এ বার আত্মসমর্পণ করলেন মাওবাদী শীর্ষনেতা তিপ্পিরি তিরুপতি ওরফে দেবজি। পিটিআই সূত্রে এমনটাই জানা যাচ্ছে। যদিও আনুষ্ঠানিক কোনও ঘোষণা এখনও করেনি পুলিশ। শোনা যায়, নিষিদ্ধ সংগঠনের অন্দরে সাম্প্রতিক সময়ে তিনিই হয়ে উঠেছিলেন ‘এক নম্বর’ নেতা। গত বছর নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন সিপিআই (মাওবাদী)-র সাধারণ সম্পাদক নাম্বালা কেশব রাও ওরফে বাসবরাজ। তার পর থেকে দেবজিকেই ওই পদে বসানো হয় বলে জল্পনা ছড়ায়। এ বার মাওবাদীদের সেই শীর্ষনেতাই আত্মসমর্পণ করলেন পুলিশের কাছে।
৬২ বছর বয়সি দেবজির মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা। পিটিআই জানাচ্ছে, জঙ্গলযুদ্ধে পটু মাওবাদীদের সশস্ত্র বাহিনী পিপল্স লিবারেশন গেরিয়া আর্মি (পিএলজিএ) তৈরি করেছিলেন তিনিই। পরবর্তী সময়ে সিপিআই (মাওবাদী)-র কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন তিনি। মাওবাদী সংগঠনের পলিটব্যুরো সদস্যও ছিলেন তিনি।
তেলেঙ্গনার জাগতিয়াল জেলা থেকে উঠে আসা দেবজি মাওবাদী সংগঠনের ‘কৌশল’ স্থির করার ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন বলে জানা যায়। একের পর এক শীর্ষ নেতার আত্মসমর্পণ এবং সংঘর্ষে মৃত্যুর জেরে মাওবাদী সংগঠনে নেতৃত্ব স্তরে অভাব দেখা দিতে শুরু করেছে। রবিবার তিরুপতি ওরফে দেবজির আত্মসমর্পণ নিষিদ্ধ এই সংগঠনকে আরও দুর্বল করে দিল বলেই মনে করা হচ্ছে। পিটিআই জানাচ্ছে, দেবজির পাশাপাশি অপর মাওবাদী শীর্ষনেতা মল্ল রাজি রেড্ডি এবং আরও বেশ কয়েক জন মাওবাদী ক্যাডার রবিবার আত্মসমর্পণ করেছেন।
আরও পড়ুন:
আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে দেশ থেকে মাওবাদীদের নির্মূল করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কেন্দ্র। শনিবারও অসম থেকে সেই কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সিআরপিএফ-এর ডিজি জিপি সিংহও জানিয়ে দিয়েছেন, ওই সময়সীমার মধ্যেই দেশ থেকে মাওবাদ নির্মূল করা হবে। কেন্দ্রের বেঁধে দেওয়া ওই সময়সীমার মধ্যেই এ বার আত্মসমর্পণ করলেন মাওবাদী সংগঠনের ‘এক নম্বর’ নেতা।
যদিও এই আত্মসমর্পণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে এখনও কিছু ঘোষণা করেনি পুলিশ। আধিকারিক সূত্রে পিটিআই জানাচ্ছে, দেবজি এবং অন্য মাওবাদী নেতারা তেলঙ্গানা পুলিশের কাছেই রয়েছেন। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক ভাবে আত্মসমর্পণের কথা ঘোষণা করা হবে।