Advertisement
E-Paper

মেঘালয় মধুচন্দ্রিমা হত্যাকাণ্ড: রাজা রঘুবংশী খুনে অভিযুক্ত স্ত্রী সোনমের স্বস্তি! জামিন বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্টও

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, সোনমের বিরুদ্ধে অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। মেঘালয় পুলিশ তাঁর জামিনের কেন বিরোধিতা করছে, সেটাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬ ১৩:২৫
রাজা এবং সোনম রঘুবংশী। ফাইল চিত্র।

রাজা এবং সোনম রঘুবংশী। ফাইল চিত্র।

মধ্যপ্রদেশের ইনদওরের যুবক রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত স্ত্রী সোনমের জামিন বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। ফলে আপাতত তিনি জেলের বাইরেই থাকছেন। স্বস্তি মিলল সোনমেরও। মেঘালয় হাই কোর্ট সম্প্রতি তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছিল। কিন্তু আদালতের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় মেঘালয় সরকার। শীর্ষ আদালতে রাজ্য সরকার সোনমের জামিনের বিরোধিতা করে পাল্টা আবেদন করে। দ্রুত শুনানির আবেদনও জানানো হয়। শুক্রবার সেই মামলার শুনানি ছিল। তবে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, মেঘালয় হাই কোর্টের রায়ই বহাল থাকবে।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, সোনমের বিরুদ্ধে অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। মেঘালয় পুলিশ তাঁর জামিনের কেন বিরোধিতা করছে, সেটাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কিন্তু যখন জানানো হয়, সোনম জামিনে মুক্ত, তখন শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, এই মামলায় তারা হস্তক্ষেপ করতে চায় না। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘‘যদি তাঁকে ইতিমধ্যে মুক্তি দেওয়া হয়ে থাকে, তা হলে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করব না।’’ তবে সোনমের জামিনের উপর স্থগিতাদেশ দিতে চেয়েছিল আদালত। কিন্তু তাঁর মুক্তির বিষয়টি জানার পরই হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি তারা।

মেঘালয় সরকারের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। আদালতে তিনি দাবি করেন, এর আগেও দু’বার সোনমের জামিন খারিজ করা হয়েছে। তার পর গত এপ্রিলে তাঁর জামিন মঞ্জুর করে মেঘালয় হাই কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, কিসের ভিত্তিতে সোনমকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তার নথি কেন দেয়নি পুলিশ এবং গোটা বিষয়টি তাঁকে অবহিত করা হয়নি কেন। আর সেই প্রশ্ন তুলে অভিযুক্তের জামিন মঞ্জুর করে হাই কোর্ট। তখন মেহতা আদালতে জানান, মামলার ধারায় তথ্যের ভুলে এই জামিন দেওয়া হয়।

শুনানির সময় সোনমের আইনজীবী অভিযোগ তোলেন, তাঁর মক্কেলকে কোনও রকম আইনি সহায়তা দেওয়া হয়নি গ্রেফতারির সময়। এমনকি যখন তাঁকে পুলিশ ট্রানজ়িট রিমান্ডে নেয়, তখনও কোনও আইনি সহায়তার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাঁর আরও দাবি, কিসের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছিল, সেটাও তাঁর মক্কেলকে জানানো হয়নি। তাঁকে সাদা কাগজ ধরানো হয়েছিল। তখন সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন তোলে, এই সব কথা আগে কেন জানানো হয়নি।

গত বছরের মে মাসে রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ড গোটা দেশে শোরগোল ফেলে গিয়েছিল। তাঁকে মেঘালয়ে মধুচন্দ্রিমায় নিয়ে গিয়ে খুন করার অভিযোগ ওঠে স্ত্রী সোনম এবং তাঁর প্রেমিকের বিরুদ্ধে। গত এপ্রিলে সোনমের জামিন মঞ্জুর করে মেঘালয় আদালত। সূত্রের খবর, পুলিশের সামান্য ‘প্রক্রিয়াগত ত্রুটি’ ছিল গ্রেফতারি মেমোতে। সোনমকে গ্রেফতার করার সময় পুলিশ যে গ্রেফতারি মেমো দিয়েছিল, তাতে লেখা হয়েছিল ৪০৩ (১) ধারার কথা। উল্লেখ্য, ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় (বিএনএস) ওই ধারার কোনও অস্তিত্বই নেই। ২০২৪ সালে ভারতীয় দণ্ডবিধি ধারার পরিবর্তে বিএনএস চালু করে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই আইনে ৪০৩ (১) ধারার কোনও উল্লেখ নেই। সেখানে খুনের মামলার ধারাটি ১০৩ (১)। মনে করা হচ্ছে, ওই মেমো যিনি লিখেছিলেন তিনি ১০৩ (১)-র বদলে ৪০৩ (১) ধারা লিখে ফেলেন। ভুলবশত ১ হয়ে যায় ৪! আদালত তার নির্দেশেও এই অস্তিত্বহীন ধারার কথা জানিয়েছে।

ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় ৪০৩ (১) ধারার কোনও অস্তিত্ব না-থাকলেও ভারতীয় দণ্ডবিধিতে ৪০৩ বলে একটি ধারা ছিল। তবে সেটি সম্পত্তি নিয়ে গন্ডগোলের কারণে দেওয়া হত। আদালতে পুলিশের তরফে এটিকে ‘প্রক্রিয়াগত ত্রুটি’র যুক্তি দেওয়া হয়েছে। যদিও সেই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে আদালত। আদালত জানিয়েছে, অভিযুক্তকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে, তার সঠিক কারণ দেখানো হয়নি। ফলে ওই গ্রেফতারি আইনত গ্রহণযোগ্য নয়।

sonam raghuvanshi

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy