Advertisement
E-Paper

কয়লাকাণ্ড: মামার ব্যবসা বাম আমলে, ভাগ্নের বাড়বাড়ন্ত তৃণমূল জমানায়, ইডির হাতে পাকড়াও ‘বাদশা’র দুই মাথা!

কিরণের বাড়ি আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভার রানিগঞ্জের বক্তানগর এলাকায়। চিন্ময় দুর্গাপুরের বাসিন্দা। মঙ্গলবার দু’জনকে গ্রেফতার করেছে ইডি। কী এঁদের পরিচয়?

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:৫৭
Coal Scam Arrest

(বাঁ দিকে) কিরণ খাঁ। চিন্ময় মণ্ডল (ডান দিকে)। —নিজস্ব ছবি।

কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে ডেকে পাঠানো হয়েছিল পশ্চিম বর্ধমানের মামা-ভাগ্নেকে। কয়লাকাণ্ডে নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছিলেন দু’জনে। শেষমেশ আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের বাসিন্দা কিরণ খাঁ এবং চিন্ময় মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল। ইডি সূত্রে খবর, তদন্তে উঠে এসেছে শিল্পাঞ্চলে পুরনো এক সিন্ডিকেটের যোগসাজশের কথাও।

কিরণের বাড়ি আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভার রানিগঞ্জের বক্তানগর এলাকায়। চিন্ময় দুর্গাপুরের বাসিন্দা। কিরণ চিন্ময়ের বোনপো। স্থানীয় সূত্রে খবর, অবৈধ কয়লা ব্যবসায় মামার হাতেখড়ি হয়েছিল বাম আমলে। সে সময় চিন্ময়-সহ পাঁচ জন মিলে শিল্পাঞ্চলে সিন্ডিকেট পরিচালনা করতেন। তাতে ছিলেন সুন্দর, রাজু, বাবু এবং রশিদ নামে চার ব্যক্তি। আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে ওই সিন্ডিকেটকে একসময় ‘বাদশা’ বলা হত।

ইডি-র একটি সূত্রে খবর, ওই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে ছিলেন শিল্পাঞ্চলের এক নাম করা ব্যবসায়ী। এঁদের কাজ ছিল অবৈধ উপায়ে উত্তোলন করা কয়লা কম দামে কিনে দূর-দূরান্তের বিভিন্ন কলকারখানায় সরবরাহ করা। এখন চিন্ময় ছাড়া ‘বাদশা’র সঙ্গে পুরনো সদস্যদের কারও যোগ নেই। তবে এটা প্রাথমিক ভাবে মনে করছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা।

অন্য দিকে, অবৈধ কয়লা কারবারে মামার হাত ধরে কিরণের প্রবেশ ঘটে। গত ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে ভাগ্নেই সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন। বাঁকুড়া জেলার মেজিয়াতে তাঁর বালিঘাট রয়েছে। পাশাপাশি কয়লা ব্যবসা এবং জমি কেনাবেচাতেও তিনি যুক্ত। দুর্গাপুর থেকে আসানসোল পর্যন্ত ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের দু’পাশে বিস্তীর্ণ জমির বড় অংশই মামা-ভাগ্নে ‘নিয়ন্ত্রণ’ করেন। তাঁরা বড় বড় আবাসন প্রকল্প তৈরি করেন। ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট বিক্রি করেন। তদন্তকারীদের অনুমান, কয়লা ও বালির ব্যবসা থেকে প্রাপ্ত কালোটাকা সাদা করার উদ্দেশ্যেই প্রোমোটিং এবং জমির ব্যবসায় হাত দেন মামা-ভাগ্নে। কালোটাকা সাদা করার তুলনামূলক সহজ উপায় এটাই। তা ছাড়াও কিরণ কলিয়ারির বৈধ কয়লা লিফ্‌টিং ও ট্রান্সপোর্টিংয়ের কাজও করে থাকেন।

২০২১ সালে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ অভিযানে চিন্ময়-সহ তাঁর সহযোগীরা গ্রেফতার হয়েছিলেন। পুলিশ সূত্রে খবর, অবৈধ ভাবে বালি মজুত করার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই সময়ে তাঁদের প্রায় এক কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। মামলাটি করেছিলেন এক বিএলআরও।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি চিন্ময়-কিরণের বাড়িতে একযোগে তল্লাশি চালায় ইডি। একই দিনে জামুড়িয়ার ব্যবসায়ী রাজেশ বনসলের বাড়ি থেকে প্রায় এক কোটি টাকা উদ্ধার করে তদন্তকারী সংস্থা। বুদবুদ থানার ওসি-র বাড়িতেও তল্লাশি চলে। ইডির দাবি, কয়লা তো বটেই শিল্পাঞ্চলে আরও অবৈধ কারবারের তথ্য পাওয়া যেতে পারে পশ্চিম বর্ধমানের মামা-ভাগ্নের কাছ থেকে। মামলায় তদন্ত আরও জোরদার হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। প্রায় ১৫০ কোটি টাকার বেআইনি লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে দু’জনের বিরুদ্ধে। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দু’জনকে হেফাজতে পেয়েছে ইডি।

Coal Scam coal supply ED arrest Durgapur Asansol Durgapur Police Commissionerate
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy