রান্নার গ্যাস এবং বাণিজ্যিক গ্যাস নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে শহরের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সতর্ক হল কলকাতা পুলিশ। লালবাজার সূত্রে খবর, অভ্যন্তরীণ একটি নির্দেশিকায় পুলিশের উপরমহল থেকে জানানো হয়েছে, গ্যাস নিয়ে গ্রাহকদের উদ্বেগের কারণে কোথাও যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না হয়। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ এবং আধিকারিকদের সতর্ক থাকতেও বলা হয়েছে বলে ওই সূত্রের দাবি।
অন্য দিকে, বৃহস্পতিবারই সংসদ চত্বরে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ অন্য বিরোধী দলগুলির সাংসদেরা। বিক্ষোভে যোগ দেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা। বিরোধী সাংসদেরা এই বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চেয়েছেন এবং ‘সঙ্কট’ মোকাবিলায় কেন্দ্র কী পদক্ষেপ করছে, তা জানানোর দাবি জানিয়েছেন। কংগ্রেস সাংসদদের বিক্ষোভের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করেন রাহুল। বলেন, “প্রধানমন্ত্রী (গ্যাস নিয়ে) মানুষকে ভয় পেতে বারণ করছেন। অথচ নিজেই বিভিন্ন কারণে ভয় পেয়ে আছেন।” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “উনি এপস্টিন ফাইল এবং আদানির বিরুদ্ধে চলা মামলা নিয়ে ভয় পেয়ে আছেন। তাই উনি লোকসভায় আসতে পারছেন না।”
বুধবারই প্রধানমন্ত্রী গ্যাস নিয়ে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। জনগণের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন। তার পরেও অবশ্য দেশের বিভিন্ন রাজ্যে রান্নার গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক হয়নি। গ্যাস নিয়ে মানুষের উদ্বেগও কমেনি। গ্যাস সিলিন্ডারের অভাবের কারণে পঞ্জাবে বেশ কয়েকটি বিয়ের অনুষ্ঠান স্থগিত হয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নয়ডার ২০ নম্বর সেক্টরে গ্যাস না-পেয়ে রাস্তা অবরোধ করেন স্থানীয়েরা। এই পরিস্থিতিতে রেশন ডিলারেরা রেশনে কেরোসিন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। গ্যাস সিলিন্ডারের কালোবাজারিও চিন্তায় রাখছে কেন্দ্রকে। এ ক্ষেত্রে অভিযোগ প্রমাণিত হলে যে কঠোর শাস্তি হতে পারে, তা-ও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
সংসদের মকর দ্বারের সামনে বিক্ষোভ দেখান বিরোধী সাংসদেরা। কংগ্রেস, তৃণমূল ছাড়াও সমাজবাদী পার্টি (এসপি), ডিএমকে-র সাংসদেরা বিক্ষোভে শামিল হন। মহিলা সাংসদেরা উনুনে রান্না করার ভঙ্গিতে প্রতীকী প্রতিবাদ দেখান। স্লোগান ওঠে, ‘মোদীজি, কোথায় গেল এলপিজি?’
আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের জেরে প্রায় ‘অবরুদ্ধ’ হয়ে রয়েছে হরমুজ় প্রণালী। বিভিন্ন দেশে ধাক্কা খেয়েছে জ্বালানির জোগান। ভারতও তার বিকল্প নয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশব্যাপী অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন জারি করেছে কেন্দ্র। তাতেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। গ্যাস সিলিন্ডারের পর্যাপ্ত জোগান না-থাকায় মুম্বই, বেঙ্গালুরু-সহ বিভিন্ন বড় শহরে একের পর এক রেস্তরাঁ বন্ধ হতে শুরু করেছে। একই পরিস্থিতি কলকাতাতেও। গ্রাহকদের অভিযোগ, ফোনে গ্যাসের বুকিং হচ্ছে না। আতঙ্কে অনেকেই গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন অফিসে সিলিন্ডার নিতে চলে যাচ্ছেন।