একদিন হাটে মাঠে ঘুরে, মুষ্টি ভিক্ষা করে গড়ে তোলা একটি কলেজের ইতিকথা উঠে এলো প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে। বর্তমানে ‘ন্যাক’–এর বিচারে ‘এ গ্রেড’ প্রাপ্ত সেই কলেজটিই হচ্ছে হাইলাকান্দির এস এস কলেজ। শুক্রবার কলেজের ৬৫ তম প্রতিষ্ঠা দিবস পালনের আয়োজন করেছিল কলেজ পরিবার। অনুষ্ঠানে নবীন ও প্রাক্তনীদের মেলা বসেছিল। উপস্থিত ছিলেন সদ্য কলেজের গণ্ডি পার করে বিশ্ববিদ্যালয়য়ে পা রাখা ছাত্রটি থেকে প্রবীণতম ছাত্রটিও। উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন অধ্যাপক, অধ্যক্ষ, এমনকী এই কলেজের ভূমিদাতা পরিবারের সদস্যরাও। গান কথা আবেগ আর চোখের জলে প্রাক্তনীরা স্মরণ করেন ফেলে আসা দিনগুলিকে।
১৯৫০ সালে, স্বাধীনতার পরের এক কঠিন সময়ে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজের প্রাক্তন ছাত্র-অধ্যাপকরা পুরনো স্মৃতিচারণায় শোনালেন সৃষ্টিলগ্নের কথা। শুনলেন এই কলেজের বর্তমান ছাত্রছাত্রীরা। একে একে মঞ্চে এসে স্মৃতিচারণ করলেন অনেকেই। কেউ কেউ কেঁদেও ফেললেন। সামনে এল অনেক না জানা তথ্য।
আলোচকগণ আজকের এই যান্ত্রিক যুগে মূল্যবোধে বিশ্বাসী হওয়ার পরামর্শ দেন ছাত্রদের। জ্ঞানের আলোই মানুষের উন্নয়নের একমাত্র পন্থা বলে প্রাক্তনীরা অভিমত ব্যাক্ত করেন। তাঁরা এস এস কলেজের ছাত্রদের অত্যন্ত সুশীল বলে প্রশংসাও করেন।
কলেজের ভূমিদাতা প্রয়াত প্রতাপ চন্দ্র নাথের পুত্র, পঙ্কজ নাথ স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ‘‘তখনকার সময়ে পণ্ডিত শিশির করশাস্ত্রী হাইলাকান্দিতে একটি কলেজ স্থাপনে উদ্যোগী হন। তাঁর চেষ্টায় হাইলাকান্দির কয়েকজন উকিলের সাহায্যে হাইলাকান্দির টাউন হলে ২৭ জন ছাত্রকে নিয়ে এস এস কলেজের যাত্রা আরম্ভ হয়েছিল।’’ কলেজ ভবন নির্মাণের জন্য তাঁর পিতা প্রতাপ চন্দ্র নাথ জমি দান করেছিলেন । পঙ্কজ বাবু এদিন আবেগ তাড়িত হয়ে বলেন, তাঁর পিতা এই কলেজের জায়গা দান করায় তিনি আজ গর্বিত। কলেজের জন্য এবং পিতার জন্যও।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে সভার আরেক বক্তা, প্রাক্তন ছাত্র তথা বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নীতীশ ভট্টাচার্য এই কলেজ গড়ে ওঠার দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ‘‘প্রয়াত শিশির করশাস্ত্রী, আব্দুল মতলিব মজুমদার এবং প্রতাপ চন্দ্র নাথের মতো কিছু গুণী ব্যাক্তির ত্যাগের ফসল আজকের এস এস কলেজ।’’ তাঁর কথায়, ‘‘একদিন যাঁরা গ্রামের পর গ্রাম পায়ে হেঁটে চাঁদা তুলে এই কলেজ স্থাপন করেছিলেন, তাঁদের কথা স্মরণ করে ছাত্রছাত্রীদের কর্তব্যবোধের শিক্ষা নেওয়া উচিত।’’