Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ই-পেপার

দেশ

সময়ের সঙ্গে: টুইটারে ‘সুইট অ্যান্ড সাওয়ার’ সুষমা টেক্কা দিয়েছেন নবীন নেটিজেনদেরও

নিজস্ব প্রতিবেদন
০৭ অগস্ট ২০১৯ ১৪:৪৯
মুঠোফোনে যদি বিশ্বকে ধরা যায়, তবে সমস্যার সমাধানকেই বা বন্দি করা যাবে না কেন? ভেবেছিলেন সুষমা স্বরাজ। সাজপোশাকে সনাতনী প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী সমসাময়িক রাজনীতিকদের থেকে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে ছিলেন কয়েক যোজন এগিয়ে। শুধু ব্যবহারই নয়। তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টা ছিল, যাতে একে কাজে লাগানো যায় সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধানে।

টুইটারে তাঁর মতো সক্রিয় রাজনীতিক আজকের প্রজন্মেও বিরল। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁকে একটি ভিডিয়ো টুইট করা হয়েছিল। যে টুইটের সাহায্যে তিনি উদ্ধার করেছিলেন ইরাকে আটকে পড়া ১৬৮ জন ভারতীয়কে। তাঁরা কাজের খোঁজে গিয়েছিলেন ইরাকে। কিন্তু অভিযোগ, তাঁদের বন্দি করে রেখেছিল নির্দিষ্ট সংস্থা। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বেতন, এমনকি খাবারও।
Advertisement
পুরো বিষয়টি টুইট করে সাহায্য চাওয়া হয় সুষমার। তিনি তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করে দু’দফায় দেশে ফিরিয়ে আনেন মোট ১৬৮ ভারতীয়কেই।

সুষমার উদ্যোগে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে হয়েছিল ‘অপারেশন রাহত’। খুব অল্প সময়ের মধ্যে ১৯৪৭ জন বিদেশি নাগরিক এবং ৪৭৪১ জন ভারতীয় নাগরিককে ফিরিয়ে এনেছিলেন তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী সুষমা।
Advertisement
তাঁর সাহায্যেই ক্যাপ্টেন নিখিল মহাজন ওয়াশিংটন থেকে ভারতে এসে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পেরেছিলেন তাঁর ভাই শহিদ তুষার মহাজনকে ।

‘দেশবাসীকে সাহায্য করা আমাদের কর্তব্য। আমাদের ছোট্ট নাগরিককে দেশে স্বাগতম’— সাবাহ শাহওয়েশকে জানিয়েছিলেন সুষমা। ইয়েমেন থেকে সাহায্য চেয়েছিলেন তিনি। তাঁর স্বামী ভারতীয় ছিলেন। আট মাসের শিশুসন্তানকে নিয়ে ইয়েমেনে আটকে ছিলেন সাবাহ। তাঁকে বিপদ থেকে উদ্ধার করে এনেছিলেন সুষমা-ই।

২০১৫-র অগস্টে জনৈক দেব টাম্বোলির বোন চরম বিপাকে পড়েছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে গিয়ে। অভিযোগ, কাজের সন্ধানে গিয়ে তিনি সেখানে পাচারচক্রের শিকার হয়েছিলেন। বোনকে ফেরাতে সুষমার শরণাপন্ন হয়েছিলেন দেব। নিরাশ করেননি সুষমা। তাঁর উদ্যোগে দুবাই পুলিশ উদ্ধার করে দেবের বোনকে। পাশাপাশি, বালিতে ছুটি কাটাতে গিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন মীরা শর্মা। দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হয়ে তাঁর মা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন সুষমা।

টুইটার ছিল ব্যক্তি সুষমারও অকপট জানালা। মালয়েশিয়া থেকে সুষমার সাহায্য চেয়েছিলেন এক ভারতীয়। কিন্তু তাঁর লেখায় ইংরেজিতে ভুল ছিল। তাঁকে এক বন্ধু বলেছিলেন, হিন্দি বা পঞ্জাবিতে আবার টুইট করতে। উত্তরে সুষমা বলেছিলেন, এটা কোনও সমস্যা নয়। তিনি নিজে বিদেশমন্ত্রী হওয়ার পরে ইংরেজির সব উচ্চারণভঙ্গি তাঁর কাছে বোধগম্য। টুইটেই এসেছিল সুষমার আশ্বাস।

তিনি কেন নামের আগে ‘চৌকিদার’ লিখছেন?  সুষমার কাছে জানতে চেয়েছিলেন জনৈক নেটিজেন। মজার উত্তর দিয়েছিলেন সুরসিক সুষমা। বলেছিলেন, তিনি বিদেশের মাটিতে ভারতের স্বার্থ এবং ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষার দেখভাল করেন। তাই তিনি চৌকিদার।

ধৈর্য ধরে উত্তর দিতেন হতাশাজনক টুইটেরও। একজনকে বলেছিলেন, দরকারে মঙ্গলগ্রহেও সাহায্য করবে ভারতীয় দূতাবাস। তবে ফিরিয়েও দিয়েছিলেন একজনকে। নতুন রেফ্রিজারেটর কিনে বিপাকে পড়েছিলেন তিনি। তাঁকে সাহায্য করতে তিনি অপারগ। জানিয়েছিলেন সুষমা।

সুষমার প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবেন উজমা। অভিযোগ, ইচ্ছের বিরুদ্ধে তাঁকে বিয়ে করতে হচ্ছিল পাকিস্তানি যুবককে। ২০১৭-র মে মাসে তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী সুষমার উদ্যোগে তাঁকে ফিরিয়ে আনা হয় ভারতে।

২০১৬-র জুলাই মাসে কাবুলে অপহৃত হয়েছিলেন ভারতীয় স্বেচ্ছাসেবী কর্মী জুডিথ ডি’সুজা। অক্ষত অবস্থায় তাঁকে ভারতে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল সুষমার।

অন্যান্য দিনের মতো মঙ্গলবারও টুইটারে সক্রিয় ছিলেন সুষমা। জম্মু কাশ্মীর প্রসঙ্গে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদ নিয়ে সন্ধ্যায় তিনি অকুণ্ঠ ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রীকে। বলেন, এই দিনটার জন্যই জীবনভর অপেক্ষায় ছিলেন।

তাঁর কয়েক ঘণ্টার পরে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে শুধুই তিনি। এ বার আর টুইট করছেন না। বরং তাঁকে নিয়ে টুইট হচ্ছে। হৃদরোগে তাঁর আকস্মিক বিদায়ে শোকাহত নেটিজেনরা। তত ক্ষণে সুষমা পাড়ি দিয়েছেন রাজনীতি-কূটনীতি-সোশ্যাল মিডিয়ার ঊর্ধ্বে এক অপার্থিব জগতে।

Tags: সুষমা স্বরাজ