আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণ কী হতে চলেছে? কোন রণনীতিতে ভোটের লড়াইয়ে নামবে বিজেপি? স্থির করতে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক সেরে ফেললেন দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে আলোচনায় ছিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রধান বিমল গুরুং এবং ওই দলের সম্পাদক রোশন গিরিও। পাহাড়ে তাদের সঙ্গে বিজেপি সমঝোতায় যেতে পারে। সূত্রের খবর, তা নিয়েই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
বিজেপি সূত্রে খবর, পাহাড়ের সমস্যাগুলির স্থায়ী সমাধান নিয়েও বৈঠকে শাহের সঙ্গে আলোচনা করেছেন রাজু, বিমলেরা। দীর্ঘ সময় ধরে বৈঠক চলেছে। তবে রাজু প্রকাশ্যে তা মানতে চাননি। তিনি বলেছেন, ‘‘পাহাড়ের রাজনৈতিক সমাধান নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। তার জন্য মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করা রয়েছে। তবে বিধানসভা ভোটের রণনীতি নিয়ে অবশ্যই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।’’ বিমলের দল এই বৈঠক নিয়ে এখনও মুখ খোলেনি।
আরও পড়ুন:
শাহের সঙ্গে বিমলের বৈঠককে কটাক্ষ করেছেন পাহাড়ের শাসকদল ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার মুখপাত্র শক্তি প্রসাদ শর্মা। তাঁর দাবি, পুরসভা এবং পঞ্চায়েত নির্বাচনে ধাক্কা খাওয়ার পর পাহাড়ে দলীয় অবস্থান টলমল বুঝে বিধানসভা নির্বাচনে ফায়দা তোলার চেষ্টা করছেন বিমলেরা। বলেছেন, ‘‘পাহাড়ে রাজনৈতিক সমাধানের জন্য মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করা হয়েছে। তা হলে কেন আলাদা করে বৈঠক করা হচ্ছে? তা হলে আর মধ্যস্থতাকারীর কী মূল্য থাকল? আসলে বিমল গুরুংকে কেউ পাত্তা দিচ্ছে না। একসময় ও পাহাড়ের রাজা ছিল। এখন এমন অবস্থা হয়েছে যে, বিজেপির হাত না-ধরলে ভোটেও ল়ড়তে পারবে না।’’
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র বলছে, কালিম্পঙের আসনে লড়তে চায় বিমলের দল। দার্জিলিঙে অজয় এডওয়ার্ডের ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্ট এবং কার্শিয়াঙে মন ঘসিংয়ের গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট লড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। অজয়, নীরজের সমঝোতার চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়।