Advertisement
E-Paper

‘দেশের সম্মানহানি’! এআই সম্মেলনে খালি গায়ে কংগ্রেসি বিক্ষোভের নিন্দা করল তৃণমূল, সরব তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বাবুল

গত সোমবার থেকে দিল্লির ভারত মণ্ডপম প্রেক্ষাগৃহে আন্তর্জাতিক এআই সম্মেলনের আসর বসেছিল। শুক্রবার সেখানে বিক্ষোভ দেখান যুব কংগ্রেসের কয়েক জন সদস্য। তৃণমূল তার নিন্দা করল।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:৩১
এআই সম্মেলনে যুব কংগ্রেসের কর্মসূচির নিন্দায় তৃণমূলের মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়।

এআই সম্মেলনে যুব কংগ্রেসের কর্মসূচির নিন্দায় তৃণমূলের মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

নয়াদিল্লির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্মেলনে যুব কংগ্রেসের খালি গায়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির নিন্দা করল পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তথা বিজেপিবিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র অন্যতম শরিক তৃণমূল। দাবি, এতে সারা বিশ্বের সামনে দেশের সম্মানহানি হয়েছে। এই ধরনের কর্মসূচিকে ‘দুর্বল বিচারবুদ্ধির প্রতিফলন’ বলে বর্ণনা করেছেন রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। তাঁর পোস্ট তৃণমূলের সরকারি হ্যান্ডল থেকেও শেয়ার করা হয়েছে।

গত সোমবার থেকে দিল্লির ভারত মণ্ডপম প্রেক্ষাগৃহে আন্তর্জাতিক এআই সম্মেলন শুরু হয়। শুক্রবার সেখানে বিক্ষোভ দেখান যুব কংগ্রেসের কয়েক জন সদস্য। দুপুরের দিকে প্রেক্ষাগৃহে ঢুকে পোশাক খুলে ফেলেন তাঁরা। সেই পোশাক হাতে নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। মূলত, ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্য-সমঝোতার বিরোধিতায় ছিল এই প্রতিবাদ কর্মসূচি। রবিবার বাবুল তার সমালোচনা করে সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘‘দিল্লির এআই সম্মেলনে যুব কংগ্রেসের সদস্যদের খালি গায়ে বিক্ষোভ দুর্বল বিচারবুদ্ধির প্রতিফলন। আন্তর্জাতিক নেতা এবং ব্যবসায়ীরা যেখানে আছেন, সেখানে এই ধরনের আচরণ জাতীয় অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে ভুল বার্তা দেয়। গণতন্ত্রে সকলেরই প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে। তবে দায়িত্বশীলও হতে হবে।’’

কংগ্রেসের এই কর্মসূচির কারণে সারা বিশ্বের সামনে দেশের সম্মানহানি হয়েছে বলে মনে করেন বাবুল। তাঁর কথায়, ‘‘সারা বিশ্বের সামনে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার সময়ে দলীয় নাট্যকারদের আরও পরিণতমনস্ক হতে হবে, সংযম দেখাতে হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য তো থাকবেই, কিন্তু তার জন্য দেশের সম্মান, মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করা চলে না।’’

ঠিক কী ঘটেছিল দিল্লিতে?

শুক্রবার দুপুরে এআই সম্মেলনে তখন বিভিন্ন সংস্থার প্রধানেরা ভাষণ দিচ্ছিলেন। আচমকাই একটি কক্ষের বাইরে শুরু হয় শোরগোল। শুনে কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন উপস্থিত লোকজন। তাঁরা দেখেন, গায়ের জামা খুলে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সমঝোতার বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন কয়েক জন। পরে জানা যায়, তাঁরা যুব কংগ্রেসের কর্মী। এই ঘটনায় পুলিশ বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতারও করেছিল। এর বিরুদ্ধে শনিবার ইনদওরে কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিজেপির যুব মোর্চা বিক্ষোভ দেখায়। দু’পক্ষের সংঘর্ষে সাংবাদিক, পুলিশ আধিকারিক-সহ বেশ কয়েক জন জখম হন। একাধিক এফআইআর দায়ের হয়েছে সেই ঘটনায়।

উল্লেখ্য, আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য-সমঝোতা ঘোষণার পর থেকেই কংগ্রেস তার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও একাধিক বার লোকসভায় এই প্রসঙ্গ তুলেছেন। দাবি, এই সমঝোতা কার্যকর হলে দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষত কৃষকেরা বঞ্চিত হবেন। আন্তর্জাতিক সম্মেলন চলাকালীন বিক্ষোভ দেখিয়ে বিষয়টিতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে চাপে ফেলাই ছিল বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য। তৃণমূল প্রকাশ্যেই তার প্রতিবাদ করল।

বিজেপিবিরোধী জোটশরিক হলেও সাম্প্রতিক অতীতে তৃণমূল এবং কংগ্রেসের মধ্যে একাধিক বিষয়ে দূরত্ব চোখে পড়েছে। লোকসভায় স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছে কংগ্রেস। একাধিক বিরোধী দল সেই নোটিসে স্বাক্ষর করলেও তৃণমূলের কোনও সাংসদ স্বাক্ষর করেননি। মার্চে লোকসভার অধিবেশন ফের শুরু হলে এ নিয়ে ভোটাভুটি হতে পারে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, কংগ্রেসের অনাস্থা প্রস্তাবে তৃণমূলের সাংসদদের সই করতে কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু তার আগে বিজেপি-বিরোধী মঞ্চ ‘ইন্ডিয়া’-ভুক্ত দলগুলিকে যৌথ বিবৃতি দিতে হবে। সে প্রক্রিয়া মানলে তবেই তৃণমূল তাতে সই করবে। আবার, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের জন্য তৃণমূলের উদ্যোগে তেমন আগ্রহ দেখায়নি কংগ্রেস। ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব নিয়ে তৃণমূল সংসদে কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। কিন্তু সূত্রের খবর, রাহুল নিজে এ বিষয়ে তেমন উৎসাহী নন। এ ভাবে একের পর এক বিষয়ে দুই দলের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে।

AI Summit TMC Babul Supriyo Youth Congress
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy