গরমে যে সমস্ত সব্জি শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে, তার মধ্যে অন্যতম হল পটল। এটি যেমন সহজলভ্য তেমনই সুস্বাদুও। আবার গরমের ক্লান্তি দূর করার প্রাকৃতিক মহৌষধও হতে পারে পটল। গরমের মরসুমের ওই সব্জি বাঙালি রান্নাঘরে নিয়মিতই আসে। গ্রীষ্মের দুপুরে বাঙালি হালকা খাবার বললে পটলের ঝোল ভাতের কথাই মাথায় আসে। কিন্তু গরমে পটল আরও বেশি করে কেন খাওয়া উচিত জানেন কি?
১. শরীর আর্দ্র রাখে
পটলে প্রচুর পরিমাণে জলীয় অংশ থাকে। চড়া রোদে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে যে জল বেরিয়ে যায়, তা পূরণ করতে পটল অত্যন্ত কার্যকর। এটি শরীরে জলের ভারসাম্য বজায় রেখে ডিহাইড্রেশন রোধ করে।
২. পেট ভাল রাখে
গরমের সময় পরিপাকতন্ত্র কিছুটা সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। পটলে থাকা পর্যাপ্ত ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। এটি পাকস্থলী ঠান্ডা রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
৩. লিভারের জন্য ভাল, ত্বকের জন্যও
পটল রক্ত পরিশুদ্ধ করতে সাহায্য করে এবং লিভারের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। গরমে নানা ধরনের ব্যাক্টেরিয়া জনিত পেটের রোগ এবং জন্ডিসের মতো রোগ বাড়ে। সেই রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে পটল। রক্ত পরিশোধন করে বলে গরমের সময় হওয়া বিভিন্ন চর্মরোগ থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়।।
৪. ওজন নিয়ন্ত্রণ ও হার্টের যত্ন
পটলে ক্যালোরির পরিমাণ অত্যন্ত কম কিন্তু পুষ্টিগুণ প্রচুর। যারা ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য এটি আদর্শ আনাজ হতে পারে। এছাড়া পটলে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
৫. রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ে
পটলে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি এবং প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান (যেমন- ম্যাগনেসিয়াম, কপার ও পটাশিয়াম) রয়েছে। এগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে গরমে জ্বর, সর্দি ও ইনফ্লুয়েঞ্জা থেকে শরীরকে রক্ষা করে।
যা মনে রাখবেন
পটলের পুষ্টিগুণ বজায় রাখতে খুব বেশি তেল-মশলা দিয়ে না রেঁধে, হালকা ঝোল বা ভাতে দিয়ে খাওয়া বেশি স্বাস্থ্যকর।