জার্মানির মিউনিখে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা সম্মেলনের ফাঁকে পার্শ্ববৈঠক করলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং কানাডার বিদেশমন্ত্রী অনিতা আনন্দ। কানাডার বিদেশ দফতর জানিয়েছে, আগামী মাসে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নের ভারত সফরের খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করতেই এই বৈঠক। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা গভীরতর করা এবং অংশীদারির সুযোগ নিয়ে তাঁরা (জয়শঙ্কর এবং অনিতা) আলোচনা করেছেন।’’
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের পর থেকে এটি ভারত-কানাডা মন্ত্রীস্তরের পঞ্চম বৈঠক। বৈঠকের পর জয়শঙ্কর সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘কানাডার বিদেশমন্ত্রী অনিতা আনন্দের সঙ্গে দেখা করে দারুণ লাগল। এই বৈঠক ভারত-কানাডা সম্পর্কের অবিচল অগ্রগতির প্রতিফলন।’’ শক্তি, প্রযুক্তি এবং বাণিজ্য-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও নিবিড় করার বিষয়ে জয়শঙ্করের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে জানিয়ে অনিতা বলেন, ‘‘ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক সহযোগিতার জন্য কানাডা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমি সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার জন্য উন্মুখ।’’
গত বছর মে মাসে ভারতীয় বংশোদ্ভূত অনিতাকে বিদেশমন্ত্রী নিয়োগ করেছিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নে। তার আগে সে দেশের বিজ্ঞান-প্রযুক্তি এবং শিল্পমন্ত্রী ছিলেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী এই নেত্রী। কার্নের পূর্বসূরি জাস্টিন ট্রুডোর জমানায় খলিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদে কানাডার মদত ঘিরে নয়াদিল্লি-অটোয়া কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছেছিল। এই আবহে ভারতীয় বংশোদ্ভূত অনিতাকে বিদেশমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়াকে নয়াদিল্লির প্রতি কার্নের ‘ইতিবাচক বার্তা’ বলে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন কূটনীতির কারবারিদের অনেকে। ট্রুডোর জমানায় কানাডার পরিবহণমন্ত্রীর পদে থাকা অনিতা ২০১৯ সাল থেকে কানাডার সাংসদ। তামিল পরিবারে জন্ম তাঁর। মা পঞ্জাবি। এর আগে কানাডার প্রতিরক্ষা দফতরের দায়িত্বও সামলেছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রাক্তনী।
ষাটের দশকের গোড়ায় ভারত থেকে কানাডায় চলে আসেন চিকিৎসক দম্পতি সরোজ ডি রাম এবং এস ভি আনন্দ। তাঁদের কন্যা অনিতার জন্ম নোভা স্কোশিয়ার কেন্টভিলে, ১৯৬৭ সালের ২০ মে। ২০১৯ সালে প্রথম বার হাউস অব কমন্সের ভোটে দাঁড়িয়ে অনিতা নির্বাচিত হন ওকভিল থেকে। দায়িত্ব পান ক্রয় ও জনকল্যাণ দফতরের। অতিমারির সময়ে টিকা ও সুরক্ষা সরঞ্জাম আমদানির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। কানাডার ট্রেজ়ারি বোর্ডের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বও পালন করেছেন। ক্ষমতসীন লিবারেল পার্টির অন্দরে মতবিরোধের জেরে ট্রুডোর ইস্তফার পরে যে নেতাদের নাম ‘প্রধানমন্ত্রিত্বের দাবিদার’ হিসেবে উঠে এসেছিল, তাঁদের মধ্যে ছিলেন অনিতাও। যদিও শেষপর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দল বেছে নিয়েছিল কার্নেকে।