Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৮ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

দেশ

‘অর্থমনর্থম্’ ! কেবিসি-তে ৫ কোটি টাকা জেতার জেরেই ভাঙতে বসেছিল সুশীল কুমারের দাম্পত্য

নিজস্ব প্রতিবেদন
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৪:৫৭
কৌন বনেগা ক্রোড়পতিতে জিতেছিলেন পাঁচ কোটি টাকা। সকলের সঙ্গে তিনি নিজেও ভেবেছিলেন এ বার জীবনে আলোকিত হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল উলটপুরাণ। ক্রমে অন্ধকারের পাল্লা ভারী হল। ‘অর্থমনর্থম্’-এর সেই স্মৃতি ফেসবুকে শেয়ার করেছেন সুশীল কুমার।

বিহারের মোতিহারির যুবক সুশীল কুমার আইএএস পরীক্ষায় বসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিছুটা খেয়ালের বশেই তিনি ২০১১ সালে অংশ নেন ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’-তে। অমিতাভ বচ্চনের সঞ্চালনায় সে সময় শো-এর পঞ্চম মরসুম চলছিল।
Advertisement
প্রথম প্রতিযোগী হিসেবে পাঁচ কোটি টাকার পুরস্কার জেতেন সুশীল কুমার। এর পরবর্তী সময়কে তিনি বর্ণনা করেছেন ‘জীবনের জঘন্য়তম পর্ব’ হিসেবে।

ফেসবুকে তাঁর প্রোফাইল আছে মন্টু কুমার সুশীল নামে। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, ২০১৫-১৬ সালে কীভাবে একটানা বিপর্যয়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে।
Advertisement
সুশীলের কথায়, কেবিসি-পরবর্তী সময়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন স্থানীয় নায়ক। মাসে অন্তত ১৫ দিন তাঁকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতে হত। নিয়মিত মুখোমুখি হতে হত সংবাদমাধ্যমের। ফলে ব্যাহত হচ্ছিল তাঁর পড়াশোনা।

অনেকের কথায় বহু জায়গায় অর্থও বিনিয়োগ করেছেন সুশীল। তাঁর আক্ষেপ,বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সেই বিনিয়োগ ব্য়র্থ হয়েছে। চূড়ান্ত আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন তিনি।

পাশাপাশি, প্রতি মাসে তিনি গড়ে পঞ্চাশ হাজার টাকা বিভিন্ন ক্ষেত্রে দান করতেন বলে জানিয়েছেন সুশীল। সেখানেও অনেকে তাঁকে ঠকিয়েছে বলে দাবি তাঁর।

পাঁচ কোটি টাকা পেয়েই থেমে থাকতে রাজি ছিলেন না সুশীল। তাঁর মনে হয়েছিল, আরও উপার্জন করতে হবে তাঁকে। এক বন্ধুর সঙ্গে দিল্লিতে ব্য়বসা শুরু করেন। কাজের প্রয়োজনে প্রায়ই দিল্লি যেতে হত তাঁকে।

সেখানে কয়েক জন ছাত্রছাত্রীর সঙ্গে আলাপ হয় সুশীলের। তাঁর অভিযোগ,নতুন পরিচিতদের সঙ্গে মেলামেশার পরে তিনি ক্রমশ ধূমপান ও মদের নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েন।

মাঝখানে তাঁর মাথায় ছবি তৈরির ভূত চেপে বসে। দিল্লির ওই ছাত্রছাত্রীদের কথায় তিনি সারাদিন ছবি দেখতে শুরু করেন। সুশীলের এই পরিবর্তন ভালভাবে নেননি তাঁর স্ত্রী। ক্রমে দু’জনের সম্পর্ক তিক্ত হতে শুরু করে।

শেষে সুশীল কুমার এক সাক্ষাৎকারে ইচ্ছে করে বলেন, তাঁর সব টাকা শেষ হয়ে গিয়েছে। তিনি দু’টো গরু কিনে দুধ বিক্রি করে সংসার চালান। এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পরে তাঁর কাছে সাহায্যপ্রার্থীর ভিড় কমে। জানিয়েছেন সুশীল।

কিন্তু তারপরেও সংসারে শান্তি ফেরেনি। স্ত্রীর সঙ্গে বিবাদ ক্রমেই বাড়তে থাকে। শেষে বাড়ি ছেড়ে মুম্বই চলে আসেন সুশীল। তাঁর লক্ষ্য ছিল হিন্দি ছবির প্রযোজক হবেন।

কিন্তু ছবি তৈরির বিন্দুবিসর্গও জানতেন না। এক প্রযোজকের পরামর্শে টেলিভিশনে কাজ শুরু করেন তিনি। প্রোডাকশন হাউসের সঙ্গে কিছু দিন কাজ করার পরেই তাঁর ধৈর্যচ্যুতি ঘটে।

ক্রমে সুশীল বুঝতে পারেন তিনি প্রযোজক হতে আসেননি। বরং তিনি নিজের সমস্যা থেকে পালাতেই মুম্বই এসেছেন ।  সব ছেড়েছুড়ে মোতিহারিতে ফিরে যান সুশীল। নতুন করে পড়াশোনা শুরু করেন। সম্পূর্ণ করেন শিক্ষকতার কোর্স।

পাশাপাশি পরিবেশ সচেতনতা সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মসূচিতেও নিয়মিত অংশ নিতে থাকেন। এখন তাঁর জীবন সব দিক দিয়ে পাল্টে গিয়েছে। সুশীল জানিয়েছেন, তিনি শেষ বার মদ্যপান করেছেন চার বছর আগে। সিগারেটও ছেড়ে দিয়েছেন গত বছর।

প্রতি দিনই তাঁর কাছে এখন নতুন করে উদযাপন করার।  ‘সেলেব্রিটি’ পরিচয় হারিয়ে সুশীল এখন শান্তিতে আছেন স্ত্রী আর মেয়েকে নিয়ে। ঠিক করেছেন, প্রয়োজন মেটাতে যেটুকু দরকার, সেটুকুই উপার্জন করবেন। তার বেশি নয়।

তাঁর বর্তমান জীবনদর্শন, জীবনে কিছু প্রয়োজন জিইয়ে থাকা খুব দরকার। যাতে সেই প্রয়োজন পূর্ণ করার তাগিদ জীবনে বাকি থাকে।  অতীতে কোটিপতি হওয়ার স্বাদ পাওয়া সুশীল হয়তো উপলব্ধি করেছেন, সব পেলে নষ্ট জীবন।