আগামী বছর উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ব্রাহ্মণ ভোট যে বিজেপিকে চিন্তায় রাখছে, তার ফের প্রমাণ মিলল। সদ্য বিদায় নেওয়া বছরের শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজের বাসভবনে উত্তরপ্রদেশের ব্রাহ্মণ নেতা লক্ষ্মীকান্ত বাজপেয়ীকে সপরিবার নিমন্ত্রণ জানিয়ে তাঁর সঙ্গে সময় কাটালেন। লক্ষ্মীকান্ত বাজপেয়ী বর্তমানে বিজেপির রাজ্যসভাসাংসদ। অতীতে তিনি উত্তরপ্রদেশে বিজেপির রাজ্য সভাপতি ছিলেন। বিজেপির সংগঠনের পুরনো মুখ, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে তাঁর যথেষ্ট প্রভাব। উত্তরপ্রদেশে দলের মধ্যে ও রাজ্যের ব্রাহ্মণদের মধ্যেবিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে বিজেপির আশঙ্কার ফলেই প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সক্রিয়তা বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
গত সপ্তাহেই লখনউয়ে উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা অধিবেশন চলাকালীন বিজেপির ব্রাহ্মণ বিধায়ক ও বিধান পরিষদের নেতারা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেছিলেন। এমনিতেই মুখ্যমন্ত্রী পদে ঠাকুর সম্প্রদায়েরযোগী আদিত্যনাথকে নিয়ে ব্রাহ্মণদের ক্ষোভ ছিল। তার উপরে কুর্মি নেতা পঙ্কজ চৌধরিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি করায় ক্ষোভ আরও বাড়ে। ব্রাহ্মণ নেতাদের আলাদা ভাবেবৈঠক নিয়ে পঙ্কজ সতর্ক করে জানিয়ে দেন, এই ভাবে দলের মধ্যেজাতের ভিত্তিতে বৈঠক বরদাস্ত করা হবে না। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের জনসংখ্যার ১০ শতাংশ ব্রাহ্মণ। সেই ব্রাহ্মণদের ৯০ শতাংশ বিজেপিকে ভোট দেন। ফলে ব্রাহ্মণরা ক্ষুব্ধ হলে বিজেপির ভোটের ময়দানে চিন্তা বাড়তে পারে।
এই পরিপ্রেক্ষিতেই আচমকা মোদীর লক্ষ্মীকান্ত বাজপেয়ীকে নিজের বাড়িতে আমন্ত্রণ তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিজেপি নেতৃত্ব মনে করছেন। বিজেপি সূত্রের খবর, ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে উঠে আসার আগে থেকেই লক্ষ্মীকান্ত বাজপেয়ী দলের মধ্যে নরেন্দ্র মোদীর সমর্থক ছিলেন। ব্রাহ্মণ ভোট নিয়ে চিন্তার মুখে তাই লক্ষ্মীকান্তের সঙ্গেই শলাপরামর্শের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মোদী।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)