বিধানসভা ভোটের আগে অসম প্রদেশ কংগ্রেসে ডামাডোল। সোমবার সকালেই খবর পাওয়া গিয়েছিল যে, অসমের প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ভূপেন বরা দল থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। বেলায় ভূপেন নিজেই জানান, দলের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গেকে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি। দুপুরে অসমে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা জিতেন্দ্র সিংহ দাবি করেন, ভূপেন পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ভূপেনের পাল্টা দাবি, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য তিনি কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে সময় চেয়েছেন।
২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অসমের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ছিলেন ভূপেন। গত জুন মাসে তাঁকে সরিয়ে প্রয়াত তরুণ গগৈয়ের পুত্র তথা লোকসভায় কংগ্রেসের উপ দলনেতা গৌরব গগৈকে প্রদেশ সভাপতি করা হয়। কী কারণে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন, সকালে তা সবিস্তার জানাননি ভূপেন। ভূপেন বলেন, ‘উপযুক্ত সময়ে’ সাংবাদিকদের ডেকে তিনি সব তথ্য জানাবেন। তবে সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা পিটিআই দাবি করে, খড়্গেকে লেখা চিঠিতে ভূপেন অভিযোগ করেছেন যে, দলে তিনি অবহেলিত হচ্ছিলেন।
ভূপেনের পদত্যাগের খবর ছড়াতেই আসরে নামেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মা। ভূপেন বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন, এমন জল্পনা উস্কে দিয়ে হিমন্ত জানান, তিনি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভূপেনের বাড়িতে যাবেন। তিন বছর আগেই বিজেপি ভূপেনকে স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত ছিল বলেও দাবি করেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে হিমন্ত কী করেন, তা নিয়ে অবশ্য অসমের রাজ্য রাজনীতিতে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
তবে ভূপেনের দলত্যাগ রুখতে সোমবার বেলা থেকে আসরে নামে কংগ্রেসও। তাঁর বাড়িতে গিয়ে কথা বলেন গৌরব, ভাঁওয়ার জিতেন্দ্র সিংহ, প্রদ্যোত বরদলৈয়ের মতো কংগ্রেস নেতারা। জিতেন্দ্র বলেছেন, “ভূপেন ১৫ মিনিট ধরে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা বলেছেন। অসমের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি (গৌরব) তাঁর (ভূপেন) পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।”