Advertisement
E-Paper

যা হওয়ার তাই হল! ভারত ৯৩ রানে হারাল নামিবিয়াকে, কিন্তু পাক ম্যাচে রিঙ্কু-অর্শদীপদের নিয়ে চিন্তায় থাকবেন সূর্য-গম্ভীর

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় পেল ভারত। তবু পাকিস্তান-ম্যাচের আগে সূর্যকুমার যাদবদের উদ্বেগে রাখবে ব্যাটিং। নামিবিয়ার বিরুদ্ধেও ভারতের ব্যাটিং প্রত্যাশাপূরণে ব্যর্থ।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:৩০
picture of cricket

সূর্যকুমার যাদব। ছবি: পিটিআই।

প্রত্যাশা মতোই নামিবিয়ার বিরুদ্ধে জয় পেল ভারত। তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার আগে ব্যাটিং নিয়ে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটল না। দিল্লির ২২ গজে প্রথমে ব্যাট করে সূর্যকুমার যাদবেরা করেন ৯ উইকেটে ২০৯ রান। জবাবে নামিবিয়ার ইনিংস শেষ হল ১৮.২ ওভারে ১১৬ রানে। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারত জিতল ৯৩ রানে।

অসুস্থ অভিষেক শর্মার বিরুদ্ধে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন সঞ্জু স্যামসন। বিশ্বকাপে অভিষেক ম্যাচে সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেন না ৩১ বছরের উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। ২০১৪ সাল থেকে দেশের হয়ে খেললেও এই প্রথম বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলেন সঞ্জু। নামিবিয়ার মতো দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে শুরুটা ভালই করেছিলেন। তবু ৮ বলের বেশি ২২ গজে থাকতে পারলেন না। ১টি চার এবং ৩টি ছয়ের সাহায্যে ২২ রান করে উইকেট ছুড়ে দিলেন সঞ্জু।

নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ়ের প্রতিটি ম্যাচেই সঞ্জুকে সুযোগ দিয়েছিলেন গৌতম গম্ভীর। রান পাননি সঞ্জু। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আমেরিকার বিরুদ্ধে সুযোগ পাননি। অভিষেকের পরিবর্তে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে সুযোগও কাজে লাগাতে পারলেন না। আগামী রবিবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিষেক খেলতে না পারলে সঞ্জুর উপর ভারতীয় শিবির কতটা ভরসা করতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকল।

সঞ্জুর ব্যর্থতাতেও ৬.৫ ওভারে ১০০ রান তুলল ভারতীয় দল। এর আগে এত কম বলে কোনও দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১০০ রান করতে পারেনি। নজির তৈরি হল মূলত ঈশান কিশনের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের সুবাদে। অনুশীলনে জসপ্রীত বুমরাহের ইয়র্কারের চোট পাওয়া ঈশান করলেন ২৪ বলে ৬১। তাঁর ব্যাট থেকে এল ৬টি চার এবং ৫টি ছয়। ভাল শুরু করেও বড় রান করতে পারলেন না তিলক বর্মাও। ২১ বলে ২৫ রান করলেন। আবার ব্যর্থ সূর্য। নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফর্মে ফেরা অধিনায়ক নামিবিয়ার সঙ্গে করলেন ১৩ বলে ১২।

ভারতকে ভাল জায়গায় পৌঁছে দিলেন হার্দিক পাণ্ড্য। ২৮ বলে ৫২ রান করলেন হার্দিক। তাঁর ব্যাট থেকে এল ৪টি চার, ৪টি ছয়। ভাল ব্যাট করছিলেন শিবম দুবেও। তাঁকে রান আউট করে দিলেন রিঙ্কু সিংহ। খুচরো রান নেওয়ার জন্য ডেকেও ফিরিয়ে দিলেন! রিঙ্কুর ভুলে শেষ হয় শিবমের ১৬ বলে ২৩ রানের ইনিংস। রিঙ্কু নিজেও রান পেলেন না। ৬ বল খেলে ১ রান করলেন ফিনিশার! সঞ্জুর মতো তিনিও ফর্ম খুজছেন। অক্ষর পটেল (০) প্রথম বলেই ক্রশ ব্যাটে খেলতে গিয়ে বোল্ড! বরুণ চক্রবর্তী (অপরাজিত ১), অর্শদীপ সিংহেরা (২) ব্যাট হাতে এখনও দলকে সাহায্য করতে শিখলেন না। ভারতীয় দল শেষ ১১ বলে ৫ উইকেট হারাল। শেষ দু’ওভারে ১০ রান করল। অর্থাৎ শেষ ২ ওভারে ভারত ১০/৫! নামিবিয়ার বিরুদ্ধে যা একদমই বিশ্বচ্যাম্পিয়নসুলভ নয়।

ভারতীয় দলের ব্যাটিংকে আরও বেশি উদ্বেগজনক করে তুললেন নামিবিয়ার অধিনায়ক জেরহার্ড ইরাসমাস। ৩০ বছরের অফ স্পিনার ২০ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিলেন। তাঁর শিকার তালিকায় রয়েছেন ঈশান, তিলক, হার্দিক এবং অক্ষর। নামিবিয়ার বাঁহাতি স্পিনার বার্নার্ড স্কোল্টজ় আউট করলেন সূর্যকে। ৪১ রানে ১ উইকেট তাঁর। ভারতের ৯ উইকেটের মধ্যে ২টি রান আউট। বাকি ৭ উইকেটের ৫টি নিলেন নামিবিয়ার স্পিনারেরা! কলম্বোর ২২ গজে পাকিস্তানের স্পিনারদের সামলাতে পারবে ভারতীয় দল। ইনিংসের শেষ দিকে একের পর এক উইকেট পড়ায় উদ্বিগ্ন দেখাল গম্ভীর, সীতাংশু কোটাকদের। আমেরিকার বিরুদ্ধেও বেশ সমস্যায় পড়েছিল ভারতীয় ব্যাটিং। সে দিন উতরে দিয়েছিলেন সূর্য। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিশ্বজয়ীদের না আরও করুণ দশা হয়।

আমেরিকার পর নামিবিয়ার বিরুদ্ধেও ভারতকে জিতিয়ে দিল বোলারদের পারফরম্যান্স। বলা ভাল প্রতিপক্ষের ব্যাটিং দুর্বলতা। সাহিবজ়াদা ফারহান, বাবর আজ়ম, সাইম আয়ুব, শাদাব খানদের বিরুদ্ধে লড়াই নিশ্চিত ভাবে এত সহজ হবে না। পাকিস্তান-ম্যাচের আগের দু’দিন গম্ভীরকে উদ্বেগে রাখতে পারে দলের পারফরম্যান্স।

২১০ রান তাড়া করতে নেমে বোলিং বা ফিল্ডিংয়ের মতো পারফর্ম করতে পারলেন না নামিবিয়ার ক্রিকেটারেরা। আগ্রাসী মেজাজে শুরু করা জান ফ্রাইলিঙ্ককে (১৫ বলে ২২) ফিরিয়ে দেন অর্শদীপ। অন্য ওপেনার লরেন স্টিনক্যাম্পও মেরে খেলার চেষ্টা করেন। শুরুতে উইকেট নিলেও এই ম্যাচেও বেশ রান দিলেন বাঁহাতি জোরে বোলার। অথচ প্রথম ম্যাচে ৩ উইকেট নেওয়া মহম্মদ সিরাজকে এ দিন প্রথম একাদশে রাখেননি গম্ভীর-সূর্যেরা! নতুন বল হাতে হার্দিকও যথেষ্ট ভরসা দিতে পারছেন না। সেই সুযোগে ৫.৪ ওভারে ৫০ রান করে নামিবিয়া। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটাই তাদের দ্রুততম ৫০।

নামিবিয়ার বিরুদ্ধেও বুমরাহকে সপ্তম ওভারে আক্রমণে আনেন সূর্য। দলের সেরা জোরে বোলারকে নতুন বল না দেওয়াও এক রহস্য। ২০ বলে ২৯ রান করে স্টিনক্যাম্পকে বোল্ড হন বরুণের বলে। কেকেআর স্পিনার আউট করেন তিন নম্বরে নামা জান নিকোল লফটি-এটনকে (১৩)। দু’বল পরেই বরুণ আউট করেন পাঁচ নম্বরে নামা স্মিটকে (০)। দশম ওভারে ২ উইকেটে ৮৬ থেকে ৪ উইকেটে ৮৬ হয়ে যাওয়ার পর রক্ষণাত্মক হয়ে যায় আফ্রিকার দেশটি। তার আগে পর্যন্ত ওভার প্রতি ১০ রানের কাছাকাছি তুলেছে তারা। ১১তম ওভারে অক্ষর ফিরিয়ে দেন ইরাসমাসকে (১১ বলে ১৮)। তার আগের ওভারেই অক্ষরকে এক জোড়া ছক্কা মারেন নামিবিয়ার অধিনায়ক।

নামিবিয়া ৮৮ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর ভারতের জয় ছিল সময়ের অপেক্ষা। নামিবিয়ার বাকি ব্যাটারেরা ভারতীয় বোলিং আক্রমণের সামনে আশাব্যঞ্জক কিছু করতে পারেননি। মালান ক্রুগার (১০ বলে ৫), জ়ান গ্রিন, রুবেন ট্রামপেলম্যানেরা (১৬ বলে ৬), স্কোল্টজ় (৪ বলে ৪) পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাট করতে পারেননি।

ভারতের সফলতম বোলার বরুণ ৭ রানে ৩ উইকেট নিলেন। হার্দিকের ২ উইকেট ২১ রানে। অক্ষর ২ উইকেট নিলেন ২০ রানে। ২০ রানে ১ উইকেট নিলেন বুমরাহ। ৩৬ রানে ১ উইকেট অর্শদীপের। ১১ রানে ১ উইকেট শিবমের।

ICC T20 World Cup 2026 India Namibia Suryakumar Yadav
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy