Advertisement
E-Paper

অচেনা খেলায় বিশ্বজয়ের স্বপ্ন সুদর্শনপুরে

নাম না জানা খেলার হাত ধরে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছে হাইলাকান্দির প্রত্যন্ত গ্রামের কিশোরীরা। অলিম্পিকে পি ভি সিন্ধু, সাক্ষী মালিক, দীপা কর্মকারদের সাফল্যে তাঁদের জেদ কয়েক গুণ বেড়েছে।

অমিত দাস

শেষ আপডেট: ২২ অগস্ট ২০১৬ ০২:৫৪
সুদর্শনপুরে সেপাক টাকরাও খেলোয়াড়রা। অমিত দাসের তোলা ছবি।

সুদর্শনপুরে সেপাক টাকরাও খেলোয়াড়রা। অমিত দাসের তোলা ছবি।

নাম না জানা খেলার হাত ধরে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছে হাইলাকান্দির প্রত্যন্ত গ্রামের কিশোরীরা।

অলিম্পিকে পি ভি সিন্ধু, সাক্ষী মালিক, দীপা কর্মকারদের সাফল্যে তাঁদের জেদ কয়েক গুণ বেড়েছে। ‘সেপাক টাকরাও’ খেলায় সবার নজর কাড়তে প্রস্তুত হচ্ছেন তাঁরা।

থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়ার মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশে এই খেলা অত্যন্ত জনপ্রিয়। কয়েক বছর আগে ভারত জেনেছে ওই খেলার রীতিনীতি। গত বছর থেকে হাইলাকান্দিতেও ওই খেলার প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। জেলার প্রত্যন্ত সুদর্শনপুর গ্রামে কিশোর-কিশোরীরা মেতেছে ওই খেলায়। সেপাক টাকরাও খেলার সঙ্গে হাইলাকান্দির পরিচয়ের পিছনে একটা কাহিনি রয়েছে।

ওই খেলার আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় এবং জাতীয় মহিলা দলের কোচ বিধুমুখী সিংহ বিবাহসূত্রে সুদর্শনপুর গ্রামে আসেন। গ্রামে খেলার পরিবেশ দেখে নিজেই উদ্যোগ নিয়ে শুরু করেন সেপাক টাকরাও-এর প্রশিক্ষণ। এগিয়ে আসেন গ্রামের মানুষও। চাঁদা তুলে কেনা হয় খেলার বিশেষ ধরনের বল। ফাইবারের ওই বল তৈরি হয় থাইল্যান্ডে। গ্রামের ৫০-৬০ জন কিশোর কিশোরী খেলা শিখতে শুরু করে। স্ত্রী বিধুমুখীর পাশে দাঁড়ান মণীন্দ্র সিংহ। মনীন্দ্রবাবুও অসম সেপাক টাকরাও সংস্থা অনুমোদিত এক রেফারি।

ভলিবলের সঙ্গে অনেকটা মিল রয়েছে সেপাক টাকরাও–এর। তবে পা দিয়ে খেলা হয়। মূলত ‘ইন্ডোর গেম’ হলেও পরিকাঠামোর অভাবে সুদর্শনপুরে খোলা মাঠেই চলছে সেপাক টাকরাও প্রশিক্ষণ। বিধুমুখীদেবী জানান, এ বছর মহিলাদের জাতীয় সাব জুনিয়র সেপাক টাকরাও প্রতিযোগিতার আসর বসেছিল হায়দরাবাদের কাছে সেকেন্দ্রাবাদে। তাতে সোনা জিতেছে অসম। বিজয়ী দলের পাঁচ জন খেলোয়াড় ছিলেন বরাকের। হাইলাকান্দি থেকে ওই দলে সামিল ছিলেন তিন জন। পদকজয়ী দলের এই ওন কিশোরীর নাম— টি এইচ প্রমিতা সিংহ, এইচ সঙ্গীতা সিংহ এবং কে দেবীতা সিংহ। তিন মেয়ের চোখেই এখন অলিম্পিক খেলার স্বপ্ন।

সুদর্শনপুরের ক্রীড়া সংস্থা ‘জারিবন সেপাক টাকরাও’–এর উদ্যোগে খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ চলছে। পারমিতা, সঙ্গীতা, দেবীতাদের বিশ্বাস— উপযুক্ত পরিকাঠামো পেলে ভবিষ্যতে তাঁরা অলিম্পিকের আসর থেকে এই খেলায় সোনা জিতে নিয়ে আসতে পারেন।

সেপাক টাকরাও এখনও পর্যন্ত অলিম্পিকে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। বিধুমুখীদেবী জানান, আগামী বার তা সামিল হতে পারে। জারিবন সেপাক টাকরাও সংস্থার কর্তা কে রাজেন কুমার সিংহ ও বাবতন সিংহ বলেন, ‘‘সরকার এই খেলার দিকে নজর দিলে আমরাও বিশ্বজয় করতে পারি।’’ বিশেষ করে এশিয়ান গেমসে এই খেলায় ভারতের সোনা জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন খেলোয়াড়, কোচ এবং কর্মকর্তারা।

হাইলাকান্দিতে এখনও কার্যত মণিপুরিরাই সেপাক টাকরাও খেলা নিয়ে উৎসাহী। তবে সেপাক চাকরাও নিয়ে আশাবাদী হাইলাকান্দি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শৈবাল সেনগুপ্ত। তিনি বলেন, ‘‘আন্তঃজেলা প্রতিযোগিতায় এই খেলায় হাইলাকান্দির ফলাফল আশাব্যাঞ্জক।’’ এই খেলার প্রসারের জন্য হাইলাকান্দি ডিএসএ যথেষ্ট চেষ্টা করছে বলেও তিনি দাবি করেন। শৈবালবাবু আরও জানান, সেপাক টাকরাও খেলার জাতীয় শিবিরে হাইলাকান্দির ৭ জন খেলোয়াড় ডাক পেয়েছেন। সুদর্শনপুরের ক্রীড়াপ্রেমী কে রাজেন কুমার সিংহ সেপাক টাকরাওয়ের প্রশিক্ষণের জন্য জমি দিয়েছেন। গ্রামবাসীদের স্বপ্ন, এলাকার কিশোরীরা এক দিন সিন্ধু, সাক্ষী , দীপাদের মতোই ক্রীড়া দুনিয়ার উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে উঠবে। ভারতের জন্য ছিনিয়ে আনবে একের পর এক পদক।

Hailakandi
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy