পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) কাজের জন্য রাজ্যকে ৮,৮০৫ জনের গ্রুপ-বি অফিসার দিতে বলেছিল সুপ্রিম কোর্ট। এর মধ্যে প্রায় ৬,০০০ জন কর্মী এখনও পর্যন্ত রিপোর্ট করেছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর জানাচ্ছে, ওই ৬ হাজারের মধ্যে আবার ৫০০ জন রয়েছেন এইআরও। যাঁরা ইতিমধ্যে কাজ করছেন।
রাজ্যের দেওয়া কর্মীদের তালিকা থেকে আরও কত জন এইআরও রয়েছেন, সেই তালিকা জেলাশাসকদের দিতে বলা বলা হয়েছে বলেও সিইও দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে সেই সঙ্গেই জানানো হয়েছে, এখনও তাদের কাছে কোনও তালিকা আসেনি। জেলাশাসকদের কাছ থেকে জানা গিয়েছে, ওই কর্মীদের রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। তবে রাজ্যের কাছে চাওয়ার পরেও সকলের বায়োডেটা আসেনি। প্রসঙ্গত, গত ৪ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলায় সওয়াল করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন কমিশনের আইনজীবী জানিয়েছিলেন, রাজ্য সরকার এসআইআরের কাজের জন্য পর্যাপ্ত গ্রুপ-বি অফিসার দেয়নি। তাই বাইরের রাজ্য থেকে আধিকারিকদের নিয়োগ করতে হয়েছে।
কমিশনের ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদালত রাজ্য সরকারকে তালিকা দিতে বলেছিল। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী, বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চ জানিয়েছিল, কত জন গ্রুপ-বি আধিকারিককে রাজ্য সরকার এসআইআর-এর কাজের জন্য দিতে পারবে, তা সোমবারের (৯ ফেব্রুয়ারি) মধ্যে কমিশনকে জানাতে হবে। সেই মতো গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) কমিশনকে সংখ্যা জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল রাজ্যের তরফে। এর পরে গত মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) নবান্নের তরফে মঙ্গলবার একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানানো হয়, রাজ্য সরকারের নজরে এসেছে যে, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ইচ্ছাকৃত ভাবে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া গ্রুপ-বি আধিকারিকদের নামের ডেটাবেসের বিষয়বস্তু বিকৃত করছে, যা মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের ৯ ফেব্রুয়ারির পর্যবেক্ষণ অনুসারে করা হয়েছে।
নবান্নের তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে লেখা হয়— ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকার স্পষ্ট করে জানাচ্ছে যে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া গ্রুপ ‘বি’ কর্মচারীদের তালিকা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ বিভাগ কর্তৃক ০৬.১০.২০২০ তারিখের স্মারকলিপি নম্বর ২১৬০-এফ(জে)ডব্লিউবি-এর মাধ্যমে বিজ্ঞাপিত বিদ্যমান বেতন-স্তরের মানদণ্ডের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভাবে সঙ্গতিপূর্ণ। উক্ত স্মারকলিপি অনুসারে, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের গ্রুপ ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ এবং ‘ডি’-তে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে, যা বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। গ্রুপ ‘বি’ কর্মচারীদের তালিকা প্রস্তুত এবং জমা দেওয়া এই বিজ্ঞাপিত নিয়মগুলি কোনও বিচ্যুতি ছাড়াই অনুসরণ করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, সম্প্রতি কিছু অংশের দ্বারা অনিয়ম বা হেরফের অভিযোগে সংবাদমাধ্যমে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ অসত্য এবং ভিত্তিহীন।’