E-Paper

প্রতিবেশী-দৌত্যে নতুন পথে নয়াদিল্লি

রাজনৈতিক শিবিরের মতে, প্রতিবেশী কূটনীতিতে গত কয়েক বছরে ভারতের ব্যর্থতা আলোচনায় উঠেছে। শুধু বাণিজ্য বা অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রটিই নয়, নয়াদিল্লির উদ্বেগ বাড়ছে সীমান্ত নিরাপত্তা, কৌশলগত দ্বিপাক্ষিক স্বার্থের ক্ষেত্রেও।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ ০৮:২৪
দীনেশ ত্রিবেদী।

দীনেশ ত্রিবেদী। — ফাইল চিত্র।

প্রতিবেশী কূটনীতিতে নতুন হাওয়া আনতে চাইছে নয়াদিল্লি। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে এক জন রাজনীতিবিদকে (দীনেশ ত্রিবেদী) পাঠিয়ে সেই বার্তা দেওয়া হয়েছিল। এর পর গত কাল তাঁকে পূর্ণমন্ত্রীর সমমর্যাদা দিয়ে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা হল। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, বাংলাদেশের পর নেপালেও একই ভাবে এক রাজনৈতিক নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে পাঠানোর কথা ভাবা হচ্ছে। চর্চায় রবিশঙ্কর প্রসাদের নাম।

গত কাল দীনেশ ত্রিবেদীকে পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ ঘটনা সাম্প্রতিক অতীতে বিরল। এর আগে মাত্র চার জন রাষ্ট্রদূতকে (ভি কে কৃষ্ণ মেনন, দুর্গাপ্রসাদ ধর, আই কে গুজরাল, ত্রিলোকীনাথ কৌল) পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে।

রাজনৈতিক শিবিরের মতে, প্রতিবেশী কূটনীতিতে গত কয়েক বছরে ভারতের ব্যর্থতা আলোচনায় উঠেছে। শুধু বাণিজ্য বা অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রটিই নয়, নয়াদিল্লির উদ্বেগ বাড়ছে সীমান্ত নিরাপত্তা, কৌশলগত দ্বিপাক্ষিক স্বার্থের ক্ষেত্রেও। কূটনৈতিক শিবিরের একাংশের মতে, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের উপরেও চাপ বাড়ছিল। বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলিতে চিনের আধিপত্য বৃদ্ধি, ভারতের নাকের ডগায় জমানার পরিবর্তন, তীব্র ভারত-বিরোধিতা তৈরি হচ্ছে, অথচ তার মোকাবিলা ঠিক ভাবে করা যাচ্ছে না, এমন ক্ষোভ সরকারের একাংশে তৈরি হয়েছিল।

রাজনৈতিক শিবিরের মতে, দীনেশকে মন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়ার ফলে তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করতে পারবেন। বিদেশমন্ত্রী এবং বিদেশসচিবের মুখাপেক্ষী থাকতে হবে না। আজ থেকেই কার্যত মাঠে নেমে পড়েছেন দীনেশ। ভারতের ভিসা কেন্দ্রে গিয়ে ভিসা নিতে আসা মানুষজনের সঙ্গে বাংলায় কথা বলেছেন, তাঁদের সমস্যার কথা শুনেছেন। এক মা আবেদন জানান, তাঁর সন্তান বিশেষ ভাবে সক্ষম। এ রকম মানুষের জন্য বিশেষত শিশুদের জন্য যদি একটি আলাদা কক্ষের ব্যবস্থা করা হয়, তা হলে সুবিধা হয়। দীনেশ তাঁর কথা শুনে অফিসারদের নির্দেশ দিয়েছেন, একটি আলাদা ঘর করে সেখানে কিছু খেলনা, জল এবং অন্য বন্দোবস্ত রাখার। তিনি খোঁজ নিয়ে দেখেন প্রতিদিন এমন শ’খানেক বিশেষ ভাবে সক্ষম অল্পবয়সি আসে ভিসার জন্য। পরে দীনেশ বলেন, ‘‘ওঁদের কথা শুনে, তাকে সম্মান করে চলা খুবই জরুরি। বাংলাদেশের মানুষ এবং সরকার— উভয়ের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ ভাবে কাজ করতে হবে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

dinesh trivedi Foreign Policy

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy