খলিস্তানপন্থী সন্ত্রাসবাদী হরদীপ সিংহ নিজ্জরের হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত ‘স্পর্শকাতর তথ্য’ প্রকাশ্যে না-আনার জন্য কানাডার সরকারের তরফে সে দেশের আদালতের কাছে আবেদন জানানো হল। কানাডার সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবাল নিউজ়’ জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নের সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে বলেছেন, ‘‘ওই সব তথ্য প্রকাশ্যে এলে তা ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে ক্ষতিকারক হতে পারে।’’
খলিস্তানি নেতা নিজ্জরকে ২০২০ সালে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে ঘোষণা করেছিল ভারত। তার তিন বছর পর ২০২৩ সালের ১৮ জুন কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ার সারের একটি গুরুদ্বারের সামনে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর পরেই নিজ্জর হত্যাকাণ্ডে ভারতের ‘ভূমিকা’ রয়েছে বলে অভিযোগ তোলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সরকার। তাঁর ওই মন্তব্যের জেরে চিড় ধরেছিল ভারত-কানাডা সম্পর্কে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কানাডাকে পাল্টা দোষারোপ করেন বিচ্ছিন্নতাবাদী, খলিস্তানপন্থীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য। কূটনীতিকদের প্রত্যাহার-পাল্টা প্রত্যাহার শুরু হয়।
সংঘাতের আবহেই নিজ্জর-খুনে জড়িত সন্দেহে ২০২৪ সালের মে মাসে চার জন ভারতীয় এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূতকে গ্রেফতার করে কানাডা পুলিশের ইন্টিগ্রেটেড হোমিসাইড ইনভেস্টিগেশন টিম (আইএইচআইটি)। ধৃত করণ ব্রার, কমলপ্রীত সিংহ, করণপ্রীত সিংহ এবং আমনদীপ সিংহের বিরুদ্ধে ‘খুন’ এবং ‘খুনের চক্রান্তে’ জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়। তাঁরা বর্তমানে জামিনে মুক্ত রয়েছেন। অগস্ট থেকে তাঁদের বিচার শুরু হওয়ার কথা। বর্তমানে কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী কার্নের আমলে আবার দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের শীতলতা কাটানোর উদ্যোগ শুরু হয়েছে। প্রাক্-বিচার শুনানিতে কানাডা সরকারের তরফে তথ্য গোপন রাখার এই উদ্যোগ ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন।