E-Paper

দলত্যাগ কেন মেয়াদ শেষের আগে, প্রশ্ন তৃণমূলে

সূত্রের খবর আগামী মাসেই রাজ্যসভার বিজ্ঞপ্তি জারি হবে বাংলার পাঁচটি রাজ্যসভার পদে। সুব্রত বক্সী, সাকেত গোখলে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং মৌসমের পদগুলি খালি হচ্ছে। বিকাশের আসনটি যাবে বিজেপি-র কাছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩১

— প্রতীকী চিত্র।

গত দশ বছরের মধ্যে বার বার ছ’বার, মেয়াদ শেষ করার আগেই পদত্যাগ এবং দলত্যাগ করেছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ। আগামী মাসে রাজ্যসভার পাঁচটি খালি হতে চলা আসনে নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হচ্ছে। যে পাঁচটির মধ্যে চারটিই তৃণমূলের। দলের অন্দরমহলেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, কেন ধারাবাহিক ভাবে এই ‘রাহু’ লেগে রয়েছে রাজ্যসভায়?

গতকালই মেয়াদ শেষের মাসখানেক আগেই তৃণমূল ছেড়ে পুরনো দল কংগ্রেসে ফিরেছেন মৌসম বেনজির নুর। আর তার পরই রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে আসছে, রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদদের দল ছাড়ার সাম্প্রতিক অতীতের কথা। মিঠুন চক্রবর্তী, সৃঞ্জয় বসু, দীনেশ ত্রিবেদী, মুকুল রায় এবং জহর সরকার— এঁরা একের পর এক দল ছেড়েছেন রাজ্যসভার সাংসদ হিসাবেই। প্রত্যেকের কারণ যদিও ছিল পৃথক। কেউ দলের কাজে বিরক্ত হয়ে, কেউ বিজেপি-র চাপে। এ বার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন মৌসমও।

সূত্রের খবর আগামী মাসেই রাজ্যসভার বিজ্ঞপ্তি জারি হবে বাংলার পাঁচটি রাজ্যসভার পদে। সুব্রত বক্সী, সাকেত গোখলে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং মৌসমের পদগুলি খালি হচ্ছে। বিকাশের আসনটি যাবে বিজেপি-র কাছে। তৃণমূল সূত্রের খবর, দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী ফের দাঁড়াবেন কি না, তা একান্ত ভাবেই তাঁর নিজের উপর নির্ভর করছে। নিজের শরীর-স্বাস্থ্য এবং রাজ্যে কতটা সময় তাঁকে দিতে হবে, সেই হিসাবের উপর। সাকেত গোখলের ফের পদ পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই দলের এক সূত্র জানাচ্ছে। সাংসদ হিসাবে অত্যন্ত সক্রিয় সাকেত। কিন্তু দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশ, যত বেশি সম্ভব বাঙালিকে সাংসদ পদ দিতে হবে, ভিন্ন রাজ্যের থেকে বাংলার মানুষ অগ্রাধিকার পাবে। বাংলা ও বাঙালিদের জন্য আন্দোলনে এই মুহূর্তে পথে রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই এই চিন্তাভাবনা।

গত কয়েকটি সংসদীয় অধিবেশনে ঋতব্রত উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছেন। তিনি বিভিন্ন বিষয়ে বক্তৃতায়, সংসদ চত্বরের আন্দোলনে এবং নিয়মিত বিভিন্ন মন্ত্রকে লিখিত প্রশ্ন করে কেন্দ্রকে কোণঠাসা করার চেষ্টা জারি রেখেছেন। পূর্ণ মেয়াদ তিনি পাননি, আর জি কর কাণ্ডের পর জহর সরকার পদত্যাগ করায় সেই ভাঙা আসনে সওয়া এক বছরের জন্য ঋতব্রত নির্বাচিত হয়েছিলেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। স্বাভাবিক ভাবেতাঁকে আবার ফিরিয়ে আনতে চাইবে তৃণমূল, যদি না রাজ্যে কোনও মন্ত্রকের দায়িত্ব ঋতব্রতকেদেওয়া হয়। মৌসমের উপর এমনিতেই খুশি ছিল না দল। আবার দলের মনোনয়ন তিনি পাবেন না— এই ধারণা তাঁর ছিল বলেই জানাচ্ছে সূত্র। এ বার তাঁর জায়গায় কাকে আনা হবে, তা নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে চুলচেরা বিচার করতে হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

TMC Rajya Sabha MP Rajya Sabha resignation

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy