ইনিংসের শুরুতে দেখে মনে হচ্ছিল, প্রথম ইনিংসেই খেলার ফয়সালা করে দেবে ভারত। শুরুতে ঈশান কিশন যা খেলছিলেন, তাতে মনে হচ্ছিল ২৫০ রানের বেশি হবে। কিন্তু খেলায় ফিরল নামিবিয়া। লড়াই ছাড়েনি তারা। ভারতের বিরুদ্ধে নজর কাড়ল নামিবিয়ার ফিল্ডিং। বেশ কয়েকটি ভাল ক্যাচ ধরলেন তাঁরা। রান আউটও করলেন। ফলে ভাল শুরু করেও ২০৯ রানে শেষ হল ভারতের ইনিংস। নামিবিয়ার অধিনায়ক জেরার্ড এরাসমাস বল হাতে নজর কাড়লেন। পাশাপাশি ভাল অধিনায়কত্বও করলেন তিনি।
সাত ওভারের মধ্যে ১০০ পার হয়ে গিয়েছিল ভারতের। মাত্র ১ উইকেটে। ঈশানের ঝড়ের সামনে কী করবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না নামিবিয়ার ক্রিকেটারেরা। ঠিক সেই সময়েই নিজের কাঁধে দায়িত্ব নিলেন এরাসমাস। বল করতে এসে প্রথম ওভারেই ফেরালেন ঈশানকে। সেই শুরু। পরের তিন ওভারে আরও তিন উইকেট নিলেন। চার ওভারে ২০ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিলেন তিনি।
এরাসমাসের বোলিং অ্যাকশন অদ্ভুত। বিভিন্ন ভাবে বল করেন তিনি। কখনও রাউন্ড আর্ম, কখনও সাইড আর্ম বল করেন। আবার কখনও উইকেটের পিছন থেকে বল করছিলেন। ব্যাটারদের থিতু হতে দিচ্ছিলেন না। বিভিন্ন দূরত্ব ও কোণ থেকে বল হওয়ায় বলের ফ্লাইট বুঝতে সমস্যা হচ্ছিল। সেই কারণে ঈশান, তিলকেরা আউট হলেন।
উইকেটের পিছনে ধোনিকে মনে করালেন জ়ান গ্রিন। বার্নার্ড শল্টজ়ের বল ক্রিজ় ছেড়ে বেরিয়ে মারার চেষ্টা করেন সূর্য। পিচে পড়ে প্রায় ৪ ডিগ্রি ঘোরে বল। সূর্য বল ব্যাটে লাগাতে পারেননি। কিন্তু উইকেটের পিছনে ভুল করেননি গ্রিন। মাত্র ১ সেকেন্ড সময় পেয়েছিলেন তিনি। তার মধ্যেই বল ধরে স্টাম্প ভেঙে দেন। সূর্যের ফেরার কোনও সুযোগ ছিল না। এই রকম স্টাম্পিং করতে অভ্যস্ত মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। এ দিন দিল্লির মাঠে ধোনিকে মনে করালেন গ্রিন।
আরও পড়ুন:
ফিল্ডিং ভাল করল নামিবিয়া। ৩০ গজ বৃত্তের মধ্যেই হোক, বা বাউন্ডারিতে, শরীর ছুড়ে বল ধরতে ভয় পাচ্ছিলেন না ফিল্ডারেরা। বেশ কয়েকটি নিশ্চিত চার বাঁচান তাঁরা। বাউন্ডারিতে ক্যাচও ভাল ধরেন ডিলান লেইশার, জেজে স্মিটেরা। বিশেষ করে হার্দিক ও শিবমের ক্যাচ খুব সহজ ছিল না। সেই ক্যাচকে সহজ করে দেখালেন লেইশার ও স্মিট। পাশাপাশি দু’টি ভাল রান আউটও করল নামিবিয়া। দু’টি ক্যাচ ছাড়লেও সব মিলিয়ে ফিল্ডিং ও ক্যাচিংয়ে নজর কাড়ল তারা।
বলের পাশাপাশি নেতৃত্বেও নজর কাড়লেন এরাসমাস। যখন তিনি দেখলেন পেসারেরা রান দিচ্ছেন, তখন স্পিনারদের কাজে লাগালেন। আবার ভারতের রান তোলার গতি কমতেই ফাঁকে ফাঁকে পেসারদের দিয়ে ওভার করিয়ে নিলেন। তাঁর ফিল্ডিং সাজানোতেও বুদ্ধিমত্তার ছাপ ছিল। ঠিক জায়গায় ফিল্ডার ছিল বলেই হার্দিক, তিলকদের শট বাউন্ডারিতে গেল না। ফলে ২৫০ রানের বদলে ২০৯ রানে শেষ হল ভারতের ইনিংস। নামিবিয়া বুঝিয়ে দিল, লড়াই করলে যে কোনও পরিস্থিতি থেকে ফেরা সম্ভব।