চার রাজ্যে সাংগঠনিক রদবদলের পরে আরও অন্তত চার রাজ্যে বিজেপির সাংগঠনিক রদবদলের অপেক্ষায় রয়েছে দল। বড় মাপের পরিবর্তনের অপেক্ষায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভাও। আজ দিনভর একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বৈঠক করেন বিজেপি সভাপতি জেপি নড্ডার সঙ্গে। সূত্রের মতে, নড্ডার সঙ্গে দেখা করার ডাক পেয়েছেন বঙ্গ বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদী।
লোকসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা, পঞ্জাব ও ঝাড়খণ্ডে বিজেপি সভাপতি গতকাল পরিবর্তন করেছে দল। এর মধ্যে লোকসভার আগে বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে তেলঙ্গনায়। ওই চারটি রাজ্য ছাড়া আগামী দিনে যে চারটি রাজ্যে নেতৃত্বের পরিবর্তন হতে চলেছে, সেগুলির মধ্যে ভোটমুখী রাজ্য হল মধ্যপ্রদেশ। এ ছাড়া কর্নাটক, কেরল ও গুজরাতেও সংগঠন স্তরে বড় মাত্রায় রদবদলের কথা ভাবছেন নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহেরা। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নিজের রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী বদলের জল্পনা রয়েছে পূর্ণমাত্রায়। ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেলকে সরিয়ে সেই স্থানে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডবিয়াকে বসানোর কথা ভাবা হয়েছে। দলে যিনি নরেন্দ্র মোদীর ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। সে ক্ষেত্রে ওই রাজ্যের দলীয় সভাপতি সি আর পাটিলকে গুজরাতে ভাল ফল করার পুরস্কার হিসাবে কেন্দ্রীয় স্তরে উঠিয়ে আনার কথা ভাবা হয়েছে। পাটিলকে উত্তরপ্রদেশে দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
অন্য দিকে গুজরাতের বিজেপি সভাপতি হওয়ার দৌড়ে নাম উঠে এসেছে বর্তমানে মৎস্য ও পশুপালন মন্ত্রকের দায়িত্বে থাকা পুরুষোত্তম রূপালার। যদিও অন্য একটি সূত্রের মতে, এখনই গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রীকে না সরিয়ে বরং সি আর পাটিলের স্থানে দায়িত্ব দেওয়া হবে মনসুখ মাণ্ডবিয়াকে।
অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে কর্নাটকে সভাপতি পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চলেছে বিজেপি। একে রাজ্যে হার আর দ্বিতীয়ত ওই রাজ্যে অনেক আগেই সভাপতির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল নলিন কাটিলের। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের কথা ভেবে তাঁকে রেখে দেওয়া হয়েছিল। হারের পরে তাই তাঁর সরে যাওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা। ওই রাজ্যে সভাপতির দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন ভোক্কালিগা নেতা শোভা করন্দাজে, ব্রাহ্মণ নেতা প্রহ্লাদ জোশী। ছেলে বিজয়েন্দ্রের জন্য তদ্বিরে ব্যস্ত রয়েছেন লিঙ্গায়েত নেতা বি এস ইয়েদুরাপ্পা। সূত্রের মতে, লিঙ্গায়েত ও ভোক্কালিগা এই দুই শিবিরের লড়াইতে বাজিমাত করতে পারেন প্রহ্লাদ জোশী।
ভোটমুখী রাজ্য হিসাবে মধ্যপ্রদেশে নতুন দলীয় সভাপতি হিসাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ সিংহ পটেল ও নরেন্দ্র সিংহ তোমরের নাম উঠে এসেছে। এই আবহে নড্ডার সঙ্গে দেখা করার কথা ওই রাজ্যের নেতা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার। সূত্রের মতে, এগুলির মধ্যে নরেন্দ্র সিংহ তোমার রাজপুত। আর মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ হলেও ওবিসি সমাজের। তাই উচ্চবর্ণের রাজপুত ও ওবিসি সমাজের দুই নেতাকে সামনে রেখে গো-বলয়ের ওই রাজ্যে জয়ের জন্য ঝাঁপাতে চাইছে বিজেপি। কেরলেও রাজ্য সভাপতি পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। ওই রাজ্যে সভাপতি হিসাবে বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী ভি মুরলীধরনের কথা ভাবা হয়েছে। তেমনি মন্ত্রিসভায় ওই রাজ্য থেকে অভিনেতা সুরেশ গোপীকে মন্ত্রিসভায় আনার কথা ভাবা হয়েছে। এ দিকে আজ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব, অর্জুন মেঘওয়াল ও নির্মলা সীতারামনেরা দলীয় সভাপতি জেপি নড্ডার সঙ্গে দেখা করেন। মন্ত্রিসভায় রদবদলের আগে ওই বৈঠকগুলি ঘিরে জল্পনা তৈরি হয়েছে বিজেপির অন্দরমহলে। সামনেই পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যসভার নির্বাচন রয়েছে। যাতে একটি আসন জেতার সম্ভাবনা বিজেপি-র। আবার গুজরাতে রাজ্যসভার তিনটি আসনে ভোট হবে, যেখানে জিতবে বিজেপি। এই আবহে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেবৈঠকে বসার জন্য ডাক পেয়েছেন দীনেশ ত্রিবেদী।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)