Advertisement
E-Paper

রাজ্যে রাজ্যে বিক্ষোভ, হাল ধরলেন সনিয়াই

ছত্তীসগঢ়ে আলাদা দল গড়ার হুমকি দিয়েছেন অজিত জোগী। একদা রাজীব গাঁধীর কাছের লোক মহারাষ্ট্রের গুরুদাস কামাথ ঘোষণা করেছেন, তিনিও কংগ্রেস ছাড়ার কথা ভাবছেন।

জয়ন্ত ঘোষাল

শেষ আপডেট: ০৮ জুন ২০১৬ ০৩:৩৪

ছত্তীসগঢ়ে আলাদা দল গড়ার হুমকি দিয়েছেন অজিত জোগী। একদা রাজীব গাঁধীর কাছের লোক মহারাষ্ট্রের গুরুদাস কামাথ ঘোষণা করেছেন, তিনিও কংগ্রেস ছাড়ার কথা ভাবছেন। ত্রিপুরায় কংগ্রেসের বিধায়কদের প্রায় সকলেই যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে। রাহুল গাঁধীকে দলের সভাপতি করার তোড়জোড় যখন শুরু হয়েছে, তখন রাজ্যে রাজ্যে দলের বর্ষীয়ান নেতাদের এমন পদক্ষেপ চিন্তায় ফেলেছে সনিয়া গাঁধীকে। উদ্বিগ্ন কংগ্রেস সভানেত্রী এখন পরিস্থিতি সামলাতে নেমে পড়েছেন।

বিক্ষোভের খবর আসছে বিভিন্ন রাজ্য থেকে। ত্রিপুরায় সমীর বর্মণ ও তাঁর পুত্র সুদীপ বর্মণের নেতৃত্বে কংগ্রেস বিধায়কদের অধিকাংশই যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে। সিপিএমের এক নেতা টিকিট না পেয়ে কংগ্রেসের হয়ে বিধানসভায় জিতে এসেছিলেন, তিনিও ইস্তফা দিয়ে সিপিএমে ফিরেছেন। হরিয়ানা থেকে খবর আসছে, সনিয়ার একদা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ নেতা জর্নাদন দ্বিবেদীও বিধানসভা ভোটের আগে আলাদা দল গড়তে পারেন। মহারাষ্ট্রে কামাথ রাজনৈতিক সন্ন্যাস নেওয়ার কথা বলছেন। তবে কংগ্রেসের আশঙ্কা, তিনি হয় বিজেপিতে যোগ দেবেন অথবা আলাদা দল গড়বেন।

দলে ভাঙনের বিষয়ে সম্প্রতি সনিয়া-রাহুল ও আহমেদ পটেলের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। সেখানে কংগ্রেস নেতৃত্ব বিষয়টিকে
‘বিজেপির ষড়যন্ত্র’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। কংগ্রেস নেতা সচিন পায়লটের দাবি, ‘‘বিজেপি লোভ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা খরচ করে রাজ্যে রাজ্যে কংগ্রেস ভাঙার চক্রান্ত শুরু করেছে।’’ উত্তরপ্রদেশে ভোটের আগে টিকিট নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। এই সময়ে বিজেপি জাত-পাতের সমীকরণকে সামনে রেখে কংগ্রেস ভাঙতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে হাইকম্যান্ডের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি নির্মল ক্ষত্রী।

এই পরিস্থিতিতে সনিয়া ‘বৃদ্ধতন্ত্র’-কে সম্পূর্ণ অবজ্ঞা না করারই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সে জন্য রাহুল গাঁধী উৎসাহিত না হলেও কপিল সিব্বল, জয়রাম রমেশ ও পি চিদম্বরমকে রাজ্যসভার প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল। নতুন মুখ আনতে রাহুলের তত্ত্বকে শেষ পর্যন্ত মানেননি সনিয়া। কংগ্রেস সূত্র বলছে, সিব্বল, জয়রাম ও চিদম্বরম— তিন জনই রাহুলের ঘনিষ্ঠ বৃত্ত থেকে সরে যাচ্ছিলেন। আর আজই কংগ্রেস সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা জাতীয় উপদেষ্টা পর্ষদের মতো কোনও কমিটি গঠন করবে। দশ সদস্যের কমিটিতে দলের প্রবীণ নেতাদের রাখা হবে। ঠিক হয়েছে, চিদম্বরম, অম্বিকা সোনি, গুলাম নবি আজাদের মতো নেতারা কমিটিতে থাকবেন।

দিল্লিতে শীলা দীক্ষিতকে অজয় মাকেনের বাহিনী অপ্রাসঙ্গিক করে দিয়েছে। শীলা-পুত্র সন্দীপ দীক্ষিত-সহ একাধিক কংগ্রেস নেতা বিক্ষুব্ধের তালিকায়। দিল্লির নেতাদের সঙ্গে খুব শীঘ্রই আলোচনায় বসবেন রাহুল। উত্তরপ্রদেশ ছাড়াও ভোট আসছে যে রাজ্যগুলিতে সেই গুজরাত, পঞ্জাব, কর্নাটকেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সেখানকার পুর নির্বাচনগুলিতে অভ্যন্তরীণ গোলমালের জন্য দল সে ভাবে সাফল্য পায়নি। অসমেও হিমন্ত বিশ্বশর্মার মতে নেতা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে প্রচার করছেন যে রাহুলের দুর্ব্যবহারের জন্য তিনি দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। কংগ্রেস অবশ্য বলছে, এটি সম্পূর্ণ অপপ্রচার। যদিও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদের মন্তব্য, ‘‘ডুবন্ত জাহাজ থেকে কংগ্রেস নেতারা পালাতে চাইছেন। তবে সত্যি কথাটা স্বীকার না করে ওরা বিজেপির চক্রান্তের ভূত দেখছেন।’’

TMC Congress Sonia Gandhi
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy