তিন মাস ধরে নিখোঁজ কাছাড় জেলার বিন্নাকান্দিঘাটের যুবক সরভু ভর। দাদা প্রভু ভর তাঁর খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরছেন। নিজে অশিক্ষিত-দরিদ্র চা বাগান শ্রমিক। তবু প্রত্যন্ত বিন্নাকান্দিঘাট থেকে কখনও ছুটছেন শিলচর, কখনও কলকাতা। পুলিশে এজাহার দিলেও তিন রাজ্যের ব্যাপার বলে আশার আলো দেখছেন না।
প্রভু জানিয়েছেন, সরভু বাঙ্গালোরে ৬ বছর ধরে একটি বেসরকারি নিরাপত্তা এজেন্সিতে চাকরি করেন। বাড়িতে ছুটি কাটিয়ে গত ২৩ মে রওনা হয়েছিলেন কর্মস্থলে। গুয়াহাটি গিয়ে বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেসে চড়বেন, এমনটাই কথা ছিল। ওই ট্রেনেই তাঁর টিকিট ছিল। সঙ্গে একই সংস্থার কর্মী দীপক গোয়ালা, বিদ্যালাল গোয়ালা-সহ আরও ২-৩ জন। তাঁরাও একই এলাকার বাসিন্দা।
দীপকের ফোনেই তিনি প্রথম জানতে পারেন, সরভুকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাও ২৮ মে ভোরে। দীপক তাঁদের জানান, তাঁরা গুয়াহাটি থেকে একই ট্রেনে যাচ্ছিলেন। ২৫ মে ভোর সাড়ে ৪টা নাগাদ বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেস হাওড়া স্টেশনে থামে। কিছুক্ষণ পরে যখন ট্রেন ছাড়ে, তখন দেখতে পান সরভু নেই। পরে তাঁরা তাঁর মোবাইল ফোন, বিছানাপত্র নিয়ে বেঙ্গালুরু চলে যান। সে দিন থেকে প্রভু ভর ভাইয়ের সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তিন মাসেও হদিস মেলেনি। কাছাড় জেলার লক্ষ্মীপুর থানায় এজাহার দিলেও হাওড়া থেকে সন্ধানহীন হওয়ার দরুণ তাঁরা শুধু মামলা নথিভুক্ত করেছে। অন্য দিকে কলকাতা গিয়েও হাওড়ার স্টেশন কর্তা বা পুলিশের দ্বারস্থ হয়ে কোনও লাভ হয়নি। হাওড়া থেকে তাঁকে পাঠানো হয়েছিল মালদায়। গত তিন মাসের অশনাক্ত মৃতদেহের প্রচুর ছবি দেখানো হয় তাঁকে। সেখানে ভাইয়ের ছবি না দেখে আপাতত স্বস্তির শ্বাস ফেলেন দাদা প্রভু ভর। তিনি বলেন, ‘‘পিতৃমাতৃহীন ছোটভাই আর যাই হোক, রেলের চাকায় পিষে যায়নি।’’ আশা জিইয়ে থাকায় বেঙ্গালুরুতেও যান ওই বাগান শ্রমিক। কিন্তু এদিক-ওদিক ঘুরে খালি হাতেই ফিরতে হয় তাঁকে।