কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে আবার সংঘাতে জড়ালেন দলের বর্ষীয়ান নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মণিশঙ্কর আইয়ার। বিতর্কের সূত্রপাত তাঁরই করা এক মন্তব্য থেকে, যা বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেরলে কংগ্রেসকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। কংগ্রেস নেতারা তাঁর সঙ্গে দূরত্ব রাখা শুরু করতেই আবার সরব হলেন মণিশঙ্কর।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের প্রশংসা শোনা যায় মণিশঙ্করের কণ্ঠে। তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী, আবার কেরলে মুখ্যমন্ত্রী হবেন বিজয়নই! তাঁর সরকারের কাজের প্রশংসাও করেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা। তার পরেই একে একে মুখ খুলতে থাকেন কংগ্রেস নেতারা। প্রায় সকলে একটা কথাই বুঝিয়ে দেন, কংগ্রেসের সঙ্গে মণিশঙ্করের কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি যা মন্তব্য করছেন, তা ব্যক্তিগত।
মণিশঙ্করের মন্তব্যের নিন্দা করে কংগ্রেসের মিডিয়া এবং প্রচার বিভাগের প্রধান পবন খেরা প্রথম মুখ খুলেছিলেন। রবিবার তিনি দাবি করেন, ‘‘ওই নেতার (মণিশঙ্কর) সঙ্গে গত কয়েক বছর ধরে কংগ্রেসের কোনও সম্পর্ক নেই।’’ শুধু পবন একা নন, কংগ্রেস সাংসদ কে সুরেশ, জয়রাম রমেশও একই সুরে সুর মেলান। তার পরেই একে একে কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন মণিশঙ্কর। টেনে আনেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর প্রসঙ্গও।
সংবাদসংস্থা ‘এএনআই’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মণিশঙ্কর বলেন, ‘‘আমি গান্ধীবাদী, আমি নেহরুবাদী, আমি এক জন রাজীববাদী, কিন্তু কখনওই রাহুলবাদী নই!’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আমি কংগ্রেসেই আছি। দলত্যাগ করিনি।’’ তার পরেই পবনকে নিশানা করে মণিশঙ্করের হুঁশিয়ারি, ‘‘উনি যদি আমাকে বহিষ্কার করেন, আমি খুশি হয়ে চলে যাব। কিন্তু দল থেকে যাওয়ার পর ওঁর পিঠে লাথি মারব।’’
আবার বিজয়নের প্রশংসা শোনা যায় মণিশঙ্করের কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘‘কী মনে হয়, কেরলের মানুষ জানেন না কংগ্রেস নেতৃত্বে কী ঘটেছে? অন্তত বিজয়নের সরকারে শৃঙ্খলা রয়েছে। কংগ্রেস পবন খেরার মতো একজনকে মুখপাত্র হিসাবে রেখেছে। আমার তাঁর প্রতি কোনও সম্মান নেই। তবে সম্পূর্ণ অবজ্ঞাও নেই।’’ তাঁর মতে, জয়রামের ‘হাতের পুতুল’ পবন। মণিশঙ্করের কথায়, ‘‘ও একটা পুতুল। জয়রাম রমেশ যা বলেন, তা-ই পুনর্ব্যক্ত করেন। ও মুখপাত্র নন, বরং তোতাপাখি।’’
আরও পড়ুন:
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপালের সমালোচনা করেন মণিশঙ্কর। তিনি বলেন, ‘‘কল্পনা করা যায়, কেসি বেণুগোপালের মতো একজন উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তিকে সর্দার পটেলের স্তরে উন্নীত করে যে দল, তাদের অবস্থা কী হবে?’’ রবিবার ‘ভিশন ২০৩১’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মণিশঙ্কর এবং বিজয়ন। তবে অন্য কোনও কংগ্রেস নেতাকে দেখা যায়নি। সেই মঞ্চ থেকেই কেরলের মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা করেন মণিশঙ্কর। তার পরই শুরু হয় বিতর্ক।
কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জমানায় পঞ্চায়েতিরাজ মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন মণিশঙ্কর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করায় ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে তাঁকে দল থেকে বরখাস্ত করে কংগ্রেস। তবে ২০১৮ সালের অগস্টে তা প্রত্যাহারও করে নেওয়া হয়।