Advertisement
E-Paper

বই আঁকড়েই বাঁচার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন রামেন্দ্র

বাবার পথ ধরেই হেঁটে চলেছেন রামেন্দ্র বইওয়ালা। হাইলাইকান্দি জেলার গ্রাম থেকে শহর— সর্বত্র দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে তিনি বই ফিরি করে চলেছেন। দুই হাতে আর কাঁধের ব্যাগে থাকে রকমারি পঞ্জিকা, চিঠি লেখা শেখার বই, তন্ত্রসাধনার বই, সাধারণ জ্ঞানের বই, আয়ুর্বেদ-হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার বই, স্বামী বিবেকানন্দের জীবনগাথা। এমনকী গুপ্ত রোগের চিকিৎসা আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে লেখা বইও রয়েছে ওই ঝুলিতে। স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে অফিসযাত্রী এবং ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীরাও তাঁর নিয়মিত গ্রাহক। কে এই বইওয়ালা?

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫ ০৩:১৪
বই হাতে রামেন্দ্র বইওয়ালা। ছবি: অমিত দাস।

বই হাতে রামেন্দ্র বইওয়ালা। ছবি: অমিত দাস।

বাবার পথ ধরেই হেঁটে চলেছেন রামেন্দ্র বইওয়ালা।

হাইলাইকান্দি জেলার গ্রাম থেকে শহর— সর্বত্র দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে তিনি বই ফিরি করে চলেছেন। দুই হাতে আর কাঁধের ব্যাগে থাকে রকমারি পঞ্জিকা, চিঠি লেখা শেখার বই, তন্ত্রসাধনার বই, সাধারণ জ্ঞানের বই, আয়ুর্বেদ-হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার বই, স্বামী বিবেকানন্দের জীবনগাথা। এমনকী গুপ্ত রোগের চিকিৎসা আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে লেখা বইও রয়েছে ওই ঝুলিতে। স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে অফিসযাত্রী এবং ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীরাও তাঁর নিয়মিত গ্রাহক।

কে এই বইওয়ালা?

হাইলাকান্দির আদালত প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়েই জীবনের পাঁচালি শোনালেন রামেন্দ্রবাবু। পুরো নাম রামেন্দ্রকুমার নাথ। বাড়ি হাইলাকান্দির মাটিজুরি-পাইকান গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে চন্দ্রপুর গ্রামে। স্ত্রী, দুই মেয়ে আর এক ছেলের সংসার। অভাব তাঁদের নিত্যসঙ্গী। কিন্তু তবুও বইয়ের পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় পা বাড়াবার কথা ভাবতেই পারেননি তিনি। বাবা রাজেন্দ্রকুমার নাথ চাষের পাশাপাশি বই বিক্রি করতেন। বাবার পাশেই ঘুরতেন রামেন্দ্র। তাই শৈশব থেকেই বন্ধুত্ব বইয়ের সঙ্গে।

দশম শ্রেণী অবধি পড়াশুনা করলেও অভাবের তাড়নায় ম্যাট্রিক পাশ করার স্বপ্ন অধরাই থেকে যায় তাঁর। ১৫ বছর বয়সে বাবার হাত ধরেই বই বিক্রি করতে শুরু করেন রামেন্দ্র। বয়স এখন ৫৫। আবেগতাড়িত রামেন্দ্রবাবু বলেন, ‘‘হাইস্কুলের গণ্ডি পেরোতে পারিনি— এই দুঃখ আমাকে তাড়া করে বেড়ায়। তবু, বইয়ের সঙ্গে যাতে সম্পর্ক থাকে— তাই চা বা চানা বিক্রেতা না হয়ে বইওয়ালাই হলাম। এই ব্যবসায় মুনাফা কম হলেও আনন্দ অনেক। দিনে গড়ে দেড় থেকে দু’শো টাকা পাই। তা দিয়েই যে করে হোক ছেলেমেয়েদের পড়াশুনা শিখিয়ে মানুষ করতে চাই। আমার জীবনের অপূর্ণতা পূর্ণ করতে চাই সন্তানদের মাধ্যমে।’’ রামেন্দ্রবাবু জানান ,সবচেয়ে বেশি কাটতি সাধারণ জ্ঞান, পঞ্জিকা আর আয়ুর্বেদ চিকিৎসার বইয়ের। বইওয়ালা জানান, আজকাল মানুষ চিঠি না লিখলেও, কী করে চিঠি লিখতে হয়— সেই সংক্রান্ত বই কিন্তু নিয়ম করে কেনেন।

তাঁর আক্ষেপ, সরকারি প্রকল্পের সাহায্য তাঁর ভাগ্যে জুটছে না। কয়েক বছর আগে একবারই কল্পতরু প্রকল্পের পাঁচ হাজার টাকা পেয়েছিলেন। তা থেকেও দালালকে দিতে হয়েছিল ৬০০ টাকা। চার দশকে বইয়ের ফিরিওয়ালার কপালে সরকারি সাহায্য বলতে সেটাই। তবু বই আঁকড়ে লড়তে থাকা রামেন্দ্রবইয়ালার আক্ষেপ নেই। তিনি কেবল অক্ষর আর পাতার ঘ্রাণ মেখেই বেঁচে থাকতে চান।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy