নিজের ছেলে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। তাই কি থানা থেকে আগেভাগে প্রশ্নপত্র নিয়ে এসেছিলেন ধুবুরির গ্রাহামপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক?
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞানের প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার তদন্তে নেমে এমনটাই সন্দেহ করছে অসম উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। কিন্তু পুলিশ জানিয়েছে, পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে এখনও ওই প্রধান শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়নি।
প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ায়, ২৫ ফেব্রুয়ারি উচ্চ মাধ্যমিকে পদার্থ বিজ্ঞানের পরীক্ষা স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র প্রথমে সংবাদমাধ্যমের হাতে আসে। টিভিতে দেখানো প্রশ্নপত্রের সঙ্গে প্রকৃত প্রশ্নপত্র মিলিয়ে দেখা হয়। দেখা যায়, সব প্রশ্নই মিলে গিয়েছে। ততক্ষণে হোয়াট্সঅ্যাপের মাধ্যমে অনেক পরীক্ষার্থীই ওই প্রশ্নপত্র পেয়ে গিয়েছে। কয়েকটি স্কুলে ঘণ্টাখানেক পরীক্ষা হয়েও গিয়েছিল। সংসদ পরীক্ষা বাতিল করে ফের ১৭ মার্চ পরীক্ষার দিন ঘোষণা করে।
পুলিশের হেফাজতে থাকা প্রশ্নপত্র কী ভাবে ফাঁস হল— তা জানতে তদন্তের নির্দেশ দেন শিক্ষামন্ত্রী শরৎ বরকটকি। মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ জানান, প্রয়োজন হলে সিআইডি এই ঘটনার তদন্ত করবে। প্রথমে জানা গিয়েছিল, ধুবুরির হাটশিঙিমারিতে প্রথম প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। শিক্ষা সংসদের একটি দল হাটশিঙিমারি, মানকাচর এলাকার থানাগুলিতে গিয়ে প্রশ্নপত্র পরীক্ষা করে কোনও অসঙ্গতি পাননি। কিন্তু, ধুবুরির তামারহাট থানা এলাকার অন্তর্গত গ্রাহামপুর উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের জন্য পাঠানো প্রশ্নপত্রের প্যাকেটে ৬০টি প্রশ্নপত্রের মধ্যে একটি কম ছিল। সংসদের প্রতিনিধিরা স্কুলের প্রধান শিক্ষক দীপজ্যোতি বরপাত্রগোঁহাইকে ডেকে পাঠান। গোঁহাই স্বীকার করেন, তিনিই প্যাকেট খুলে একটি প্রশ্নপত্র বের করেছেন। তাঁর দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার খবর জানতে পেরে ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে তিনি একটি প্রশ্নপত্র বের করে যাচাই করেছিলেন। কিন্তু পরীক্ষা বাতিলের কথা ঘোষণা হওয়ার পরে কোন অধিকারে তিনি প্যাকেট খুললেন? সেই প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি ওই প্রধান শিক্ষক। পরে জানা যায়, তাঁর ছেলেও এ বছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেছে। এর পরেই দীপজ্যোতিবাবুর নামে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০বি, ৩৮০, ৪০৯ ও ৪২০ ধারায় তামারহাট থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
গোলোকগঞ্জের সার্কেল ইনস্পেক্টর ভূপেন্দ্র দাস জানান, পরীক্ষাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত সুপারভাইজার-সহ তিনজনের কাছে প্রশ্নপত্র রাখা বাক্সের চাবি থাকে। তাঁরাই প্রয়োজনমতো চাবি খোলেন। এ ক্ষেত্রে অন্যদেরও সন্দেহের ঊর্দ্ধে রাখা হচ্ছে না। পুলিশ পরে সার্কেল অফিসার সব্যসাচী কাশ্যপের নেতৃত্বে দীপজ্যোতিবাবুর বাড়ি থেকে প্রশ্নপত্রটি উদ্ধার করে। কাশ্যপের মতে, প্রশ্নপত্রটি যে অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে— তা দেখে মনে হচ্ছে বেশ কয়েকদিন আগেই তা প্যাকেট থেকে বের করে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনও দীপজ্যোতিবাবুর বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ না মেলায় পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করতে পারেনি। তবে পুলিশের সন্দেহ, দীপজ্যোতিবাবুর ছেলেই সম্ভবত তাঁর মোবাইল থেকে হোয়াট্সঅ্যাপ ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র বন্ধুদের কাছে পাঠিয়েছিল। সেই পথ ধরেই তা ছড়িয়ে পড়ে বাকি রাজ্যে। দীপজ্যোতিবাবু অবশ্য এ দিন সাংবাদিকদেরও বলেন, আমায় মিথ্যে সন্দেহ করা হচ্ছে।’’ শিক্ষামন্ত্রী শরৎ বরকটকি বলেন, ‘‘তদন্তের দায়িত্বে থাকা সংসদের প্রতিনিধিরা প্রধান শিক্ষককেই সন্দেহ করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে।’’