Advertisement
E-Paper

কংগ্রেসের টিকিট চেয়ে ময়দানে বহু নেতা

বাবা আর ছেলে দু’টি আসনে প্রার্থী হওয়ার পতাকা পুঁতে দিয়েছেন। কিন্তু হাইলাকান্দি জেলার তৃতীয় কেন্দ্র হাইলাকান্দিতে কংগ্রেস প্রার্থী কে হবেন— তা নিয়ে কাজিয়া তুঙ্গ। ৮৩ বছর বয়সী বর্তমান বিধায়ক আবদুল মুহিব মজুমদার এ বার প্রার্থী হচ্ছেন না। তিনি নিজে বয়সের কারণে লড়তে আগ্রহী নন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০৩:৩৯

বাবা আর ছেলে দু’টি আসনে প্রার্থী হওয়ার পতাকা পুঁতে দিয়েছেন। কিন্তু হাইলাকান্দি জেলার তৃতীয় কেন্দ্র হাইলাকান্দিতে কংগ্রেস প্রার্থী কে হবেন— তা নিয়ে কাজিয়া তুঙ্গ। ৮৩ বছর বয়সী বর্তমান বিধায়ক আবদুল মুহিব মজুমদার এ বার প্রার্থী হচ্ছেন না। তিনি নিজে বয়সের কারণে লড়তে আগ্রহী নন। স্থানীয় কংগ্রেস নেতাদেরও অভিযোগ, ‘জনবিচ্ছিন্ন’ বিধায়ককে আর এই কেন্দ্রে টিকিট দেওয়া চলবে না। তাই, ওই কেন্দ্রে প্রার্থী হতে চেয়ে কংগ্রেসের বিভিন্ন প্রার্থী ইতিমধ্যেই নিজেদের পোস্টার, কাট-আউট লাগিয়ে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন।

হাইলাকান্দিতে এখনও পর্যন্ত কংগ্রেসের টিকিট প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপই সবচেয়ে বেশি। মনাছড়ায় আয়োজিত দলের গণজাগরণ সভায় এক ডজনেরও বেশি টিকিট প্রত্যাশী ভিড় করেছিলেন। তাঁদের অনেকেই মন্ত্রী সিদ্দেক আহমেদের কাছে প্রার্থী হতে চেয়ে দরবার করেন। এখন প্রায় প্রতিদিনই হাইলাকান্দির জেলা কংগ্রেস ভবনে টিকিটি প্রত্যাশীরা নিজেদের সমর্থকদের নিয়ে এসে ‘শক্তি প্রদর্শন’ করছেন। নিজেরা প্রার্থী হতে কংগ্রেসের স্থানীয় নেতারা দলের নেতাদের সমালোচনা করতেও ছাড়ছেন না।

প্রবীণ কংগ্রেস বিধায়ক আবদুল মুহিব মজুমদার তিন বছর ধরে নিজের কেন্দ্রে না আসায় দলের নেতা-কর্মীরা তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই সরব হন। জেলা কংগ্রেস ভবনে দাঁড়িয়ে অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সংখ্যালঘু বিভাগের সহ-সভাপতি আবদুল জলিল চৌধুরী বিধায়ক আব্দুল মুহিবের সমালোচনা করে বলেন, ‘‘জনবিচ্ছিন্ন এই নেতাকে মানুষ আর চাইছে না। এই কেন্দ্র ধরে রাখতে তাই সক্রিয় প্রার্থী প্রয়োজন।’’ আব্দুল জলিল নিজেও হাইলাকান্দি কেন্দ্রে লড়তে চান। এই কেন্দ্রে টিকিট প্রত্যাশীদের তালিকায় হাইলাকান্দি জেলা কংগ্রেসের সম্পাদক ইসাক আলি বড়ভুঁইঞা, হাইলাকান্দি জেলা পরিষদের সভাপতি এনাম উদ্দিন, জেলা পরিষদের প্রাক্তন সহ-সভাপতি জাকির হুসেন, আলিম উদ্দিন, আব্দুল কায়ুম মজুমদার, হিলাল উদ্দিন লস্কর, আব্দুল মুক্তাদির চৌধুরী-সহ আরও কয়েক জন। শুধু মন্ত্রীদের কাছে দরবার করেই ক্ষান্ত নন তাঁরা। প্রত্যেকেই প্রতি দিন হাইলাকান্দি নির্বাচন কেন্দ্রের বিভিন্ন স্থানে পর পর সভা করছেন। বাড়াচ্ছেন জনসংযোগ। হাইলাকান্দির বিভিন্ন স্থানে পোস্টার ও কাট-আউট লাগিয়েও চলছে প্রচার। জেলার অন্য দুই কেন্দ্র কাটলিছড়া ও আলগাপুরে কংগ্রেসের প্রার্থীত্ব প্রত্যাশীর সংখ্যা একেবারেই হাতেগোনা। এখনও

Advertisement

পর্যন্ত কাটলিছড়ায় প্রতাপশালী মন্ত্রী গৌতম রায়ই কংগ্রেস টিকিটের একমাত্র দাবিদার। আর আলগাপুর কেন্দ্রের প্রধান দাবিদার তাঁর পুত্র, প্রাক্তন বিধায়ক রাহুল রায়। পরিবারের মধ্যেই বিভিন্ন অঙ্ক সামলে বর্তমান বিধায়ক তথা মা মন্দিরা রায়ের স্থানে প্রার্থী হচ্ছেন রাহুল। ওই কেন্দ্রে আরও এক দাবিদার প্রাক্তন জেলা পরিষদ সদস্য আফতাব উদ্দিন লস্কর।

ভোটের দিন ঘোষণার আগে শেষ পর্যায়ের প্রচার ও খয়রাতির ঝড় তুলেছেন গৌতমবাবু। কাটলিছড়া-সহ হাইলাকান্দির বিভিন্ন স্থানে সভায় প্রধানমন্ত্রী আর বদরউদ্দিন আজমলের সমালোচনায় মুখর তিনি। তিন দিন ধরে দক্ষিণ হাইলাকান্দির বিলাইপুর, বড়থল, ঘাড়মুড়া, কাটলিছড়ায় অ্যাম্বুল্যান্স ও অন্যান্য সামগ্রী বিতরণ করে তিনি বলেন, ‘‘মোদী বা আজমলের ক্ষমতা থাকলে তাঁরা আমার বিরুদ্ধে কাটলিছড়ায় এসে নির্বাচনে দাঁড়ান। ক্ষমতা থাকলে আমাকে ভোটে পরাজিত করে দেখান।’’

গগৈয়ের মন্ত্রিসভার আরও এক মন্ত্রী সিদ্দেক আহমেদ বিভিন্ন সভায় এআইইউডিএফ প্রধান আজমল ও বিজেপির সমালোচনা করে চলছেন। গগৈ-আজমল মিত্রতার প্রধান মধ্যস্থতাকারী ছিলেন সিদ্দেক। কিন্তু বিস্তর আলোচনার পরেও ওই জোট গড়া সম্ভব হয়নি। তার পর থেকেই সিদ্দেক আজমলের বিরুদ্ধে তোপ দাগছেন। আজমলের দাবি, সিদ্দেক কংগ্রেসে থেকেও গোপনে তাঁর হয়েই কাজ করছেন। মনাছড়ায় মন্ত্রী সিদ্দেক বলেন, ‘‘আজমল সাম্প্রদায়িতার তাস খেলে অসমের সংখ্যালঘুদের বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। রাজ্যের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র রাখতে কংগ্রেসকে ভোট দিতে হবে। আজমলকে একটিও ভোট দেওয়ার অর্থ বিজেপির হাত শক্ত করা।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy