সংবাদমাধ্যমের কারণে তাঁর পরিবারকে ‘হেনস্থা’র শিকার হতে হচ্ছে। এমনই অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হলেন দিল্লির এসইউভি কাণ্ডে অভিযুক্ত নাবালকের বাবা। দিল্লি হাই কোর্ট শুক্রবার কেন্দ্র সরকার এবং সংবাদমাধ্যমগুলিকে নোটিস জারি করে নির্দেশ দিয়েছে, কোনও ভাবেই যেন নাবালকের পরিচয়, তার সম্পর্কিত কোনও তথ্য প্রকাশ্যে না আনা হয়।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি দ্বারকায় বাইক আরোহী এক যুবককে ধাক্কা মারার অভিযোগ ওঠে ওই নাবালকের বিরুদ্ধে। সাহিল ধানাস্রে নামে বাইক আরোহীর মৃত্যু হয়। এই ঘটনা নিয়ে তোলপাড় চলছে রাজধানীতে। অভিযুক্ত নাবালককে আটক করা হয়। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিন দেয় জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ড। ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, কী ভাবে নাবালকের হাতে গাড়ির চাবি তুলে দেওয়া হল? চার দিকে যখন এই ঘটনা নিয়ে তোলপাড় চলছে, অভিযুক্ত নাবালকের বাবা জানান, ছেলের এই কাণ্ডের জন্য তিনি অত্যন্ত দুঃখিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী।
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, ‘‘এটি ভুল ছিল। আমার পরিবারের তরফ থেকে এই ঘটনার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করছি।’’ তাঁর কথায়, ‘‘আমিও একজন সন্তানের বাবা। আমার ছেলে ভুল করছে। আর এর জন্য আমার পরিবারের সকলে অনুতপ্ত।’’ নাবালকের বাবার কথায়, ‘‘ওর বয়স অল্প। তাই ভুল করে ফেলেছে। গাড়ির চাবি নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিল। তবে আমি যদি দিল্লিতে থাকতাম, তা হলে হয়তো এই ঘটনা ঘটত না।’’
অভিযুক্তের বাবার দাবি, যে সময় তাঁর ছেলে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল, স্ত্রী বাড়িতেই ছিলেন। তিনি ছেলেকে বকাঝকাও করেছিলেন। কিন্তু ছেলে শুনতে চায়নি। তবে তিনি বাড়িতে থাকলে ছেলে এই সাহস পেত না। তবে এই ঘটনার পর তাঁর ছেলে কিন্তু পালিয়ে যায়নি। অভিযুক্তের বাবার কথায়, ‘‘আমি যখন ফোন পেয়েছিলাম বাড়ি থেকে, তখন বলেছিলাম আহত যুবককে যেন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।’’ দাবি, তাঁর স্ত্রী তিন বার ফোন করেছিলেন। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে পৌনে ১২টার মধ্যে। তখন স্ত্রীকে তাঁকে জানান, ছেলে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এ কথা শুনে ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন তিনি। ওই দিনই গোরক্ষপুর থেকে দিল্লিতে ফিরে এসেছিলেন।