Advertisement
E-Paper

বিছানায় সাপের খোলস, উধাও মেয়ে, ‘নাগিন-নাগিন’ বলে কান্না বাবা-মায়ের! পুলিশ বলল, যুবতী তো প্রেমিকের কাছে

বিছানায় পড়ে চুড়ি, গয়না। আর বড় আকারের সাপের খোলস। উধাও ২৪ বছরের যুবতী! পরিবার এবং এলাকাবাসীর দাবি, ওই যুবতী আদতে ‘ইচ্ছাধারী নাগিন!’ উত্তরপ্রদেশের ঘটনা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:২২
Nagin

বিছানায় সাপের খোলস, উধাও যুবতী! ছবি: সংগৃহীত।

গোটা ঘর এলোমেলো। বিছানায় পড়ে আছে প্রায় পাঁচ ফুট লম্বা একটি সাপের খোলস। ঘরে যিনি থাকতেন, তিনি কোত্থাও নেই! খানিক ক্ষণের মধ্যে বাড়িতে শুরু হয় কান্নাকাটি। পাড়াময় রটে গিয়েছে, ‘‘ও বাড়ির রিনা আসলে ইচ্ছাধারী নাগিন!’’

উত্তরপ্রদেশের অরাইয়ার সিঙ্গনপুর গ্রাম থেকে এমন অদ্ভুত অভিযোগ পেয়ে ভ্রু কুঞ্চিত হয়ে যায় পুলিশের। তবে পুলিশ যখন ওই বাড়িতে যায়, গোটা এলাকার লোক উপচে পড়ে। কী ব্যাপার? পুলিশের প্রশ্নে সকলের ভয়ার্ত জবাব, ‘নাগিন-নাগিন’! সকলকে সরিয়ে ঘরে ঢোকেন পুলিশ আধিকারিক এবং কর্মীরা। তাঁরাও দেখেন, বিছানায় সাদা রঙের একটি সাপের খোলস পড়ে আছে। পাশেই একটি আংটি এবং কয়েক গোছা চুড়ি। পরিবারের দাবি, ‘‘রিনা ওগুলো পরে থাকত। কিন্তু নাগিন হয়ে যাওয়ায় ওগুলো খুলে রেখে চলে গিয়েছে।’’

এমনতর গুজবে কী বলবেন বুঝতে পারছিলেন না পুলিশ আধিকারিকেরা। খোঁজখবর শুরু হয়। ২৪ বছরের যুবতীর মোবাইল লোকেশনও ট্র্যাক করা হয়। কিছু ক্ষণ পরে জানা যায়, ওই গ্রামের এক যুবকও নিখোঁজ। একে একে দুই করে নেয় পুলিশ। জানানো হয়, গ্রামের যুবকের সঙ্গেই পালিয়েছেন রিনা। কিন্তু পরিবার তা মানলে তো! শেষমেশ প্রেমিক-প্রেমিকাকে খুঁজে বার করতে দল তৈরি করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার সকালে উঠে রিনার বাড়ির লোকজন দেখেন, মেয়ে নেই। বিছানায় সাপের খোলস, জিনিসপত্র পড়ে আছে। তাই দেখে গুজব রটে যায়। আসলে ও সব কিচ্ছু নয়। ওই যুবতী প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়েছেন।

অরাইয়ার বাসিন্দা রাকেশ বাল্মীকির ছয় সন্তান। সবচেয়ে ছোট রিনা। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন তিনি। সম্প্রতি মেয়েকে পাত্রস্থ করতে উঠেপড়ে লেগেছিলেন বাবা। পাত্র দেখাও হয়ে গিয়েছিল। পুলিশ জানাচ্ছে, ওই কারণেই প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছেন যুবতী।

তদন্তে উঠে এসেছে, গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে রিনার ঘনিষ্ঠতা ফোনালাপের সূত্রে। মায়ের মোবাইল থেকে প্রেমিককে ফোন করতেন তিনি। কিছু দিন আগে প্রেমিককে জানিয়েছিলেন, তাঁর বিয়ে ঠিক হয়ে যাচ্ছে। কিছু একটা করতে। তার পর দীর্ঘ আলোচনা করে এই রাস্তাই বার করেন তাঁরা।

কিছু দিন আগে মন্দিরে গিয়েছিলেন রিনা। সেখান থেকে একটি সাপের মূর্তি কিনে আনেন। বাড়িতে বলেছিলেন, কয়েক দিন ধরে সাপের স্বপ্ন দেখছেন।

বাড়ি ছাড়ার সময় ওই সাপের মূর্তি ছাড়া আর কিচ্ছু নিয়ে যাননি রিনা। আর যে বিছানায় ঘুমোতেন সেটায় সাপের খোলস ফেলে যান। এতেই ‘নাগিন-আতঙ্ক’ শুরু হয়। রিনা যা ভেবেছেন তা-ই হয়েছে। পুলিশ জানাচ্ছে, শেষমেশ মেয়ের বাবা সবটা বুঝেছেন। তিনি স্থানীয় এক যুবকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও করেছেন। এখন যুবক-যুবতীর মোবাইল ট্র্যাক-সহ নানা কায়দায় তাঁদের ধরার চেষ্টা করছে পুলিশ।

Nagina Police case Elope Uttar Pradesh
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy