Advertisement
E-Paper

বালোচিস্তানে কোণঠাসা পাক ফৌজ, মুনিরের সাহায্যে আসছে চিন সেনা! জয়শঙ্করকে বার্তা মানবাধিকার নেতার

জয়শঙ্করকে পাঠানো চিঠিতে মীর লিখেছেন, ‘‘এই মুহূর্তে বালোচিস্তানে জোরদার প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এবং বালোচ স্বাধীনতা যোদ্ধাদের আরও শক্তিশালী করে তুলতে না পারলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বালোচিস্তানে সেনা মোতায়েন করে দখলদারি কায়েম করবে চিন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:২৪
(বাঁ দিক থেকে) আসিম মুনির, মীর ইয়ার বালোচ এবং এস জয়শঙ্কর।

(বাঁ দিক থেকে) আসিম মুনির, মীর ইয়ার বালোচ এবং এস জয়শঙ্কর। —ফাইল চিত্র।

বালোচ বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলির ঐক্যবদ্ধ হামলার মুখে বিপাকে পড়েছে পাক সেনা। এই পরিস্থিতিতে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের বাহিনী চিনের পিপলস্‌ লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-র সাহায্য নিতে চলেছে। ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই বালোচিস্তানে চিনা ফৌজ মোতায়েন শুরু হতে পারে বলে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে পাঠানো এক বার্তায় জানিয়েছেন বালোচ মানবাধিকতার আন্দোলনের নেতা তথা স্বাধীনতাপন্থী লেখক মীর ইয়ার বালোচ।

জয়শঙ্করকে পাঠানো চিঠিতে মীর লিখেছেন, ‘‘এই মুহূর্তে বালোচিস্তানে জোরদার প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এবং বালোচ স্বাধীনতা যোদ্ধাদের আরও শক্তিশালী করে তুলতে না পারলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বালোচিস্তানে সেনা মোতায়েন করে দখলদারি কায়েম করবে চিন। এমনটা ঘটলে, বালোচিস্তানের ৬ কোটি মানুষের জন্য বটেই, ভারতের জন্যও তা বিপজ্জনক হবে।’’ ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় প্রকাশ্যে ভারতকে সমর্থনকারী বালোচ নেতা তাই এই ‘সঙ্কটের’ মুহূর্তে নয়াদিল্লির সাহায্য চেয়েছেন।

পাকিস্তানের বৃহত্তম প্রদেশ বালোচিস্তান প্রাকৃতিক ভাবে সবচেয়ে সম্পদশালী। কিন্তু ধীরে ধীরে তা বেহাত হয়ে যাচ্ছে বালোচ নাগরিকদের। ‘চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর’ (সিপিইসি) তৈরির পরে গত কয়েক বছরে সেই লুট আরও বেড়েছে। পশ্চিম চিনের শিনজিয়াং প্রদেশের কাশগড় থেকে শুরু হওয়া ওই রাস্তা কারাকোরাম পেরিয়ে ঢুকেছে পাকিস্তানে। প্রায় ১,৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শেষ হয়েছে বালোচিস্তান প্রদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে চিন নিয়ন্ত্রিত গ্বদর বন্দরে।

ওই রাস্তা ব্যবহার করেই ইসলামাবাদ এবং বেজিংয়ের শাসকেরা বালোচিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদ লুট করছে বলে ‘বালোচ ন্যাশনালিস্ট আর্মি’ (বিএনএ), ‘বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি’ (বিএলএ)-র মতো স্বাধীনতাপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির অভিযোগ। এমনকি, সম্প্রতি গ্বদর উপকূলের মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে মাছ ধরাও চিনাদের আপত্তিতে বন্ধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এর প্রতিবাদে দীর্ঘ দিন ধরেই সশস্ত্র লড়াই চালাচ্ছে স্বাধীনতাপন্থী বালোচ সংগঠনগুলি।

প্রসঙ্গত, ১৯৪৭ সালের ১১ অগস্ট ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল দেশীয় রাজ্য কালাত। ১২ অগস্ট কালাতের শাসক মির সুলেমান দাউদ স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু সেই স্বাধীনতার মেয়াদ ছিল মাত্র সাত মাস! ১৯৪৮-এর ২৭ মার্চ পর্যন্ত। বালোচিস্তানের মানুষের কাছে সেই দিনটা আজও যন্ত্রণার ‘পরাধীনতা দিবস’! সাত দশক আগে ওই দিনেই পাকিস্তানি সেনা দখল করেছিল বালোচিস্তান। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তৎকালীন শাসককে বাধ্য করেছিল পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হতে। পরবর্তী ইতিহাস নতুন স্বাধীনতা যুদ্ধের। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস আর কয়েক হাজার মানুষের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার।

‘বালোচিস্তানের গান্ধী’ বলে পরিচিত স্বাধীনতাপন্থী নেতা আবদুল কাদির বালোচ বছর কয়েক আগে দিল্লি এসে বলেছিলেন, তাঁরা চান ১৯৭১-এ ভারত যে ভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিল, সে ভাবেই পাশে দাঁড়াক বালোচদের। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে বালুচিস্তানের উপর পাক নিপীড়ন বন্ধের জন্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে সরব হওয়ার আবেদনও জানিয়েছিলেন তিনি। লালফৌজের সম্ভাব্য হামলার মুখে দাঁড়িয়ে আবার ভারতের কাছে সাহায্যের আর্তি জানালেন বালোচ স্বাধীনতা সংগ্রামীরা।

Balochistan Balochistan Liberation Army BLA PLA Field Marshal Asim Munir Pakistan Army S jaishankar China India-Pakistan China-Pakistan Economic Corridor China-Pakistan Relation
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy