দিল্লির প্রেক্ষাগৃহে শুক্রবার দুপুরে চলছিল কৃত্রিম মেধা (এআই) নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন। তখনই প্রেক্ষাগৃহে ঢুকে গায়ের জামা খুলে হাতে নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন কয়েক জন কংগ্রেস কর্মী। তাঁদের দাবি, ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য- সমঝোতা হলে বঞ্চিত হবে দেশের মানুষ। এই ঘটনায় অন্তত চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানিয়েছে, বাকিদেরও ধরা হবে। বিজেপির কটাক্ষ, ‘হিংসার’ কারণেই এ সব করেছে কংগ্রেস। অন্য দিকে, ভারত-সহ অন্তত ৭৫টি দেশ এআই প্রযুক্তির উন্নয়নের অঙ্গীকার করে একটি চুক্তিতে সই করতে চলেছে। এই নিয়ে বিশদে জানাবেন কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।
শুক্রবার দিল্লির ভারত মণ্ডপমে চলছিল এআই সম্মেলন। বিভিন্ন সংস্থার প্রধানেরা এই বিষয়ে ভাষণ দিচ্ছিলেন। আচমকাই একটি কক্ষের বাইরে শুরু হয় শোরগোল। শুনে কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন উপস্থিত লোকজন। তাঁরা দেখেন, গায়ের জামা খুলে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সমঝোতার বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন কয়েক জন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা কংগ্রেসের কর্মী। প্রসঙ্গত, কংগ্রেস প্রথম থেকেই বাণিজ্য- সমঝোতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে। তাঁদের দাবি, এই সমঝোতায় দুই দেশ সই করলে বঞ্চিত হবেন ভারতবাসী। বঞ্চিত হবেন দেশের কৃষকেরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতেরা হলেন যুব কংগ্রেসের জাতীয় সম্পাদক কৃষ্ণ হরি, বিহার যুব কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক কুন্দন যাদব, উত্তরপ্রদেশ যুব কংগ্রেসের সহ-সভাপতি অজয় কুমার, যুব কংগ্রেসের জাতীয় সহায়ক নরসিংহ যাদব। তাঁদের শুক্রবার আদালতে হাজির করানো হয়। পুলিশের একটি সূত্র বলছে, কোনও ভাবে কিউআর কোড দেওয়া পাস জোগাড় করে সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করেছিলেন ওই কংগ্রেসকর্মীরা। বাকি প্রতিবাদীদেরও চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হবে। অভিযোগ, তাঁদের বাধা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন পুলিশকর্মীরাও। তদন্তকারীদের সূত্র মনে করছে, এই বিক্ষোভের নেপথ্যে বড় কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে। সেই মতো তদন্ত করা হচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের প্রথমে পরিকল্পনা ছিল, কালো ছাতা নিয়ে সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করে বিক্ষোভ দেখাবেন। পরে তাঁরা বুঝতে পারেন, এ ভাবে সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করতে গেলে প্রথমেই আটক হতে পারেন। তাই স্টিকার লাগানো টিশার্ট পরে সেখানে প্রবেশ করেন। পরে তা খুলে প্রতিবাদ করেন।
আরও পড়ুন:
কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ এই ঘটনাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতকে বদনাম করার চেষ্ট চলছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব কংগ্রেসের এই পদক্ষেপকে ‘নির্লজ্জ’ বলে জানিয়েছেন। তিনি এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট দিয়ে লেখেন, ‘ভারত যখন নিজেকে বিশ্বের প্রযুক্তিক্ষেত্রে শক্তিশালী করে তুলছে, তখন কংগ্রেস দেশকে লজ্জিত করছে। এটা রাজনৈতিক বিরোধিতা নয়, ভারতের বিশ্বে যে ভাবমূর্তি রয়েছে, তাকে হেয় করার চেষ্টা চলছে।’ বিজেপির দাবি, ‘হিংসা’য় এ সব করছে কংগ্রেস।
অন্য দিকে, প্রায় ৭৫টি দেশ এআই নিয়ে একটি অঙ্গীকারপত্রে সই করতে চলেছে, নাম ‘দিল্লি চুক্তি’। কেন্দ্রীয় সরকার সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই অঙ্গীকার বাধ্যতামূলক নয়, তবে ওই দেশগুলি মানুষের কল্যাণে এআই ব্যবহার করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি বিবৃতি বলছে, এআই যখন মানুষের উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা যাবে, তখনই তা সার্থক হবে। বৈষ্ণব জানিয়েছেন, শনিবার এই নিয়ে বিশদে বিবৃতি দেওয়া হবে। তার পরেই জানা যাবে, কারা অঙ্গীকারপত্র বা চুক্তিতে সই করেছেন।