E-Paper

আইবি শীর্ষে ফের তপন, না কি এ বার অন্য চমক

কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষকর্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ চমক হিসেবে দেশের গুপ্তচর সংস্থা ‘র’-এর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ স্পেশাল সেক্রেটারি হিসেবে কর্মরত সুনীল আচার্যকে ইন্টেলিজেন্স বুরোর ডিরেক্টর করতে পারেন।

প্রেমাংশু চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২২ জুন ২০২৬ ০৭:৪৯
(বাঁদিকে) আইবি প্রধান তপনকুমার ডেকা এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (ডানদিকে)।

(বাঁদিকে) আইবি প্রধান তপনকুমার ডেকা এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (ডানদিকে)। ছবি: সংগৃহীত।

ইন্টেলিজেন্স বুরো (আইবি) বা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ পদে এ বার কাকে দেখা যাবে, তা নিয়ে এখন মোদী সরকারের অন্দরমহলে চর্চা তুঙ্গে। ৩০ জুন ইন্টেলিজেন্স বুরোর ডিরেক্টর পদে তপন কুমার ডেকার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। গত চার বছর ধরে অসমের ভূমিপুত্র এই পদে আছেন। ইতিমধ্যেই দু’বার তাঁর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। প্রশ্ন হল, তৃতীয় বার মেয়াদ বাড়ানো হবে, না কি নতুন কাউকে এই পদে আনা হবে?

কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষকর্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ চমক হিসেবে দেশের গুপ্তচর সংস্থা ‘র’-এর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ স্পেশাল সেক্রেটারি হিসেবে কর্মরত সুনীল আচার্যকে ইন্টেলিজেন্স বুরোর ডিরেক্টর করতে পারেন। তিনি বহু দিন ইন্টেলিজেন্স বুরোতে কাজ করেছেন। অথবা ইন্টেলিজেন্স বুরোর দুই স্পেশাল ডিরেক্টর ঋত্বিক রুদ্র ও মহেশ দীক্ষিতের মধ্যে কাউকে সংস্থার ডিরেক্টর করা হতে পারে। আরও চমক দিতে চাইলে, এই প্রথম কোনও মহিলা আইপিএস অফিসারকে ইন্টেলিজেন্স বুরোর প্রধান হিসেবে তুলে আনা হতে পারে। তবে অপারেশন সিঁদুর-এর সাফল্যের পরে তপন কুমার ডেকার তৃতীয় বারের জন্য মেয়াদ বৃদ্ধির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

তপন কুমার ডেকা ২০২২-এ ইন্টেলিজেন্স বুরোর ডিরেক্টর হয়েছিলেন। ২০২৪-এ তাঁর দু’বছরের মেয়াদ শেষ হয়। তার পরে তাঁর মেয়াদ এক বছরের জন্য বাড়ানো হয়। গত বছরের মে মাসে আরও এক বছরের জন্য তাঁর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। আগামী ৩০ জুন সেই মেয়াদ শেষ হতে চললেও এখনও গোয়েন্দা বাহিনীর নতুন প্রধানকে নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে গঠিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিয়োগ কমিটি খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

মূলত দু’ভাবে গোয়েন্দা তথ্য জোগাড় করা হয়। এক হল ‘টেকনিক্যাল ইন্টেলিজেন্স’, অর্থাৎ ফোনে আড়ি পাতার মতো প্রাযুক্তিক উপায়ে তথ্য সংগ্রহ। আর একটি হল ‘হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স’ অর্থাৎ গোয়েন্দাদের মাঠে নামিয়ে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ। সূত্রের খবর, গোয়েন্দা সংস্থার কর্তারা এখন নতুন করে ‘হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স’-এ জোর দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করছেন। এ ক্ষেত্রে নাগাল্যান্ড ক্যাডারের আইপিএস সুনীল আচার্যকে ভাবা হতে পারে। কারণ ‘র’-এর স্পেশাল সেক্রেটারি হিসেবে তিনি ‘র’-এর বর্তমান প্রধান পরাগ জৈনের মতোই ‘হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স’-এ জোর দিয়েছেন। এখন তাঁকে ইন্টেলিজেন্স বুরোর প্রধান না করা হলে আগামী দিনে তাঁকে ‘র’-এর প্রধান হিসেবে দেখা যাবে বলে গোয়েন্দা সংস্থার কর্তারা নিশ্চিত। বর্তমান গোয়েন্দা প্রধান তপন কুমার ডেকাও ‘হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স’-এ জোর দিয়েছেন। যদি তপন ডেকার মেয়াদ বাড়ানো না হয়, তা হলে আইবি-র শীর্ষ পদে উত্তরসূরি হিসেবে তাঁর পছন্দের প্রার্থী হতে পারেন হিমাচল ক্যাডারের আইপিএস ঋত্বিক রুদ্র।

গোয়েন্দা সংস্থার কর্তারা মনে করছেন, মোদী সরকার যে ভাবে নারীশক্তির উপরে জোর দিচ্ছে, তাতে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হিসেবে কোনও মহিলার কথাও ভাবা হতে পারে। ইন্টেলিজেন্স বুরোতেই অতিরিক্ত ডিরেক্টর পদে সুনীতা কাকরানের মতো অফিসার রয়েছেন। তবে তাঁর চেয়ে সিনিয়র অফিসার সুনীল আচার্য, ঋত্বিক রুদ্র বা মহেশ দীক্ষিতকে টপকে সুনীতাকে শীর্ষ পদে বসানো হবে কি না, তা নিয়ে অনেকেরই সংশয় রয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

IB

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy