জলপানেরও অঙ্ক আছে! সেই হিসাবটা কি জানেন? কিডনি ভাল রাখতে বেশি করে জল খেতে বলা হয়। কিন্তু সেই পরিমাণটা ঠিক কত? স্বাভাবিক খাওয়াদাওয়া করেন এমন সুস্থ–সবল মানুষ, তাঁর ওজন ও কাজের ধরনের উপর নির্ভর করে দিনে ৩–৪ লিটার জল পান করতেই পারেন। কিন্তু হার্টের রোগ, ডায়াবিটিস বা কিডনির রোগের জন্য ডায়ালিসিস চলছে যাঁদের, তাঁদের ক্ষেত্রে হিসাবটা আলাদা। সুস্থ শরীরের জন্য জল পান করতেই হবে। তাই সঠিক হিসাবটা জেনে নেওয়া যাক। জলপানের অঙ্ক নিয়ে সম্প্রতি এক গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের গবেষকেরা। তাঁদের বক্তব্য, নুন কম খান এবং শরীর সম্পূর্ণ সুস্থ আছে, এমন লোকজনদের দিনে ২-৩ লিটার জল পান করতেই হবে। না হলে কিডনির স্বাস্থ্য বিগড়ে যাবে। গ্লাসের হিসাবে যদি সারা দিন ৮ গ্লাস জল পান করেন, তা হলে কোনও সমস্যা নেই। কম হলেও ৬ গ্লাসের কম যেন না হয়।
এখানে আবার পুরুষ ও নারীর ক্ষেত্রে হিসাবটা আলাদা। সুস্থ-সবল প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের দিনে ৩.৭ লিটার থেকে ৪ লিটার জল পান করাই ভাল। যদি পেশির জোর বৃদ্ধির শরীরচর্চা করেন, তা হলে ৪ লিটার জল পান করতেই হবে। মহিলাদের ক্ষেত্রে তা ২.৭ থেকে ৩ লিটার হওয়াই বাঞ্ছনীয়। জল কখন পান করা উচিত, সে নিয়েও মতভেদ আছে। হার্ভার্ডের গবেষকেরা জানাচ্ছেন, শুধু পিপাসা পেলেই যে জল পান করবেন তা নয়, নির্দিষ্ট সময় অন্তর অল্প অল্প করে জল পান করলেই হবে। তাতে শরীর জলশূন্য হবে না।
আরও পড়ুন:
এখন মনে হতে পারে সকলের জন্য কি হিসাবটা এক? তা নয়। ডায়াবিটিস থাকলে কিডনির উপর চাপ পড়ে। তাই শরীর ডিটক্স করতে পরিমাণে বেশি জল প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে দিনে ৩ লিটার বা তার সামান্য বেশি জল পান করতেই হবে। আবার কিডনিতে পাথর থাকলেও জল বেশি পান করতে হবে, সেখানে পরিমাণটা সাড়ে তিন লিটার থেকে চার লিটার হওয়াই জরুরি। হার্টের রোগ থাকলে দেড় লিটারের বেশি জল পান বিপজ্জনক হতে পারে। শরীর বুঝে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতেই হবে। কিডনির ক্রনিক রোগ থাকলে এবং সে কারণে ডায়ালিসিস চললে জল মেপে পান করতে হবে। রোজের হিসেবে দেড় থেকে ২ লিটারের বেশি হওয়া ঠিক নয়।
এ দেশে এক জন ৬৫–৭০ কেজি ওজনের কর্মক্ষম সুস্থ মানুষের শরীরে জলের চাহিদা ৩–৪ লিটার। আগামী ২০ বছরে তা আরও এক লিটারের মতো বাড়বে বলে বিজ্ঞানীদের অনুমান। কারণ, এখন স্থূলত্বের হার বেড়েছে। জাঙ্ক ফুড খাওয়ার অভ্যাসও বাড়তির দিকে। কী ধরনের খাবার খাচ্ছেন, তার উপরও নির্ভর করে জলের চাহিদা। ঘরে কম তেল–নুন–মশলায় রান্না করা সুষম খাবার খেলে, কম জল খেলেই চলে। আর প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি খেলে জল বেশি খেতেই হবে।