মৌমাছির কামড় থেকে সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন বিচারক মা। মেক্সিকোর জ়াকাতেকাসের সুপিরিয়র কোর্ট অফ জাস্টিসের বিচারক অয়ুকি রামিরেজ় বুরসিয়াগা দীর্ঘ নয় দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর মারা যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথা অনুযায়ী, সন্তান ছাড়া তিনি তাঁর বাবাকেও মৌমাছির কামড় খাওয়া থেকে রক্ষা করছিলেন। আশপাশে থাকা মানুষদেরও তিনি বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে জানতে পারা গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
পরিস্থিতি ভয়াল হয়ে উঠলে রামিরেজ় কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্য চাইতে ছুটে যান। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী খবর, উদ্ধারকারী দলের কাছে মৌমাছিগুলিকে তাড়ানোর জরুরি ব্যবস্থাপনা ছিল না। সেই কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও বেশি সময় লেগে যায় বলে জানতে পারা গিয়েছে। রামিরেজ় দায়িত্ব নিয়ে সকলকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছোনোর ব্যবস্থা করেন। সেই সময়ের একটা ছোট্ট ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমের পাতায়। যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
মে মাসের ৩ তারিখ, রবিবার, ৩ বছরের ছেলেকে নিয়ে মেক্সিকোর গুয়াদালুপে একটি খেলার অনুষ্ঠান দেখতে গিয়েছিলেন রামিরেজ়। সঙ্গে ছিলেন বয়স্ক বাবা। হঠাৎই একঝাঁক মৌমাছির হানা পড়ে সেই স্পোর্টস কমপ্লেক্সে। সন্তানকে সেই ভয়াল পতঙ্গদের কামড় থেকে বাঁচাতে বিচারক মা পরনে থাকা সোয়েট শার্ট খুলে তাকে ঢেকে রাখেন। বাবাকেও যতটা সম্ভব আগলে রাখার চেষ্টা করেন। ফলস্বরূপ নিজেকে খেতে হয় অনেকগুলি কামড়।
আরও পড়ুন:
ভয়াল পতঙ্গদের হুল শরীরে ঢুকে যায় রামিরেজ়ের। কিন্তু তা-ও তিনি থামেননি। ভাইরাল এক ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, স্পোর্টস কমপ্লেক্সের বাইরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন রামিরেজ়। সেই স্থানে আসা অ্যাম্বুল্যান্সগুলিকে স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ঢোকার রাস্তা দেখাচ্ছেন তিনি। তখনও রামিরেজ় ছুটে বেড়াচ্ছিলেন। জ্ঞান থাকা অবস্থাতেই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু মাঠে থাকা অন্যান্য যাঁরা আহত হয়েছিলেন, তাঁদের আগে অ্যাম্বুল্যান্সে ওঠার ব্যবস্থা করে দেন রামিরেজ়। তার পর নিজে ওঠেন। রামিরেজ়-সহ মোট সাত জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
রামিরেজ়ের শরীরে অনেকগুলি মৌমাছির হুল ফুটে গিয়েছিল বলে জানতে পারা গিয়েছে। সেই কারণে তাঁর শরীরে ভয়ানক অ্যালার্জি হচ্ছিল। হুলের বিষাক্ত প্রতিক্রিয়ার ফলে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে উঠেছিল এবং শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। কিন্তু নয় দিনের মাথায় তিনি মারা যান।
মাত্র সাত মাস আগেই রামিরেজ় জ়াকাতেকাসের সুপিরিয়র কোর্ট অফ জাস্টিসের বিচারক হয়েছিলেন বলে জানতে পারা গিয়েছে। কিন্তু জ়াকাতেকাসের বিচার বিভাগে তাঁর কাজ করার অভিজ্ঞতা দুই দশকেরও বেশি। বিচারক হওয়ার আগে তিনি একজন খসড়া সচিব হিসাবে কাজ করতেন এবং জনসেবার প্রতি নিষ্ঠার জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। রাজ্যের বিচার বিভাগীয় নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের পর রামিরেজ় বিচারক হিসাবে নিযুক্ত হন। এই পদ রামিরেজ়ের পেশাজীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছিল। তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর জ়াকাতাসের বিচার বিভাগ একটি বিবৃতি প্রকাশ করে শোক জ্ঞাপন করেছে। তাঁর পরিবার এবং বন্ধুদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।