মাস দেড়েক আগেই কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক এড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভায় হাজির হয়েছিলেন তিনি। মোদীর গুণকীর্তন করেছিলেন দরাজ ভাবে। তার আগে সিঁদুর অভিযানের পরে কংগ্রেসের দেওয়া তালিকা অগ্রাহ্য করে তাঁকে বিদেশগামী প্রতিনিধিদলের সদস্য মনোনীত করেছিল কেন্দ্র। তাঁর বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়েও তৈরি হয়েছিল গুঞ্জন। কেরলের সেই কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর বৃহস্পতিবার সাক্ষাৎ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের সঙ্গে।
বৃহস্পতিবার সকালে দিল্লি পৌঁছে তারুর সংসদ ভবনে দেখা করেন রাহুল গান্ধী এবং খড়্গের সঙ্গে। আগামী এপ্রিল-মে মাসে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গেই কেরলের বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। এই আবহে কংগ্রেস শীর্ষনেতৃত্বর সঙ্গে তিরুঅনন্তপুরমের সাংসদ তারুরের এই সাক্ষাৎ ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে মনে করছেন রাজনীতির কারবারিদের একাংশ। রাহুল-খড়্গের সঙ্গে বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার কার্যত বিজেপিতে যোগদানের জল্পনায় ইতি টেনেছেন রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রাক্তন আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল। তাঁর মন্তব্য, ‘‘সব ঠিক আছে। আমরা এক সঙ্গেই রয়েছি।’’ সংসদ ভবনে ওই এক ঘণ্টার বৈঠকে হাজির ছিলেন এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক তথা কেরলের কংগ্রেস নেতা কেসি বেণুগোপাল।
সম্প্রতি কেরল সফরে গিয়ে রাহুল। সে রাজ্যের প্রথম সারির সব কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। কিন্তু সেই তালিকায় একমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন চার বারের সাংসদ তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তারুর। সূত্রের খবর রাহুলের কোনও কর্মসূচিতেও ডাক পাননি তিনি। কেরলে পুরসভা ভোটের প্রচারেও অনুপস্থিত ছিলেন তারুর। তাঁর সংসদীয় কেন্দ্র, তিরুঅনন্তপুরম পুরসভা দখল করেছিল বিজেপি। গত কয়েক বছর ধরেই কেরলে কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ক্রমশ বাড়ছে। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কেভি টমাস, এআইসিসির প্রাক্তন মুখপাত্র পিসি চাকো, বর্ষীয়ান প্রাক্তন বিধায়ক কেভি গোপিনাথের মতো নেতা দল ছেড়েছেন। এমনকী, মালয়ালি রাজনীতির পাঁচ বছর অন্তর ক্ষমতা পরিবর্তনের ঐতিহ্য অতিক্রম করে ২০২১ সালে ক্ষমতার প্রত্যাবর্তন করেছিল সিপিএম নেতৃত্বাধীন জোট এলডিএফ। ২০২২ সালে খড়্গের কাতে কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচনে পারস্ত হওয়া ইস্তক দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছিল সুদর্শন, সুবক্তা, সুলেখক তারুরের। কেরলে ভোটের আগে তাঁর এই বার্তা কংগ্রেসকে স্বস্তি দেবে বলেই মনে করছেন অনেকে।