লাদাখের পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের বক্তৃতার ভুল অনুবাদ করে আদালতে পেশ করা হয়েছে! সোমবার তাঁর পক্ষের আইনজীবী কপিল সিব্বল এমনই দাবি করেন সুপ্রিম কোর্টে। যা নিয়ে শীর্ষ আদালত কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। সওয়াল-জবাবে সোমবার সুপ্রিম কোর্টে উঠেছে অনুবাদের অসঙ্গতির প্রসঙ্গ। তবে সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নে কেন্দ্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (এআই) ঢাল করেছে।
যে সব বক্তৃতার ভিডিয়োকে সামনে রেখে ওয়াংচুককে গ্রেফতার করা হয়, তার অনুবাদ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অরবিন্দ কুমার ও বিচারপতি পি ভিভারালের বেঞ্চ জানায়, তারা অন্তত সঠিক অনুবাদ আশা করেছিল। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, আদালতে দাখিল করা ভিডিয়ো-অনুবাদটি দীর্ঘ। সুপ্রিম কোর্ট বলে, ‘‘উনি (সোনম ওয়াংচুক) যা বলেছেন, তার অন্তত সঠিক অনুবাদ হওয়া উচিত। আমরা এটাই আশা করি।’’ তার পরেই কেন্দ্রের উদ্দেশে আদালত বলে, ‘‘আপনাদের অনুবাদ সাত-আট মিনিটের। কিন্তু তাঁর বক্তৃতা ছিল কেবল তিন মিনিটের। সেই বক্তৃতায় তিনি কী বলেছিলেন? আমি এর (সহিংসতার) নিন্দা করি, এটা বন্ধ হোক! এই তো?’’
বেঞ্চের প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবী তথা অতিরিক্ত সলিসিটর কেএম নটরাজ বলেন, ‘‘অনুবাদটি সংশ্লিষ্ট বিভাগ করেছিল। ওই ভাষা জানা নেই। এআই-এর যুগে অনুবাদগুলি নির্ভুল বলে মনে করা হয়।’’ পাল্টা সিব্বলের সওয়াল, ‘‘এআই খুব বিপজ্জনক হতে পারে। ওয়াংচুক আসলে কী বলেছেন তা আদালতের খতিয়ে দেখা উচিত।’’
আরও পড়ুন:
গত শুনানিতে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছিল, ওয়াংচুককে মুক্তি দেওয়া সম্ভব নয়! কেন সম্ভব নয়, আপত্তির কারণ কী, তার জবাব চেয়েছিলেন সিব্বল। সোমবারের শুনানিতে সেই বিষয়টি উত্থাপিত করে তিনি বলেন, ‘‘সরকার জবাব দিতে ব্যর্থ।’’ তার পরই ওয়াংচুকের বক্তৃতার অনুবাদের প্রসঙ্গ তোলেন কপিল। গত বছর ২৬ সেপ্টেম্বর লাদাখে ‘অশান্তিতে মদত দেওয়ার জন্য’ আটক করা হয়েছিল ওয়াংচুককে। তাঁকে আটক করার দু’দিন আগের অর্থাৎ ২৪ সেপ্টম্বরের বক্তৃতার কথা আদালতে জানান সিব্বল। তাঁর দাবি, ওটাই আটকের আগে সবচেয়ে কাছের বক্তৃতা। কর্তৃপক্ষ তার ভুল অনুবাদের উপর নির্ভর করেছিলেন। সে দিন ওয়াংচুক কী বলেছেন, তা ব্যাখ্যা করে আদালতকে প্রশ্ন করেন, ‘‘এখানে কোথায় ওয়াংচুক সরকারকে উৎখাতের কথা বলেছেন?’’
ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমোর দায়ের করা আবেদনের শুনানিতে দিন কয়েক আগে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রের কাছে জানতে চেয়েছিল, পরিবেশবিদকে এখনও কেন আটক করে রাখা হয়েছে। ওয়াংচুকের আইনজীবীর দাবি, তাঁর মক্কেল যথেষ্ট অসুস্থ এবং কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা করে তাঁর কোনও উন্নতিই হয়নি। তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রকে ভাবনাচিন্তা করতেও বলেছিল সুপ্রিম কোর্ট। যদিও পরে কেন্দ্র আদালতে জানায়, গত বছর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখের রাজধানী লেহ্তে হিংসাত্মক বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে ওয়াংচুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই বিক্ষোভে চার জন নিহত এবং ১৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছিলেন। এই পরিস্থতিতে জাতীয় নিরাপত্তার কারণে ওয়াংচুককে মুক্তি দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে কেন্দ্র আরও জানায়, জেলে নিয়ম মেনে ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যপরীক্ষা হয়। তিনি পুরোপুরি সুস্থ।