দেশ জুড়ে জ্বালানি তেল ও গ্যাস নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিরোধীরাও এই নিয়ে নিশানা করছে কেন্দ্রকে। তবে বৃহস্পতিবার পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী আবার দাবি করলেন, দেশে পেট্রল, ডিজ়েল, কেরোসিনের অভাব নেই। পর্যাপ্ত গ্যাসও মজুত রয়েছে। আরও এক ধাপ এগিয়ে পুরীর দাবি, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর কূটনৈতিক দৌত্যের ফলে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ওই প্রণালী থেকে যে পরিমাণ অশোধিত তেল আসে, তার থেকে বেশি পরিমাণ অপরিশোধিত তেল নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে।’’
লোকসভায় পুরী আশ্বাস দেন, জ্বালানি নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। গত পাঁচ দিনে গ্যাসের উৎপাদনও বেড়েছে বলে দাবি তাঁর। পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘‘অত্যধিক বুকিংয়ের কারণে বিক্ষিপ্ত সমস্যা হচ্ছে।’’ লোকসভায় পুরী আরও দাবি করেন, গ্যাস বুকিংয়ের আড়াই দিনের মধ্যে তা সরবরাহ করা হচ্ছে। তাই জ্বালানি নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য দেশবাসীর উদ্দেশে বার্তা দেন পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী।
পশ্চিম এশিয়ার সামরিক সংঘাতের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে পুরী জানিয়েছেন, বিশ্ব এ রকম জ্বালানি সঙ্কটের মুখে আগে কখনও পড়েনি। তবে হরমুজ় প্রণালী বন্ধ হওয়ায় ভারতে তাঁর আঁচ বিশেষ একটা পড়েনি। হরমুজ় ছাড়াও অন্য পথে জ্বালানি আনা হচ্ছে। ৪০টি দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল কিনেছে ভারত। পুরীর কথায়, ‘‘সিএনজি ১০০ শতাংশ সরবরাহ হচ্ছে। এলএনজি-রও কোনও ঘাটতি নেই।’’ তিনি জানান, প্রতি দিন বিভিন্ন বিকল্প রাস্তা হয়ে এলএনজির কার্গো ঢুকছে দেশে। মন্ত্রী আরও দাবি করেছেন, গত পাঁচ দিনে এলপিজি উৎপাদন ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, খনিজ তেল, স্বাভাবিক গ্যাসের জোগানের উপর পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কী প্রভাব পড়েছে, দেশের জোগান কতটা, বুধবার লোকসভায় তার হিসাব দিয়েছে কেন্দ্র। বুধবার পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের তরফে সাংবাদিক বৈঠক করে যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা জানান, সঙ্কট আঁচ করে বাড়তি গ্যাস যাতে কেউ বুক করে না-রাখেন, তা নিশ্চিত করতে দু’টি গ্যাস বুকিংয়ের মধ্যেকার ন্যূনতম ব্যবধান ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। খনিজ তেলের সরবরাহও নিয়ন্ত্রণে। ভারতে ঘরোয়া এলপিজি উৎপাদন ২৫ শতাংশ বেড়েছে। ঘরোয়া নয়, এমন এলপিজি (নন-ডোমেস্টিক)-র ক্ষেত্রে হাসপাতাল এবং অন্য জরুরি পরিষেবাগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
গত ৮ মার্চ সরকার একটি নির্দেশিকা জারি করেছে। তাতে দেশের অভ্যন্তরে এলপিজি উৎপাদন বৃদ্ধি করতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, এর ফলে ২৫ শতাংশ উৎপাদন বেড়েছে। রেস্তরাঁ, হোটেলগুলির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠন করা হয়েছে।