নাগপুরে সঙ্কেতটি পৌঁছেছিল অনেক আগেই। সময়টা সঠিক ভাবে বলতে গেলে বলতে হবে পশ্চিমবঙ্গের গত পঞ্চায়েত ও পুরসভা নির্বাচনের পর। ১৯৯৮ সালে এই রাজ্য থেকে দুজন সাংসদ পেয়েছিল বিজেপি। সেই সময় তাদের রাজ্যে ভোট ছিল ১১ শতাংশ। কিন্তু সেই ভোট সীমাবদ্ধ ছিল রাজ্যের কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে। গত পঞ্চায়েত ও পুরসভা নির্বাচনের পর ফলাফল বিশ্লেষণ করতে গিয়েই নাগপুরে আর এস এস নেতৃত্ব বুঝতে পারেন, যে ভোট এসেছে বিজেপি-র ঝুলিতে তা নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল থেকে নয়, প্রায় গোটা পশ্চিমবঙ্গ থেকেই।
ওই অঙ্কই উৎসাহিত করে সঙ্ঘ পরিবারকে। মোদীকে সামনে রেখে দিল্লি দখলের যে কৌশল মোহন ভাগবতরা তৈরি করেন তাতে দুয়োরানির স্ট্যাটাসই ছিল পশ্চিমবঙ্গের। গত পঞ্চায়েত ও পুরসভার নির্বাচনের পরই সমীকরণটা বদলে যায়। পশ্চিমবঙ্গেও ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেন মোহন ভাগবতরা। সারা দেশের মতো পশ্চিমবঙ্গেও নির্বাচনের পরিচালনার ভার হতে তুলে নেয় সঙ্ঘ পরিবার।
প্রার্থী স্থির করা, প্রচারের কৌশল ঠিক করা ছাড়াও প্রতিটি লোকসভা কেন্দ্রে পর্যবেক্ষক হিসেবে সঙ্ঘ পরিবারেরই বাছাই লোক পাঠানো হয়েছিল। এ ছাড়াও প্রচারে নতুন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে রাজ্যে যে আইটি সেল খোলা হয়েছিল সেখানেও রাশ ছিল সঙ্ঘের হাতে। এই অবস্থায় লোকসভা নির্বাচনের ফল থেকে দেখা যাচ্ছে বিজেপি-র প্রাপ্ত ভোট ৬.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৭ শতাংশ হয়েছে। রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনের ১৩টিতে তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার ১০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। তিনটি লোকসভা আসনে তারা দ্বিতীয় হয়েছে। ২৯টি আসনে তৃতীয় স্থান পেলেও সেখানে দ্বিতীয় স্থানাধিকারীর সঙ্গে তাদের ভোটের ফারাক সামান্য।
লোকসভা ভোটের ফলকে বিধানসভা কেন্দ্রওয়ারি হিসেব করলে বি জে পি ২১টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। কলকাতা এবং লাগোয়া চার জেলায় ই ভি এম-এ পদ্ম ফুলের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। লোকসভা ভোটের নিরিখে দেখা যাচ্ছে কলকাতা পুরসভার ১৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৩টিতে তৃণমূলকে পিছনে ফেলে দিয়েছে বিজেপি। মাত্র ৮টি ওয়ার্ডে লালের ছোঁয়া। আর ৬টি ওয়ার্ডে অস্তিত্ব রয়েছে কংগ্রেসের। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে পদ্ম ঝড়ে ঢাকা পড়েছে ঘাসফুল।
তৃণমূল সুপ্রিমোর ‘উন্নয়নের মুখ’ শহর কলকাতাতেই পদ্মের চাষ ইঙ্গিত দিচ্ছে আগামী দিনে বিজেপি-ই দ্বিতীয় শক্তি হিসেবে উঠে আসতে চলেছে। ২০০৮-এর পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে শুরু বামেদের রক্তক্ষরণ। ভোট কমতে কমতে এ বার লোকসভা নির্বাচনে ২৯ শতাংশতে এসে দাঁড়িয়েছে। গত পঞ্চায়েতের প্রাপ্ত ভোট ধরলে প্রায় ১০ শতাংশ ভোট কমেছে বামেদের। অন্য দিকে প্রায় ১০ শতাংশ ভোট বেড়েছে বিজেপি-র। যেখানে তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট অটুট রয়েছে। ক্ষয়িষ্ণু কংগ্রেসের ভোটও প্রায় একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সিপিএম-এর ভোট কমা আর বিজেপি-র উত্থানের মধ্যে সম্পর্ক যে রয়েছে সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। সামনের বছর পুরভোট। তার পরের বছরেই রাজ্যে বিধানসভার ভোট। এই দুটো ভোটেই যে তৃণমূলকে নমো ব্রিগেডের সঙ্গে লড়তে হবে তা আগাম জানান দিচ্ছে এ বারের লোকসভা ভোট।
তিলোত্তমার বাসিন্দাদের মধ্যে ‘নমো’ প্রীতির বিস্তারেও অন্য অঙ্কের সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে। আমার ভাবনায় এই অঙ্ক হল কমবয়েসি ভোটার। ২০১১ সালে বিধানসভা নির্বাচনেই এই কম বয়েসি ভোটাররা সিপিএম-কে ধাক্কা দিতে জোড়া ফুলকেই হাতিয়ার করেছিল। গত তিন বছর রাজ্যে বিশেষ করে শিল্পায়নে ব্যর্থতা তাদের মধ্যে ফুল বদল করেছে। ঘাসফুলের বদলে তারা পদ্মফুলকেই বেছে নিয়েছে। আগামী পুরসভা ভোট যদি সেমিফাইনাল হয় (যদিও তৃণমূল পুরভোট সময়ে করা নিয়ে দ্বিধায় পড়েছে) তা হলে তৃণমূল নেতৃত্বের চিন্তার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। লোকসভা ভোটের নিরিখে ১৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে বাম ও কংগ্রেসকে কয়েক যোজন পিছনে ফেলে বিজেপি ২৩টি ওয়ার্ডে এগিয়ে রয়েছে। ফলে তৃণমূলের সিঁদুরে মেঘ দেখার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। রাজ্যের ভোটচিত্রের এই আবহে আরএসএস সংগঠনের ভিত মজবুত করতে সক্রিয় হয়েছে।
ভোট মিটতেই খোদ সঙ্ঘপ্রধান মোহন ভাগবতের উপস্থিতিতে হাওড়ার উলুবেড়িয়া এবং রায়গঞ্জে বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবির শুরু হয়েছে। গত দশ বছরে রাজ্যে বিজেপি প্রায় ঘুমিয়েই ছিল বলা যায়। ভোটের ফলাফলে উৎসাহিত বিজেপি নেতৃত্বও অত্যন্ত সক্রিয় হয়েছে। বিজেপি সূত্রে খবর, আসন্ন পুরভোটের জন্য এখন থেকেই তাঁরা প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে বিজেপি-র অনেকটা সুবিধা করে দিয়েছে বামেরা।
৯০-এর দশক থেকেই সিপিএম-এর সংগঠন প্রশাসন নির্ভর হয়ে পড়ে। অর্থাৎ মানুষ নয়, দলকে ক্ষমতা রাখতে পুলিশ, প্রশাসন এসডিও এবং বিডিওরাই প্রধান ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। তাই প্রশাসন হাত থেকে চলে যাওয়ার পরেই রাজ্যজুড়ে বামেদের সংগঠন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। একই অবস্থা দলের উপরতলায়। বিমানবাবুর মতো হাতে গোনা কয়েক জন নেতা ছাড়া কেউই বিরোধী রাজনীতিতে সে ভাবে হাত স্যাঁকেননি। তাই মাঠে-ময়দানে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার বদলে সাংবাদিক সম্মেলনে যাত্রা-থিয়েটারের সংলাপের রাজনীতিতেই তাঁরা আটকে রয়েছেন।
২০১১-র আগে পর্যন্ত শাসক দল। তার পরবর্তী প্রধান বিরোধী দলের এমনই অবস্থা যে তারা মানুষকে বোঝাতেই পারেননি লোকসভা নির্বাচনে তাদের ভোট দিলে তারা কী করবেন। ঠিক যে অবস্থা হয়েছিল ২০০৯-এর লোকসভা নির্বাচনে। কোন ইস্যুতে কেন যে তারা ইউ পি এ সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করেছিলেন তা রাজ্যের মানুষের কাছে হিব্রু ভাষার মতো ঠেকেছিল। যার ফল ২০০৪-এ পশ্চিমবঙ্গ থেকে ৩৫ জন বাম সাংসদ লোকসভায় গিয়েছিলেন, সেখানে ২০০৯ সালে সংখ্যাটি ১৫তে নেমে এসেছিল।
দিশাহীন বামনেতৃত্ব এ বারের লোকসভা নির্বাচনে কোনও কেন্দ্রীয় স্লোগান তৈরি করতে পারেনি। বামেদের ক্ষয়িষ্ণুতায় বিরোধী ময়দান শূন্য হয়েছে। প্রকৃতি শূন্য স্থান পছন্দ করে না। প্রকৃতির সন্তান মানুষও করে না। তাই এই পরিসরে সেই শূন্যস্থান ভরাট করেছে বিজেপি। রাজ্যে তৃণমূলের উত্থানে পরিচিতির রাজনীতি যে পায়ের তলায় মাটি পেয়েছে এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। রাজ্যের ২৯ শতাংশ মুসলিম ভোট বাদ দিলে পরিচিতি রাজনীতির প্রতিটি ইঞ্চিতেই তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে বিজেপি হানা দিয়েছে।
রাজ্যে পরিচিতি রাজনীতির ময়দানে মতুয়া ভোটব্যাঙ্কের একটা বড় জায়গা রয়েছে। রানাঘাট ও বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রে মতুয়া সম্প্রদায়ের বড়সড় প্রভাব রয়েছে। এই দুই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস জয়ের ধারা বজায় রাখলেও বিজেপি-র ভোট বিপুল পরিমাণে বেড়েছে। ফলে তৃণমূলের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই দুই কেন্দ্রে বিজেপি-র প্রাপ্ত ভোটের দিকে তাকালেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়। বিধানসভা নির্বাচনে বনগাঁ ও জয়নগর কেন্দ্রের অন্তর্গত ১৪টি বিধানসভা আসনে বিজেপি ভোট পেয়েছিল প্রায় ৯০ হাজার। এ বার সেখানে বিজেপি এই দুই লোকসভা কেন্দ্রে ভোট পেয়েছে ৪ লক্ষ ৮০ হাজারের মতো।
এ বারে লোকসভার সঙ্গে রাজ্যের দুটি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনও হয়। তার মধ্যে একটি বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত শান্তিপুর বিধানসভা। গত নির্বাচনে কংগ্রেস তৃণমূল জোট বেঁধে লড়েছিল। সে বার এই কেন্দ্র থেকে জোটের কংগ্রেস প্রার্থী অজয় দে জিতেছিল ৩৮ হাজারেরও বেশি ভোটে। এ বার দল পাল্টে অজয় দে তৃণমূল। এ বারও তিনিই প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু তাঁর জয়ের ব্যবধান অনেক কমে গিয়েছে। বামেরা দুর্বল থেকে দুর্বলতর হওয়ায় ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় অবশ্য বনগাঁ, রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রে জয়ের ব্যবধান বেড়েছে তৃণমূলের। এই অবস্থায় বিজেপি-র ভোট বাড়া নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।
গত লোকসভা নির্বাচনে রানাঘাট আসনে তৃণমূল প্রার্থী জিতেছিলেন ১ লক্ষ ৭৫ হাজারের মতো ভোটে। বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের জয় এসেছিল ১ লক্ষ ২৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে। এ বার সেখানে তৃণমূল প্রার্থীদের জয়ের ব্যবধান যথাক্রমে ২ লক্ষ এবং ১ লক্ষ ৪৭ হাজার। মনে রাখতে হবে গত লোকসভা নির্বাচনের আগে মতুয়া মন পেতে বামফ্রন্টের নেতা বিমান বসু, অশোক ঘোষ ও নেত্রী বৃন্দা কারাট ছুটে এসেছিলেন মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রাণকেন্দ্র বনগাঁর ঠাকুরনগরে। কিন্তু চিড়ে ভেজেনি, এই অবস্থায় বনগাঁ ও রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপির ভোট বাড়া অন্য ইঙ্গিত বহন করে, সেই ইঙ্গিত হল আগামী বিধানসভা ভোটে লড়াই জমবে ঘাসফুল আর পদ্মফুলে।
সহজ অঙ্কে রাজ্যে বাম ভোটে থাবা বসিয়েছে বিজেপি। কিন্তু একটু তলিয়ে দেখলে বোঝা যাবে কিছু জায়গায় তৃণমূলের ঘরেও চোরা স্রোত বইয়েছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনে বনগাঁয় বিজেপি ভোট পেয়েছিল প্রায় ৪৩ হাজার। গত বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রের অন্তর্গত ৭টি বিধানসভায় বিজেপি-র ঝুলিতে ভোট পড়েছিল ৩৭ হাজারের মতো। এ বার সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লক্ষ ৪৪ হাজার।
এ বার চোখ ফেরানো যাক রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের দিকে। গত লোকসভা নির্বাচনে এই আসনে বিজেপি ভোট পেয়েছিল ৫৭ হাজারের কিছু বেশি। এ বার সেখানে বিজেপি পেয়েছে ২ লক্ষ ৩৩ হাজার। এই দুই আসনেই রাজ্যের অন্যান্য আসনের মতো ভোট কমেছে বামেদের। কিন্তু হিসেব করলে দেখা যাচ্ছে এখানে বামেদের যে পরিমাণে ভোট কমেছে তার থেকে অনেক বেশি গুণ ভোট বেড়েছে বিজেপি-র। অর্থাৎ বিজেপি-র এই ভোট শাসকদলের ঘর থেকে এসেছে বলে ধরে নেওয়াই যেতে পারে। নরেন্দ্র মোদী মানে উন্নয়ন এই হাওয়া যেমন শহর ও শহরাঞ্চলের কমবয়েসি ভোটারদের মন কেড়েছে তেমনই শরণার্থী প্রশ্নে তাঁর অবস্থান ওপার বাংলা থেকে আসা মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যেও নাড়া দিয়েছে।
জাতীয় স্তরে বিজেপি-র উত্থানের পরে জ্যোতিবাবুর আক্ষেপ ছিল কংগ্রেস বিরোধিতার পরিসর তো বামেদের নেওয়া উচিত ছিল। অথচ সেই স্থান নিল বিজেপি। আর বামেরা কেরল, পশ্চিমবঙ্গ এবং ত্রিপুরার বাইরে বেরোতে পারল না। এই তিন রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ঘাঁটি পশ্চিমবঙ্গ। জ্যোতি বসুর সৌভাগ্য তাঁকে দেখে যেতে হয়নি, সেই পশ্চিমবঙ্গে পদ্মর চাষের জন্য ঊর্বর জমি তৈরি করে দিচ্ছে। তবে ২০০৪ সালে বিজেপিকে ঠেকাতে যাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল বামেরা সেই কংগ্রেস এই দুর্দিনে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। বহরমপুরে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেছেন এই রাজ্যে বামেদের ফল যাই হোক তাঁদের একেবারে উপেক্ষা করা যাবে না। অধীরবাবুর এই বক্তব্য কী ২০০৪ সালে দুই শিবিরের মধ্যে যে সখ্য তৈরি হয়েছিল এই রাজ্যে বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে কী সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে? অধীরবাবুর মনে কী আছে তিনিই বলতে পারবেন। তবে এ রকম একাকী পরিস্থিতি কিন্তু প্রকাশ কারাট, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যরা ভেবে দেখতে পারেন। সোভিয়েত রাশিয়ার পতনের পরে ইউরোপের বহু দেশে কমিউনিস্ট পার্টি উধাও হয়ে গিয়েছিল। মত বদলে, পথ পাল্টে সেই সব দেশে নতুন বেশে তারা আবার শক্তি সংহত করেছেন। প্রকাশ কারাটরা অবশ্য সে সব থেকে কোনও শিক্ষা নেননি। তাঁরা এখনও নেতা-নীতি কোনওটাই বদলে বিশ্বাসী নন। গত বিধানসভা নির্বাচনে তবু প্রধান বিরোধী দলের তকমাটা ধরে রাখতে পেরেছিল বামফ্রন্ট। তারপর থেকে ধারাবাহিক ভাবে কমেছে সংগঠনের বহর।
এই পশ্চাৎ গতিতে ছেদ না পড়লে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নিদেন প্রধান বিরোধী দলের তকমাটাও তো জুটবে না। গত বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যরা বলে আসছিলেন সংগঠনকে চাঙ্গা করার পাশাপাশি যে মানুষেরা ভুল বুঝে তৃণমূলের দিকে ঝুঁকেছেন তাদের ফিরিয়ে আনাটাই বড় কাজ। লোকসভা নির্বাচনের পর গৌতম দেবরা বলছেন, যে ভোট বিজেপি-তে চলে গিয়েছে তা ফিরিয়ে আনতে হবে। আসলে প্রকাশ কারাটদের অবস্থা এখন— বিষ উঠেছে মাথায় তাগা বাঁধবি কোথায়?