Advertisement
E-Paper

বিয়ে না-হওয়া পর্যন্ত কাউকে বিশ্বাস করবেন না! বিবাহপূর্ব শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সতর্কবার্তা দু’পক্ষকে

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের ঘটনায় ধর্ষণের মামলা রুজু হয় এক যুবকের বিরুদ্ধে। কিন্তু অভিযোগকারী ওই যুবকের সঙ্গে দুবাইয়ে ঘুরতে গিয়েছিলেন। কেন তাঁর দুবাইযাত্রার প্রয়োজন পড়ল, তা নিয়ে প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৩২
যুগলদের সাবধান করল সুপ্রিম কোর্ট।

যুগলদের সাবধান করল সুপ্রিম কোর্ট। —ফাইল চিত্র।

বিয়ে না-হওয়া পর্যন্ত কাউকে বিশ্বাস করবেন না। যুগলদের সতর্ক করে সোমবার এমনটাই মন্তব্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, বিয়ের আগে ছেলে এবং মেয়ে উভয়ের কাছেই ‘সম্পূর্ণ অপরিচিত’। বিবাহের আগে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁদের সাবধান থাকা উচিত।

বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে সহবাসের এক ঘটনায় এক যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা রুজু হয়। অভিযোগকারী তরুণী ওই যুবকের সঙ্গে দুবাইয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁদের শারীরিক সম্পর্ক হয়। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঞার বেঞ্চে ওই মামলা শুনানির জন্য ওঠে। কেন ওই তরুণী যুবকের সঙ্গে দুবাইয়ে যান, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত। দুই বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছে, পরস্পরের সম্মতিতেই শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘‘হয়তো আমাদের একটু সেকেলে মনে হতে পারে। কিন্তু বিয়ের আগে পর্যন্ত এক জন ছেলে এবং এক জন মেয়ে সম্পূর্ণ অপরিচিত। বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁদের সতর্ক থাকা উচিত।”

বিচারপতি নাগরত্ন বলেন, “আমরা বুঝে উঠতে পারছি না তাঁরা বিয়ের আগে কী ভাবে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারেন। তা সে যত গভীর সম্পর্কই হোক না কেন। আমাদের সেকেলে মনে হতে পারে, কিন্তু আপনাদের খুব সতর্ক থাকা উচিত। বিয়ের আগে কাউকে বিশ্বাস করা উচিত নয়।”

অভিযোগকারী তরুণীর আইনজীবীর বক্তব্য, ২০২২ সালে বিবাহ সংক্রান্ত (ম্যাট্রিমোনিয়াল) এক ওয়েবসাইটে যুবকের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল তাঁর মক্কেলের। তার পর থেকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওই যুবক তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন বলে অভিযোগ জানান তিনি। আইনজীবী জানান, প্রথমে দিল্লিতে দেখা করতেন যুগল। পরে দুবাইয়েও যান দু’জনে। কিন্তু তরুণীর এই দুবাইযাত্রার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি নাগরত্ন। বিচারপতি বলেন, “যদি ওই তরুণী এ বিষয়ে এতই কঠোর হতেন, তবে বিয়ের আগে তাঁর দুবাই যাওয়া উচিত ছিল না।”

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, উভয়ের সম্মতিতেই শারীরিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। বিচার প্রক্রিয়া চালিয়ে অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করার মতো কোনও মামলা এটি নয় বলেও মনে করছেন বিচারপতি নাগরত্ন। তিনি উভয় পক্ষকে বিষয়টি নিজেদের মধ্যে মিটিয়ে নেওয়ার জন্য বলেন। তরুণীকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় অভিযুক্তের আইনজীবীকে। মীমাংসার জন্য সম্ভাব্য দিকগুলি খতিয়ে দেখতে বলা হয় অভিযোগকারীর আইনজীবীকেও। আগামী বুধবার দু’পক্ষের মতামত জানাতে বলা হয়েছে আদালতে।

Supreme Court Physical Relationship
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy