তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।
মমতা বলেন, “আমরা বলার পরেও কেন ৪ শতাংশ ডিএ আটকে রেখে দিয়েছে ইলেকশন কমিশনের পশ্চিমবঙ্গ শাখা? আজ ১০ দিন ধরে আটকে রেখে দিয়েছে। ১০ দিন আগেই তো তারা টাকাটা পেতে পারত। টাকা আজ নয় কাল পাবে। এপ্রিলের মাইনের সঙ্গেই তারা পাবে। পেতে বাধ্য। কারণ ওটা বাজেটে বলা আছে।”
মমতা বলেন, “বিজেপি জেনে রেখো, তোমরা খুব ভয় পেয়ে গিয়েছো। তাই হামলে পড়েছো। আজ এক মাস ধরে কামড়াচ্ছো। শুধু অত্যাচার, অনাচার, এসআইআর, ব্যাভিচারের ছোবল দিচ্ছো। আর প্রধানমন্ত্রী যে এত মিথ্যা কথা বলতে পারেন, আমি ভাবতেও পারি না।”
মমতার আক্রমণ, “বলছে, ইভিএম মেশিন নিয়ে যাওয়ার পরে কাউন্টিঙে খেলা হবে। আমি সাউথের ডিইও-র একটা হোয়াটস্অ্যাপ মেসেজ দেখলাম। কোনও একটা জায়গায় দিয়েছে, আমি তার থেকে পেয়েছি। বাইরে থেকে পেয়েছি। কাউন্টিঙে খেলা হবে? কী করবেন কাউন্টিঙে?”
বিজেপি-কে বিঁধে মমতা বলেন, “তুমি মিটিং করে মিথ্যা কথা বলছো। গালাগালি দিচ্ছো আমাকে। অনেকে সহ্য করতে পারে না। কেউ পারে, কেউ পারে না। শুধু বলেছে, ভাই দিদি আমাদের জন্য সব করেছে। এইটুকু বলার জন্য কালীঘাট থানা কাল মধ্যরাতে তার বাড়িতে গিয়ে রেড করে বজ্জাতি করে এসেছে।” এর পরেই মমতা বলেন, “কালীঘাটকে কতটা চেনেন? ভবানীপুরকে কতটা চেনেন? ভোটের তিন দিন আগে উকুন বাছার মতো আপনাকে দিয়েছে দায়িত্ব। তাই বলে আপনি কেউকেটা হয়ে গেলেন?”
মমতা বলেন, “মারপিট করব না। মারপিট করলে ওদের লাভ। কাল দেখলেন না, একটা মিটিং আমি করলাম না। আমার কিছু যায় আসে না। বরং মিটিং করলে আমি যা ভোট পেতাম… ও যে আমার মাইকে মাইক লাগিয়ে দিয়েছিল, তাতে ওদের ভোটটা আরও গেল। নিজেদের ক্ষতি নিজেরা করল। কিছু জায়গায় প্ল্যান করে অশান্তির চেষ্টা করবে। আমাদের কর্মীদের ক্যাম্পেন হয়ে যাওয়ার পরেই বলবে থানায় এসে মুচলেকা দিয়ে যাও। কেউ মুচলেকা দেবেন না থানায়। আপনারা বৈধ নাগরিক মাথায় রাখবেন। আমি যখন রাস্তা দিয়ে যাই, বিজেপির লোকেরা থাকলে আমাকে ওদের স্লোগান দেয় না? তা হলে একটি ছেলে বলেছে, দিদির নামে মিথ্যা কথা বলেছেন কেন, তার বাড়িতে গিয়ে রেড করেছে। কেন করেছেন? বিজেপি যখন আমাদের পোস্টার ছিঁড়ছে, আমাদের ছেলেদের মারছে, তখন আপনারা চুপচাপ থাকেন কেন? আপনাদের তো বলিনি তৃণমূল করতে। আপনারা নিরপেক্ষ কাজ করুন।”
মমতা বলেন, “ওড়িশার বর্ডার দিয়ে লোক নিয়ে এসেছে। আমার সময়ে যারা ছিল, সব অফিসার বদলে দিয়েছে। একটা কালো স্করপিও গাড়িতে করে কয়েকশো কোটি টাকা এসেছে ভবানীপুরে ডিস্ট্রিবিউশন করার জন্য। চেতলায় এক জায়গায় বিলি করেছে। তারা আমাকে বলেছে, দিদি আমরা টাকা নিয়ে নিয়েছি, কিন্তু ভোট দেব না। শুনুন, ভবানীপুরটা কিন্তু ভবানীপুর। কলকাতার ভোট আর নন্দীগ্রামে লুট করা ভোট— দু’টো আলাদা।”
বিজেপি-কে বিঁধে মমতা বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের আকাশে ১০০টা প্লেন ঘুরছে। ২০০টা হেলিকপ্টার ঘুরছে। ১৯টা রাজ্য থেকে সকলে চলে এসেছে। মানে, চুনোপুটি থেকে রাঘব বোয়াল। শুধু একা আসেনি, সঙ্গে দু’লক্ষ গট্গট্ করা পুলিশ নিয়ে এসেছে।”
মমতা বলেন, “ইনকাম ট্যাক্স মানে বিজেপির পেটে ভরো। কাউকে ভয় দেখায়, কাউকে চমকায়, আর টাকা নিয়ে অর্ধেক ভাগাভাগি হয়।”
কোভিডকালের কথা মনে করিয়ে মমতা বলেন, “আমি নিজের জীবনের পরোয়া না করে রাস্তায় রাস্তায় রিং কেটে দিয়ে এসেছিলাম। বড়বাজারে দোকান খুলিয়েছিলাম। সমস্ত বাজার খুলিয়েছিলাম। তবে একটা সিস্টেম করে দিয়েছিলাম, যাতে ব্যবসা না বন্ধ হয়।”
মমতা বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ আসছে। কেন জানেন? এখন পশ্চিমবঙ্গই শিল্পের ‘ডেস্টিনেশন’। এটাই এক নম্বর হবে। এটা অনেকে সার্ভে করে দেখেছে, তাই বিনিয়োগ করছে।”
মমতা বলেন, “ভবানীপুরে আপনারা কী পাননি? ভবানীপুরে ধনধান্য, সৌজন্য, আলিপুর মিউজ়িয়াম, সম্পন্ন, শিল্পান্ন, অভিন্ন থেকে শুরু করে একবালপুর হাসপাতালেও টাকা দিয়েছি। পদ্মপুকুর, চক্রবেড়িয়া থেকে শুরু করে ভবানীপুর এডুকেশন সোসাইটি-কে বিশ্ববিদ্যালয় করার জন্য জমি দিয়েছি।”
মমতা বলেন, “প্রত্যেকটা উৎসব আমরা মন দিয়ে পালন করি। সঙ্গে আমরা রাজনীতিটা করি সামাজিক কাজের মাধ্যমে। আমাকে একটা রাজ্য দেখান, যাদের শিক্ষা ফ্রি আছে।”
পুজোর থিম প্রসঙ্গে মমতা বলেন, “এই যে থিম তৈরি হয়, মনে রাখবেন পুজোর সঙ্গে সঙ্গে এটা একটা বিজ়নেসের আইডিয়া। পুজোটা পুজোর মতো করে। কিন্তু এক একটা আইডিয়া নিয়ে সারা পৃথিবী তুলে নিয়ে আসে পুজো কমিটিগুলো। এটা আর কোথাও পাবেন না।”
মমতা বলেন, “শুধু বলছে, আমাদের সকলে নাকি চোর। আর ওগুলো সাধু। শুনুন, শুধু গেরুয়া পরলে সাধু হয় না। তাকে ত্যাগ, তিতিক্ষা, মানবিকতা জানতে হয়। পবিত্রতা দিয়ে শিখতে হয়। এদের উপরে মুখোশ। মুখ একটা, মুখোশ একটা। মুখোশের আড়ালে কী কী যে করে, বিশ্বাসও করতে পারবেন না। দুর্নীতিবাজ একটা দিল্লির সরকার। এরা পশ্চিমবঙ্গের নামে বদনাম করে। আমার খুব গায়ে লাগে।”
মমতা বলেন, “বিজেপি একসময় এসে বলত, মমতাজি পুজো করতে দেন না। কোথায় কবে কোন পুজো আটকেছি ভগবান জানে! জিজ্ঞেস করুন, পুজোর মন্ত্রটা বলতে পারবে? মমতাজি যে কত পুজো উদ্বোধন করে… কালীপুজোটা নর্থে করি, সাউথে করি দুর্গাপুজো। এখন তো জেলায় জেলায় ভার্চুয়াল প্রায় এক হাজার পুজোর উদ্বোধন করে দিই। কোন ক্লাবটা চিনি না শুনি।”
মমতা বলেন, “আপনারা জগন্নাথ ধাম দেখে নিয়েছেন। দুর্গা অঙ্গন তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে রাজারহাটে। যাতে ৩৬৫ দিন মানুষ দেখতে পারে। কারণ, দুর্গাপুজোকে তো আমরা ছাড়তে চাই না। সবসময় মনে হয় ধরে রেখে দিই।”
রবিবার সন্ধ্যায় ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের কালীঘাট মোড়ে জনসভা রয়েছে তৃণমূলনেত্রী মমতার। এর আগে ভবানীপুরে আরও তিনটি জনসভা এবং একটি পদযাত্রা করেছেন তিনি।
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy