুধবার সকাল ৮টা ১০ মিনিট নাগাদ মুম্বই বিমানবন্দর থেকে রওনা দিয়েছিল মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি প্রধান অজিতের বিমান। লিয়ারজেট-৪৫ সংস্থার ছোট আকারের ব্যক্তিগত ওই বিমানে (প্রাইভেট জেট) আট থেকে ন’জনের বসার জায়গা রয়েছে। বিমানটি ভেঙে পড়ে ৮টা ৪৩ মিনিট নাগাদ, ওড়ার ঠিক ৩৩ মিনিট পর বারামতী বিমানন্দরের কাছে। দুর্ঘটনায় অজিত-সহ বিমানে থাকা পাঁচ জনেরই মৃত্যু হয়। বিমানের গতিবিধিতে নজরদারি চালায় এমন কিছু সংস্থার তথ্য বলছে, ওড়ার ২৪ মিনিটের মাথায় অজিতের বিমানটি আচমকা সঙ্কেত পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছিল। যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ইতিমধ্যেই। মমতার পাশাপাশি কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গেও ঘটনার তদন্তের দাবি তুলেছেন বুধবার।
অজিতের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসার পর পরই নিজের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে শোকপ্রকাশ করেন মমতা। তিনি জানান, অজিতের আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর ভাবে মর্মাহত। শেষে তিনি লেখেন, ‘‘বিমান দুর্ঘটনার সঠিক তদন্ত হওয়া উচিত।’’ একই সঙ্গে পওয়ার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি। মমতা বলেন, ‘‘এ দেশে কোনও মানুষের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা নেই। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও বাদ নেই।’’ অজিতের ‘ঘর বদলের’ সম্ভাবনা নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনা নিয়ে মতপ্রকাশ করেন মমতা। তাঁর দাবি, ‘‘আমি শুনেছিলাম কোনও এক দলের নেতা দাবি করেছিলেন অজিত বিজেপির সঙ্গে ছাড়তে চলেছেন। তার পরে আজ এই ঘটনা ঘটল। আমি চাই, সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে গোটা ঘটনার তদন্ত হোক।’’ ভাইপোর মৃত্যুকে ‘মহারাষ্ট্রের জন্য একটি বড় ধাক্কা’ বলে চিহ্নিত করে শরদ বলেন, ‘‘আমরা একজন পরিশ্রমী এবং দক্ষ নেতাকে হারিয়েছি। এই ক্ষতি অপূরণীয়। সবকিছু আমাদের হাতে নেই।’’